স্বপ্ন, সংগ্রাম আর ঐক্যের গল্পে টিএসসিতে চুয়াডাঙ্গার মিলনমেলা

ব্যস্ততার ভেতর যেন হঠাৎই জেগে উঠেছিল এক টুকরো চুয়াডাঙ্গা। শিকড়ের টান, হৃদয়ের গভীর স্পন্দন আর আপনজনদের সান্নিধ্য পাওয়ার আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত চুয়াডাঙ্গার কৃতি শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক উষ্ণ মিলনমেলা। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে টিএসসির প্রাঙ্গণজুড়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির আয়োজনে বসেছিল এই বর্ণিল মিলনমেলা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে নিরলসভাবে কাজ করছি। বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই আমরা কর্মতৎপরতা শুরু করেছি এবং আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী দিনগুলোতেও আমরা এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের পরিবেশের মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবো। নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতি রোমন্থন করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই টিএসসি আমার কাছে অত্যন্ত আবেগের জায়গা। আমি নিজেও যেহেতু এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি, তাই এটি ছিল আমাদের সব সময়ের কেন্দ্রবিন্দু, একটি চি

স্বপ্ন, সংগ্রাম আর ঐক্যের গল্পে টিএসসিতে চুয়াডাঙ্গার মিলনমেলা

ব্যস্ততার ভেতর যেন হঠাৎই জেগে উঠেছিল এক টুকরো চুয়াডাঙ্গা। শিকড়ের টান, হৃদয়ের গভীর স্পন্দন আর আপনজনদের সান্নিধ্য পাওয়ার আনন্দে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত চুয়াডাঙ্গার কৃতি শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় এক উষ্ণ মিলনমেলা।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে টিএসসির প্রাঙ্গণজুড়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির আয়োজনে বসেছিল এই বর্ণিল মিলনমেলা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে নিরলসভাবে কাজ করছি। বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই আমরা কর্মতৎপরতা শুরু করেছি এবং আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী দিনগুলোতেও আমরা এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের পরিবেশের মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবো।

নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতি রোমন্থন করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এই টিএসসি আমার কাছে অত্যন্ত আবেগের জায়গা। আমি নিজেও যেহেতু এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি, তাই এটি ছিল আমাদের সব সময়ের কেন্দ্রবিন্দু, একটি চিরচেনা মিলনমেলা। এখানে পা রাখলেই পুরোনো দিনের অনেক স্মৃতি আর না বলা কথা মনে পড়ে যায়।

নেতৃত্বের গুণাবলি ও কঠোর পরিশ্রমের গুরুত্ব

তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, আপনারা সাহিদুজ্জামান টরিকের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক পেয়েছেন। তিনি বলেন, জীবনের সফলতার মূলমন্ত্র হিসেবে দুটি বিষয়কে প্রধান্য দিতে হবে। একটি পজিটিভ মানসিকতা এবং দ্বিতীয়টি কঠোর পরিশ্রম।

তিনি আরও বলেন, একটি জেলার এত ছাত্র-ছাত্রী যখন একসঙ্গে মিলিত হয়, তখন মনে হয় এটি যেন এক ঐক্যবদ্ধ চুয়াডাঙ্গা। যারা চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় নতুন আসছে, তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, থাকা-খাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে পার্ট-টাইম জব সবকিছুতেই এই সংগঠন ছায়া হয়ে দাঁড়াবে। এমনকি চুয়াডাঙ্গার কোনো রোগীর রক্তের প্রয়োজন হলে তারও অভাব হবে না, কারণ আমাদের কৃতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেই অভূতপূর্ব একতা বিদ্যমান।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক, সাহিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এনআরবি ওয়ার্ল্ড ও বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের (বিডিচ্যাম) প্রেসিডেন্ট আলহাজ সাহিদুজ্জামান টরিক।

তিনি বলেন, আমি চাই আজ এই চুয়াডাঙ্গার যে ছেলে-মেয়েরা নিচে বসে আছো, তারা একদিন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী আসনে বা বড় বড় চেয়ারে বসবে। তোমাদের মনে হতে পারে আমরা নিম্ন-মধ্যবিত্ত বা সাধারণ পরিবার থেকে এসেছি। কিন্তু মনে রেখো, আমাদের সবার অতীত একই। আমরাও একদম মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেই কঠোর পরিশ্রম করে আজ এখানে এসেছি। তাই নিজেকে কখনোই ছোট ভাবার প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, সবার মাঝেই ঈশ্বর প্রদত্ত কোনো না কোনো বিশেষ গুণ থাকে। আমাদের কাজ হলো সেই গুণটিকে চিনে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, দেশের যেখানেই আমাদের শিক্ষার্থীরা আছে, তাদের জন্য প্রতি বছর ৫০টি স্কলারশিপের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি স্কলারশিপ হবে ৫০০০ টাকার। যদিও আমরা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি ৫০ জন, তবে আমরা চেষ্টা করবো একে ১০০ বা তার উপরে নিয়ে যেতে। কিন্তু আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এসময় চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে নোবেল ইসলাম সূর্যকে সভাপতি এবং মাহফুজ আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, ন্যাচারাল গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নূর ই শাহিদ রানা, মাইক্রোম্যাক্স টেকনোলজিস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলম, আর্থমুভিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুল হক, রয়েল এক্সপ্রেস প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর সামসুর রশিদ দীপু, গ্রান্ড সৈয়দ গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সৈয়দ আসিফুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আহসান হাবিবসহ আরও অনেকে৷

এনএস/এসএনআর

 

 

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow