স্মার্টওয়াচের পেছনে সবুজ আলো জ্বলে কেন জানেন?
স্মার্টওয়াচ এখন শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়। হাঁটা, দৌড়, ক্যালোরি খরচ, ঘুমের ধরন থেকে শুরু করে হার্ট রেট স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের নানা তথ্য হাতের কব্জিতেই পাওয়া যায়। কিন্তু ঘড়ির পেছনে জ্বলে থাকা ছোট্ট সবুজ আলো কীভাবে এসব তথ্যের সঙ্গে যুক্ত, তা অনেকেরই অজানা। বিশেষ করে হার্ট রেট মাপার সময় এই সবুজ আলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে সব স্মার্টওয়াচ একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে না। বেশিরভাগ মডেলে পিপিজি বা ফটোপ্লেথিসমোগ্রাফি প্রযুক্তি থাকলেও কিছু উন্নত স্মার্টওয়াচে ইসিজি প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়। সবুজ আলো দিয়ে হার্টবিট বোঝে কীভাবে? স্মার্টওয়াচের পেছনে থাকা সবুজ আলো মূলত পিপিজি সেন্সরের অংশ। এই প্রযুক্তিতে ত্বকের দিকে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো পাঠানো হয় এবং সেই আলো কতটা শোষিত বা প্রতিফলিত হয়ে সেন্সরে ফিরে আসছে, তা পরিমাপ করা হয়। আমাদের হৃদ্যন্ত্র প্রতিবার স্পন্দিত হলে শরীরের বিভিন্ন অংশের রক্তনালিতে রক্তের পরিমাণ সাময়িকভাবে পরিবর্তিত হয়। কব্জির ত্বকের নিচের ক্ষুদ্র রক্তনালিতেও এর প্রভাব পড়ে। ফলে প্রতিটি হার্টবিটের সঙ্গে সেখানে রক্তের প্রবাহে সামান্য ওঠানামা তৈরি হয়। পিপিজি সেন্সর এই পরিবর্তন ধরা
স্মার্টওয়াচ এখন শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়। হাঁটা, দৌড়, ক্যালোরি খরচ, ঘুমের ধরন থেকে শুরু করে হার্ট রেট স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের নানা তথ্য হাতের কব্জিতেই পাওয়া যায়। কিন্তু ঘড়ির পেছনে জ্বলে থাকা ছোট্ট সবুজ আলো কীভাবে এসব তথ্যের সঙ্গে যুক্ত, তা অনেকেরই অজানা।
বিশেষ করে হার্ট রেট মাপার সময় এই সবুজ আলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে সব স্মার্টওয়াচ একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে না। বেশিরভাগ মডেলে পিপিজি বা ফটোপ্লেথিসমোগ্রাফি প্রযুক্তি থাকলেও কিছু উন্নত স্মার্টওয়াচে ইসিজি প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়।
সবুজ আলো দিয়ে হার্টবিট বোঝে কীভাবে?
স্মার্টওয়াচের পেছনে থাকা সবুজ আলো মূলত পিপিজি সেন্সরের অংশ। এই প্রযুক্তিতে ত্বকের দিকে নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো পাঠানো হয় এবং সেই আলো কতটা শোষিত বা প্রতিফলিত হয়ে সেন্সরে ফিরে আসছে, তা পরিমাপ করা হয়।
আমাদের হৃদ্যন্ত্র প্রতিবার স্পন্দিত হলে শরীরের বিভিন্ন অংশের রক্তনালিতে রক্তের পরিমাণ সাময়িকভাবে পরিবর্তিত হয়। কব্জির ত্বকের নিচের ক্ষুদ্র রক্তনালিতেও এর প্রভাব পড়ে। ফলে প্রতিটি হার্টবিটের সঙ্গে সেখানে রক্তের প্রবাহে সামান্য ওঠানামা তৈরি হয়।
পিপিজি সেন্সর এই পরিবর্তন ধরার চেষ্টা করে। সবুজ আলো ত্বকে ফেলার পর রক্তের পরিমাণ পরিবর্তনের কারণে আলো শোষণের ধরনও বদলায়। সেন্সর সেই ওঠানামা থেকে হৃদ্স্পন্দনের গতি হিসাব করে। সহজভাবে বললে, হার্টবিটের সঙ্গে রক্তপ্রবাহে যে ছন্দময় পরিবর্তন হয়, স্মার্টওয়াচের পিপিজি সেন্সর সেটিই আলোর সাহায্যে শনাক্ত করে।
সবুজ আলোই কেন ব্যবহার করা হয়?
