স্বপ্ন গড়ার ঠিকানা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ
বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রভাবও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন মিডিয়া থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র সব মিলিয়ে আজকের পৃথিবী যেন এক বিশাল যোগাযোগের পরিসর। বাংলাদেশেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে নতুন নতুন টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ফলে তৈরি হচ্ছে দক্ষ সাংবাদিক, গণযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মিডিয়া পেশাজীবীদের নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র। এই বিস্তৃত মিডিয়া জগতে কাজ করতে হলে প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা, তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং ব্যবহারিক দক্ষতার সমন্বয়। চিত্রনাট্য লেখা, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা, অনুষ্ঠান নির্মাণ কিংবা সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে একটি সুসংগঠিত অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতির প্রয়োজন। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি-বিজড়িত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ। যারা চলচ্চিত্র নির্মাণের সৃজনশীল জগতে প্রবেশ করতে চায়, আবার যারা সংবাদমাধ্যম বা গণযোগাযোগের পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাদের জন্য এই বিভাগ হয়ে উঠেছে
বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রভাবও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন মিডিয়া থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র সব মিলিয়ে আজকের পৃথিবী যেন এক বিশাল যোগাযোগের পরিসর। বাংলাদেশেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে নতুন নতুন টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। ফলে তৈরি হচ্ছে দক্ষ সাংবাদিক, গণযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মিডিয়া পেশাজীবীদের নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র।
এই বিস্তৃত মিডিয়া জগতে কাজ করতে হলে প্রয়োজন সঠিক শিক্ষা, তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং ব্যবহারিক দক্ষতার সমন্বয়। চিত্রনাট্য লেখা, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা, অনুষ্ঠান নির্মাণ কিংবা সাংবাদিকতার বিভিন্ন দিক—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে একটি সুসংগঠিত অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতির প্রয়োজন।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি-বিজড়িত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ। যারা চলচ্চিত্র নির্মাণের সৃজনশীল জগতে প্রবেশ করতে চায়, আবার যারা সংবাদমাধ্যম বা গণযোগাযোগের পেশায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তাদের জন্য এই বিভাগ হয়ে উঠেছে একটি সম্ভাবনাময় শিক্ষাঙ্গণ।
কেউ হয়তো স্বপ্ন দেখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে গল্প বলার, কেউ ক্যামেরার পেছনে থেকে নতুন দৃশ্য নির্মাণের। আবার কেউ স্বপ্ন দেখে নিউজরুমে বসে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোকে মানুষের সামনে তুলে ধরার। চলচ্চিত্রের সৃজনশীলতা ও সাংবাদিকতার বাস্তবধর্মী দায়বদ্ধতা এই দুই ধারার সমন্বয়েই গড়ে উঠেছে এই বিভাগের পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাব্যবস্থা।
সবুজে ঘেরা ময়মনসিংহের ত্রিশালের শান্ত পরিবেশে অবস্থিত নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। এখানে শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আবাসিক হল, ক্যাফেটেরিয়া, বৃহৎ লাইব্রেরি এবং সুবিশাল খেলার মাঠ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে চলচ্চিত্র, সাংবাদিকতা, সাহিত্য, সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর হাজার হাজার বই রয়েছে, যেগুলো দেশ-বিদেশের বিখ্যাত লেখক, গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের লেখা।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু করে। বাংলাদেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এটি এমন একটি বিভাগ, যেখানে চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে এটি কলা অনুষদের অধীনে পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতে বিভাগের নাম পরিবর্তন করে “কমিউনিকেশন, মিডিয়া অ্যান্ড ফিল্ম” করার প্রস্তাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভাগটিকে কলা অনুষদ থেকে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধীনে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
এই বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর কিছু সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নিজেদের আগ্রহ অনুযায়ী স্ট্রিম নির্বাচন করতে পারে। কেউ চাইলে চলচ্চিত্র বিষয়ে বিশেষায়িত হয়ে পড়াশোনা করতে পারে, আবার কেউ বেছে নিতে পারে সাংবাদিকতা বা মিডিয়া স্টাডিজ। স্নাতক শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের সনদে বি.এ ইন ফিল্ম স্টাডিজ অথবা বি.এ ইন মিডিয়া স্টাডিজ উল্লেখ থাকে। ফলে একজন শিক্ষার্থী তার পছন্দের ক্ষেত্রেই দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়।
তবে এই বিভাগের পাঠ্যক্রম কেবল চলচ্চিত্র নির্মাণ বা সাংবাদিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গণযোগাযোগ এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যয়ন ক্ষেত্র। যোগাযোগের মৌলিক তত্ত্ব, যোগাযোগ কৌশল এবং যোগাযোগ পরিকল্পনা এসব বিষয়ও পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। ফলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা কমিউনিকেশন অফিসার, পাবলিক রিলেশন অফিসার কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মিডিয়া ব্যবস্থাপনার মতো পেশায় কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করতে পারে।
