ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার-সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কিছু চিকিৎসক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দিতে অতি উৎসাহী হতে চিকিৎসকদের বারণ করেছিলেন। তাই গুলিবিদ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় বাধা দিতে হাসপাতালের পাঁচ চিকিৎসককে ২৫ জুলাই বদলি করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের আবাসিক সার্জন মোস্তাক আহমেদ। তিনি বলেন, স্বাচিপের চিকিৎসকরা বলেছিলেন, ‘এরা (আন্দোলনকারী) সন্ত্রাসী, এদের চিকিৎসা দেওয়া যাবে না।’
গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় ২৭তম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনাল-১-এ মোস্তাক আহমেদ এই জবানবন্দি দেন।
ডা. মোস্তাক আহমেদ জবানবন্দিতে বলেন, গত বছর ১৯, ২০, ২১ জুলাই এবং ৪ ও ৫ আগস্ট বেশি সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করি। বেশির ভাগ আগত গুলিবিদ্ধ রোগীর গুলির ডিরেকশন ছিল ওপর থেকে নিচের দিকে। ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চাকরি করার সুবাদে আমি আগেও গুলিবিদ্ধ রোগীদের চিকিৎসা করেছি। সাধারণত গুলির ডিরেকশন থাকে নিচ থেকে ওপরে দিকে বা সমান্তরালভাবে। সে সময় রোগীরা জানায়, তাদের উঁচু জায়গা থেকে বা হেলিকপ্টার থেকে গুলি করা হয়েছে। কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে মাথায় গুলি লেগে তা পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়।’
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এমন একটি ঘটনার সাক্ষী যেখানে বাবা-ছেলে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আসেন। বাবা হাসপাতালে মারা যান। ছেলে আক্ষেপ করে বলেন, বাবাকে আমি বাঁচাতে পারলাম না। গুলিতে আহত বেশির ভাগ রোগীর বয়স ২০-৩০ ।’
ডা. মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘আন্দোলন চলাকালে শহীদুল্লাহ হল সংলগ্ন গেট দিয়ে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স এলে ছাত্রলীগের ছেলেরা অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে রোগীর পরিচয় জানতে চাইতো। ছাত্র পরিচয় পেলে তাদের হাসপাতালে প্রবেশে বাধা দিতো। আমরা চিকিৎসা প্রদানকালে ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা হাসপাতালে ঢুকে খোঁজ-খবর নিচ্ছিল আহত কারা। তখন গুলিবিদ্ধ ছাত্ররা আমাদের তাদের পরিচয় গোপন করতে অনুরোধ জানায়।’
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে সরকার সমর্থিত স্বাচিপের কতিপয় চিকিৎসক নেতা আমাদের গুলিবিদ্ধ রোগীর চিকিৎসার সময় বাধা দেয় এবং অতি উৎসাহী হতে বারণ করে বলেন ‘এরা সন্ত্রাসী (আন্দোলনকারী) এদের চিকিৎসা দেওয়া যাবে না’। গুলিবিদ্ধ আহতদের চিকিৎসায় বাধা প্রদানের উদ্দেশ্যে ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসা প্রদানরত পাঁচ চিকিৎসককে ২৫ জুলাই বদলি করা হয়।’
এফএইচ/বিএ/এমএস