প্রশ্ন উঠতে পারে, হার্ট রেট মাপার জন্য সবুজ আলো কেন বেছে নেওয়া হয়? এর অন্যতম কারণ হলো রক্তের হিমোগ্লোবিন সবুজ আলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শোষণ করে। ফলে ত্বকের নিচে রক্তের পরিমাণে সামান্য পরিবর্তন হলেও সেন্সরে ফিরে আসা আলোর মাত্রায় পার্থক্য তৈরি হয়। এই পরিবর্তন পিপিজি সেন্সরের পক্ষে শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক।
বিশেষ করে কব্জির মতো জায়গায় হার্টবিটের সঙ্গে রক্তের প্রবাহে যে দ্রুত পরিবর্তন ঘটে, সবুজ আলোর মাধ্যমে সেটি শনাক্ত করা যায়। পরে সফটওয়্যার সেই সংকেত বিশ্লেষণ করে প্রতি মিনিটে হৃদ্স্পন্দনের সংখ্যা বা বিপিএম হিসাব করে।
শুধু হার্ট রেট নয়, আরও অনেক তথ্যেও কাজে লাগে
পিপিজি সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য শুধু হার্ট রেট দেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্মার্টওয়াচের সফটওয়্যার এই ডাটা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও ফিটনেস মেট্রিক তৈরিতে সাহায্য করতে পারে। বিশ্রামের সময়ের হার্ট রেট বা রেস্টিং হার্ট রেট-ও এভাবে হিসাব করা হয়। নিয়মিত রিডিংয়ের মাধ্যমে ব্যবহারকারী নিজের হার্ট রেটের পরিবর্তনের একটি সাধারণ ধারণা পেতে পারেন। তবে স্মার্টওয়াচের এসব তথ্য চিকিৎসা-নির্ণয়ের বিকল্প নয়।
ইসিজি সেন্সর কীভাবে আলাদা?
পিপিজি-এর পাশাপাশি কিছু স্মার্টওয়াচে ইসিজি বা ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম প্রযুক্তিও রয়েছে। এখানে আলো ব্যবহার করা হয় না। বরং হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ থেকে পাওয়া সংকেত পরিমাপ করা হয়। ইসিজি ব্যবহারের জন্য সাধারণত ঘড়ির নির্দিষ্ট ইলেকট্রোডের সঙ্গে ত্বকের সরাসরি সংযোগ প্রয়োজন হয়। ব্যবহারকারী নির্দিষ্টভাবে ঘড়ির অন্য একটি অংশ স্পর্শ করলে সার্কিট সম্পূর্ণ হয় এবং হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেত রেকর্ড করা সম্ভব হয়।
এই প্রযুক্তি হৃদ্স্পন্দনের ছন্দ ও কিছু ধরনের অনিয়ম শনাক্ত করতে বেশি কার্যকর হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু স্মার্টওয়াচে ইসিজি ফিচার অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দনের সম্ভাবনা, যেমন অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন-এর লক্ষণ শনাক্ত করতে সহায়তা করে। তবে এমন রিডিংকে চূড়ান্ত রোগ নির্ণয় হিসেবে ধরা উচিত নয়।
পিপিজি নাকি ইসিজি কোনটি বেশি নির্ভুল?
দুই প্রযুক্তির কাজের পদ্ধতি এক নয়। পিপিজি মূলত রক্তপ্রবাহে আলোর মাধ্যমে হওয়া পরিবর্তন শনাক্ত করে, আর ইসিজি হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ পরিমাপ করে। দৈনন্দিন হার্ট রেট ট্র্যাক করার ক্ষেত্রে পিপিজি খুবই কার্যকর হলেও এর রিডিং বিভিন্ন কারণে প্রভাবিত হতে পারে। ঘড়ি কব্জিতে ঠিকমতো না বসা, অতিরিক্ত নড়াচড়া, ঘাম, ত্বকের বৈশিষ্ট্য, ট্যাটু কিংবা সেন্সর ও ত্বকের সংযোগের সমস্যায় ফলাফলে পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে, ইসিজি হৃদ্যন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেত সরাসরি পরিমাপ করে বলে নির্দিষ্ট ধরনের হার্ট রিদম বিশ্লেষণে এটি বেশি তথ্য দিতে পারে। তবে ইসিজিও সব ধরনের হৃদরোগ শনাক্ত করার যন্ত্র নয়।
স্মার্টওয়াচের রিডিং কি সবসময় সঠিক?
না। স্মার্টওয়াচের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যকে সাধারণত নির্দেশক বা ট্র্যাকিং ডাটা হিসেবে দেখা উচিত। বিশেষ করে শরীরচর্চার সময় হাত বেশি নড়াচড়া করলে পিপিজি সেন্সরের রিডিংয়ে ভুল হতে পারে। তাই ঘড়িতে অস্বাভাবিক হার্ট রেট বা অন্য কোনো সতর্কবার্তা দেখা গেলে শুধু সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বারবার অস্বাভাবিক রিডিং পাওয়া গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
অর্থাৎ, স্মার্টওয়াচের পেছনে দেখা ছোট্ট সবুজ আলো নিছক সৌন্দর্যের জন্য নয়। ত্বকের নিচে রক্তপ্রবাহের সূক্ষ্ম পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে এই আলো ও পিপিজি সেন্সরই ঘড়িকে হার্ট রেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে সাহায্য করে।
কেএসকে
What's Your Reaction?

