স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও কারা মাছ খাবেন না

বাঙালির খাদ্যতালিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভাতের সঙ্গে মাছ যেন এক স্বাভাবিক অভ্যাস। পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবেই পরিচিত। তবে সব খাবারের মতো মাছও সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। কিছু শারীরিক অবস্থায় মাছ খাওয়া উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কারা মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন, তা জানা জরুরি। ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে সতর্কতা যাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তাদের জন্য মাছ খাওয়া সীমিত রাখা উচিত। বিশেষ করে কিছু সামুদ্রিক ও তেলযুক্ত মাছ ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে পারে। এতে গেঁটে বাতের সমস্যা বেড়ে গিয়ে জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। লিভারের রোগে আক্রান্তদের জন্য সতর্কতা লিভার আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। লিভারের সমস্যা থাকলে দূষিত বা অপরিষ্কারভাবে সংরক্ষিত মাছ খেলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে নিরাপদ ও ভালোভাবে রান্না করা মাছ বেছে নেওয়া জরুরি। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য সোর্ডফিশ, কিং ম্যাকেরেল বা বড় টুনা মাছে উচ্চমাত্রার পারদ থাকে, তাই গর্ভাবস্থায় না খাওয়াই ভালো।খেলে ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব মাছ এড়িয়ে চলা

স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও কারা মাছ খাবেন না

বাঙালির খাদ্যতালিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভাতের সঙ্গে মাছ যেন এক স্বাভাবিক অভ্যাস। পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবেই পরিচিত। তবে সব খাবারের মতো মাছও সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। কিছু শারীরিক অবস্থায় মাছ খাওয়া উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই কারা মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন, তা জানা জরুরি।

ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে সতর্কতা

যাদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তাদের জন্য মাছ খাওয়া সীমিত রাখা উচিত। বিশেষ করে কিছু সামুদ্রিক ও তেলযুক্ত মাছ ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে পারে। এতে গেঁটে বাতের সমস্যা বেড়ে গিয়ে জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।

লিভারের রোগে আক্রান্তদের জন্য সতর্কতা

লিভার আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। লিভারের সমস্যা থাকলে দূষিত বা অপরিষ্কারভাবে সংরক্ষিত মাছ খেলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে নিরাপদ ও ভালোভাবে রান্না করা মাছ বেছে নেওয়া জরুরি।

jago

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য

সোর্ডফিশ, কিং ম্যাকেরেল বা বড় টুনা মাছে উচ্চমাত্রার পারদ থাকে, তাই গর্ভাবস্থায় না খাওয়াই ভালো।খেলে ভ্রূণের মস্তিষ্কের বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব মাছ এড়িয়ে চলা ভালো। কম পারদযুক্ত মাছ সীমিত পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। স্তন্যদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা রাখতে হবে।

শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মাছ নয়

১০-১১ বছরের কম বয়সী শিশুদের শরীর পারদের প্রভাবে বেশি সংবেদনশীল। অতিরিক্ত মাছ খেলে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিশুদের জন্য অল্প পরিমাণে নিরাপদ মাছই উপযুক্ত।

অ্যালার্জি থাকলে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন

যাদের সামুদ্রিক খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য মাছ খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি, ফোলাভাব কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই ক্ষেত্রে মাছ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা উচিত।

jago

দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সতর্কতা

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের কাঁচা বা আধা-সিদ্ধ মাছ খাওয়া উচিত নয়। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই মাছ সবসময় ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া নিরাপদ।

রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণকারীদের জন্য 

যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের মাছ খাওয়ার আগে সচেতন হওয়া দরকার। মাছে থাকা ওমেগা-৩ রক্ত আরও পাতলা করতে পারে, যা অতিরিক্ত রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মাছ স্বাস্থ্যকর হলেও সবার জন্য সবসময় উপযোগী নয়। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে মাছ খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। সঠিক পরিমাণে ও সঠিকভাবে মাছ খেলে তবেই এর পূর্ণ উপকারিতা পাওয়া সম্ভব।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া,মায়ো ক্লিনিক

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow