স্বপ্ন কি সত্যিই আপনাকে ক্লান্ত করে তোলে? জেনে নিন বিজ্ঞান কী বলে
মাঝে মাঝে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মাথা ঝিমঝিম করে, শরীর ভারী লাগে এবং মনে হয় যেন মোটেও বিশ্রাম হয়নি। সারারাত ধরে প্রচুর স্বপ্ন দেখার কারণে এমনটা হয়েছে বলে আমাদের মনে হতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞান কী বলে? স্বপ্ন দেখা কি সত্যিই আমাদের ক্লান্ত করে দেয়? স্বপ্নের বিজ্ঞান ও রেম স্লিপ আমাদের ঘুমের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে স্বপ্ন, যা মূলত র্যাপিড আই মুভমেন্ট (REM) বা রেম স্লিপ পর্যায়ে ঘটে। আমাদের মোট ঘুমের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সময় এই রেম স্লিপ স্থায়ী হয়। এই সময়ে আমাদের মস্তিষ্ক জাগ্রত অবস্থার মতোই সক্রিয় থাকে, যদিও শরীর সম্পূর্ণ স্থির বা এক প্রকার অবশ থাকে যাতে আমরা স্বপ্নের বিষয়বস্তু অনুযায়ী বাস্তবে হাত-পা না নাড়ি । মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো (যেমন- অ্যামিগডালা, হিপোক্যাম্পাস) এই সময়ে অত্যন্ত সক্রিয় থাকে, কিন্তু যৌক্তিক অংশ (প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স) কম সক্রিয় থাকে। ফলে স্বপ্নে আমরা খুব তীব্র আবেগ এবং বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও তাতে কোনো লজিক বা যুক্তি থাকে না। স্বপ্ন কি খুব অল্প সময়ের জন্য হয়? অনেকের ধারণা স্বপ্ন হয়তো কয়েক সেকেন্ডের ঝিলিক মাত্র। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে,
মাঝে মাঝে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমাদের মাথা ঝিমঝিম করে, শরীর ভারী লাগে এবং মনে হয় যেন মোটেও বিশ্রাম হয়নি। সারারাত ধরে প্রচুর স্বপ্ন দেখার কারণে এমনটা হয়েছে বলে আমাদের মনে হতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞান কী বলে? স্বপ্ন দেখা কি সত্যিই আমাদের ক্লান্ত করে দেয়?
স্বপ্নের বিজ্ঞান ও রেম স্লিপ
আমাদের ঘুমের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে স্বপ্ন, যা মূলত র্যাপিড আই মুভমেন্ট (REM) বা রেম স্লিপ পর্যায়ে ঘটে। আমাদের মোট ঘুমের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সময় এই রেম স্লিপ স্থায়ী হয়। এই সময়ে আমাদের মস্তিষ্ক জাগ্রত অবস্থার মতোই সক্রিয় থাকে, যদিও শরীর সম্পূর্ণ স্থির বা এক প্রকার অবশ থাকে যাতে আমরা স্বপ্নের বিষয়বস্তু অনুযায়ী বাস্তবে হাত-পা না নাড়ি ।
মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশগুলো (যেমন- অ্যামিগডালা, হিপোক্যাম্পাস) এই সময়ে অত্যন্ত সক্রিয় থাকে, কিন্তু যৌক্তিক অংশ (প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স) কম সক্রিয় থাকে। ফলে স্বপ্নে আমরা খুব তীব্র আবেগ এবং বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা অর্জন করলেও তাতে কোনো লজিক বা যুক্তি থাকে না।
স্বপ্ন কি খুব অল্প সময়ের জন্য হয়?
অনেকের ধারণা স্বপ্ন হয়তো কয়েক সেকেন্ডের ঝিলিক মাত্র। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, রেম স্লিপের সময় স্বপ্নগুলো মূলত বাস্তব সময়ের মতোই দীর্ঘ হয়। অর্থাৎ আপনার যদি মনে হয় আপনি ২০ মিনিট ধরে স্বপ্ন দেখছেন, তবে সম্ভবত সেই স্বপ্নের স্থায়িত্ব বাস্তবেই ২০ মিনিটের মতো ছিল।
ক্লান্তির আসল কারণ কী?
মস্তিষ্কের ইমেজিং গবেষণায় দেখা গেছে, স্বপ্ন দেখার সময় মস্তিষ্ক যে শক্তি ব্যয় করে, তা সকালে ক্লান্ত বোধ করার জন্য যথেষ্ট নয়। স্বপ্ন নিজে আপনার ঘুমের মান খারাপ করে না, যদি না তা দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়। ক্লান্তির আসল কারণগুলো হলো:
- ঘুমের মাঝপথে জেগে ওঠা: আপনি যদি কোনো স্বপ্ন মনে রাখতে পারেন, তার অর্থ হলো আপনি ওই স্বপ্নের সময় বা ঠিক পরেই জেগে উঠেছিলেন। এই বারবার জেগে ওঠা আপনার গভীর ঘুম বা 'ডিপ স্লিপ' কমিয়ে দেয়।
- অ্যাডেনোসিন পরিষ্কার না হওয়া: সারাদিন আমাদের মস্তিষ্কে ‘অ্যাডেনোসিন’ নামক একটি বর্জ্য পদার্থ জমা হয় যা ঘুমের চাপ তৈরি করে। গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্ক এটি পরিষ্কার করে। বারবার ঘুম ভেঙে গেলে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, ফলে পরের দিন ক্লান্তি লাগে।
- স্লিপ ইনার্শিয়া : রেম স্লিপ বা স্বপ্নের পর্যায় থেকে হঠাৎ জেগে ওঠা শরীরের জন্য বেশ কষ্টকর। এর ফলে ‘স্লিপ ইনার্শিয়া’ বা মস্তিষ্কের এক প্রকার কুয়াশাচ্ছন্ন ভাব তৈরি হয়, যেখানে মস্তিষ্ক পুরোপুরি সচল হতে চায় না।
কখন সচেতন হতে হবে?
যদি আপনি নিয়মিত প্রায় সব স্বপ্ন মনে রাখেন এবং প্রতিদিন সকালে ক্লান্ত বোধ করেন, তবে বুঝতে হবে আপনার ঘুম পর্যাপ্ত গভীর হচ্ছে না বা বারবার ভেঙে যাচ্ছে। যদি এই ক্লান্তি আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলে, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, ক্লান্তি স্বপ্নের কোনো সরাসরি ফলাফল নয়; বরং আপনি ঘুমের কোন পর্যায়ে জেগে উঠছেন এবং আপনার ঘুমের মান কেমন, তার ওপরেই নির্ভর করে আপনার সকালের সতেজতা।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
What's Your Reaction?