একজন সাংবাদিকের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান থাকা জরুরি। তাই এই বিভাগের পাঠ্যক্রমেও রয়েছে বৈচিত্র্য। এখানে ফটো এডিটিং, ভিডিও এডিটিং, ইনফরমেশন টেকনোলজি, বেসিক কম্পিউটার, মিডিয়া রিসার্চ, পাবলিক রিলেশন, মিডিয়া অ্যাডভোকেসি এবং এডিটিংসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখানো হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, অর্থনীতি ও পরিসংখ্যানের মতো বিষয়েও শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়, যা গণমাধ্যমে কাজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে গণমাধ্যমের বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ জনবলের চাহিদাও বাড়ছে। দেশে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন মিডিয়া এবং পত্রিকার সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে রিপোর্টার, নিউজ প্রেজেন্টার, সাব-এডিটর, ওয়েব ডিজাইনার, সম্পাদকীয় সহকারী, কার্টুনিস্টসহ বিভিন্ন পেশায় কাজ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়ে থাকে।
সংবাদপত্র বা ম্যাগাজিনে সাধারণত একজন শিক্ষার্থী সংবাদদাতা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারে। টেলিভিশন বা রেডিওতে প্রতিবেদক, সংবাদপাঠক কিংবা উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মাধ্যমে পরবর্তীতে সম্পাদক, প্রযোজক কিংবা বার্তাকক্ষ নিয়ন্ত্রকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়।
পড়াশোনার সময় থেকেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ফিচার, প্রবন্ধ বা সম্পাদকীয় লিখে আয়ের সুযোগ পায়। অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি কিংবা সাব-এডিটর হিসেবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকে। শেষ বর্ষে বিভিন্ন মিডিয়া হাউসে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগও রয়েছে, যা ভবিষ্যতের পেশাগত জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে আন্তর্জাতিক মান অর্জন করলে বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়। ডয়েচ ভেলে বাংলা, বিবিসি বাংলা, চায়না রেডিও, এএফপি, এপি কিংবা আল জাজিরার মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করা সম্ভব।
এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার শুধু সাংবাদিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গণসংযোগ, বিজ্ঞাপন সংস্থা, চলচ্চিত্র নির্মাণ, ব্যাংকিং কিংবা শিক্ষকতার মতো বিভিন্ন পেশাতেও তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও গণযোগাযোগ বিষয়ে দক্ষ পেশাজীবীদের চাহিদা বাড়ছে। ফলে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তৃত সম্ভাবনা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা কিংবা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলচ্চিত্র নির্মাণ, সাংবাদিকতা, মিডিয়া স্টাডিজ বা কমিউনিকেশন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ফুল ফান্ড স্কলারশিপ অর্জনের সুযোগ রয়েছে। সুইডেন, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড কিংবা ফিনল্যান্ডের মতো দেশেও অনেক শিক্ষার্থী এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর মধ্যে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে রয়েছে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ল্যাব। ডিজিটাল ফরম্যাটে চলচ্চিত্র নির্মাণ শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি কোর্স আধুনিক চলচ্চিত্র নির্মাণ ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হয়। হাতে-কলমে শিক্ষার্থীরা চিত্রনাট্য লেখা, অভিনয়, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা এবং পরিচালনার মতো বিষয়গুলো শিখতে পারে।
বিভাগটিতে রয়েছে ডিজিটাল ক্যামেরা, প্রফেশনাল লাইট, বুম, স্পিকার, এডিটিং প্যানেল, মিডিয়া ল্যাব, নিজস্ব লাইব্রেরি এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য বিশেষ ল্যাব সুবিধা। ফলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারে।
অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভাগটি নিয়মিত সেমিনার আয়োজন করে, যেখানে দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের জীবন ও কাজ নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাসফর, ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্ট, বাংলা নববর্ষ ও বসন্ত উৎসবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে।
ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে চার বছর মেয়াদি স্নাতক এবং এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর কোর্স পরিচালিত হয়। পাশাপাশি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বরা অতিথি শিক্ষক হিসেবে ক্লাস নেন, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে।
চলচ্চিত্রের সৃজনশীলতা আর গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা—এই দুই ধারার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই বিভাগটি আজ অনেক তরুণের স্বপ্নের ঠিকানা। যারা ক্যামেরার সামনে কিংবা নিউজরুমের ডেস্কে বসে সমাজের গল্প বলতে চায়, তাদের জন্য নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ হয়ে উঠেছে সম্ভাবনার এক উন্মুক্ত দরজা।
শিক্ষার্থী, ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ,
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।
What's Your Reaction?