স্বাস্থ্য খাতের পুরো প্রক্রিয়াকে ‘রিসেট’ করতে হবে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা ছিল। বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্য খাতে কিছু খারাপ চর্চা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পুরো প্রক্রিয়াকে ‘রিসেট’ করতে হবে। সরকার যেকোনো ভালো উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত। স্বাস্থ্য খাতে এবারের মতো এত বড় বরাদ্দ অতীতে কখনও দেওয়া হয়নি, তবে সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ডা. শাহাদাত হোসেন ও চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। এর আগে অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) ১৬ নম্বর ওয়ার্ড মেডিসিন বিভাগে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ডেঙ্গু চিকিৎসায় স্থাপিত বিশেষ জোন পরিদর্শন
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা ছিল। বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্য খাতে কিছু খারাপ চর্চা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পুরো প্রক্রিয়াকে ‘রিসেট’ করতে হবে। সরকার যেকোনো ভালো উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে প্রস্তুত। স্বাস্থ্য খাতে এবারের মতো এত বড় বরাদ্দ অতীতে কখনও দেওয়া হয়নি, তবে সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ডা. শাহাদাত হোসেন ও চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
এর আগে অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) ১৬ নম্বর ওয়ার্ড মেডিসিন বিভাগে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ডেঙ্গু চিকিৎসায় স্থাপিত বিশেষ জোন পরিদর্শন করে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবার খবরাখবর নেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত প্রভাব এবং অতীতের আর্থিক দায় বহন করেও সাহসী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করেছে। এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো এই বরাদ্দের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, যাতে দেশের মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারে।
স্বাস্থ্য খাতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এবারের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বাধিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সরকারের লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে এখন চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—বিনিয়োগের যথাযথ প্রতিফল, প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয়। অতীতের মতো দুর্নীতি ও দলীয় প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, বরং জনগণের সর্বাধিক উপকার নিশ্চিত করবে- এমন প্রকল্পেই সরকার বিনিয়োগ করছে।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সকলকেই নিতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু অর্থ বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, সেই বিনিয়োগের সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আমীর খসরু বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে আর ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচালনা করা যাবে না। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ করে হাসপাতাল পরিচালনা ও চিকিৎসাসেবায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিজস্ব পরিকল্পনা ও সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হলে মেডিকেল কলেজ ও বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এছাড়া স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নজিরবিহীন বিনিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য।
What's Your Reaction?