স্বেচ্ছাশ্রমে ফসল রক্ষা বাঁধ তৈরি, দেখতে গেলেন ডেপুটি স্পিকার

আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলে কৃষকদের বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের কাউয়ার বাড়ি খাল ও আশপাশের প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার কথা শোনেন। পরিদর্শন শেষে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, হাওর এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি। হঠাৎ পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। কেউ আংশিক ফসল তুলতে পারলেও অনেকে কিছুই পাবেন না— যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাওর অঞ্চলের এ পরিস্থিতির জন্য তিনি পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল ও নদী খনন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ স

স্বেচ্ছাশ্রমে ফসল রক্ষা বাঁধ তৈরি, দেখতে গেলেন ডেপুটি স্পিকার

আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলে কৃষকদের বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের কাউয়ার বাড়ি খাল ও আশপাশের প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্দশার কথা শোনেন।

পরিদর্শন শেষে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, হাওর এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষি। হঠাৎ পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। কেউ আংশিক ফসল তুলতে পারলেও অনেকে কিছুই পাবেন না— যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাওর অঞ্চলের এ পরিস্থিতির জন্য তিনি পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল ও নদী খনন না হওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কারণে নদী ও খালের স্বাভাবিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সারা দেশে খাল ও নদী খননের একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আওতায় হাওর অঞ্চলের খালগুলোও পুনঃখনন করা হবে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে পানিবদ্ধতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির ফসল বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতি ও অনিয়মের সমালোচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব ও প্রকৌশলীদের দ্রুত মাঠপর্যায়ে গিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিদ্দিক হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামসহ জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এইচ এম কামাল/আরএইচ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow