স্যামসন বীরত্বে সেমিতে এশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধি ভারত
অবিশ্বাস্য সাঞ্জু স্যামসন। রীতিমতো ঝড় তুলেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ভারতকে সেমিফাইনালে তুললেন তিনি। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল ভারত, বিদায় নিল উইন্ডিজরা।
সাঞ্জু স্যামসনের ৫০ বলে ৯৭ রানের হার না মানা মহাকাব্যিক ইনিংসের উপর ভর করেই সেমির টিকিট কেটেছে টিম ইন্ডিয়া। শেষ চারে ভারতের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। সাঞ্জুর এই ইনিংসকে অসাধারণ বললেও কম হবে! ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করেছেন। তাতে সেই অর্থে তেমন ঝুঁকিও নেননি। ৫০ করে বাড়তি উল্লাস করেননি, মনযোগ ধরে রেখে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন।
অথচ এই সঞ্জু স্যামসনই ভারতের মূল একাদশে জায়গা পেতেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের হারের পর একাদশে সুযোগ পান ওপেনার। স্যামসনকে আজ সাপোর্ট দিয়েছেন অন্য ব্যাটাররাও। তিলকের ১৫ বলে ২৭ রানের পাশাপাশি শেষ মুহুর্তে হার্দিক পান্ডিয়ার ১৪ বলে ১৭ রানের ছোট ইনিংসগুলোতে তার কাজটা সহজ হয়েছে। ভারত পেয়েছে অসাধারণ এক জয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে টসে জিতে আগে ও
অবিশ্বাস্য সাঞ্জু স্যামসন। রীতিমতো ঝড় তুলেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ভারতকে সেমিফাইনালে তুললেন তিনি। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল ভারত, বিদায় নিল উইন্ডিজরা।
সাঞ্জু স্যামসনের ৫০ বলে ৯৭ রানের হার না মানা মহাকাব্যিক ইনিংসের উপর ভর করেই সেমির টিকিট কেটেছে টিম ইন্ডিয়া। শেষ চারে ভারতের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। সাঞ্জুর এই ইনিংসকে অসাধারণ বললেও কম হবে! ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করেছেন। তাতে সেই অর্থে তেমন ঝুঁকিও নেননি। ৫০ করে বাড়তি উল্লাস করেননি, মনযোগ ধরে রেখে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছেন।
অথচ এই সঞ্জু স্যামসনই ভারতের মূল একাদশে জায়গা পেতেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ভারতের হারের পর একাদশে সুযোগ পান ওপেনার। স্যামসনকে আজ সাপোর্ট দিয়েছেন অন্য ব্যাটাররাও। তিলকের ১৫ বলে ২৭ রানের পাশাপাশি শেষ মুহুর্তে হার্দিক পান্ডিয়ার ১৪ বলে ১৭ রানের ছোট ইনিংসগুলোতে তার কাজটা সহজ হয়েছে। ভারত পেয়েছে অসাধারণ এক জয়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটাই ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে টসে জিতে আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ভারত। এদিন ওপেনিংয়ে নামেন শাই হোপ এবং রোস্টন চেইজ। শুরু থেকে দেখেশুনে এগিয়েছেন হোপ এবং চেইজ। বেশি সাবধানী ছিলেন হোপ। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৫ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ওপেনিং জুটি থেকে রান আসে ৬৮। ৩৩ বলে ৩২ রানের শম্বুকগতির ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরে যান অধিনায়ক শাই হোপ। তাকে বোল্ড করে বিদায় করেছেন বরুণ চক্রবর্তী। তিনে নেমে শিমরন হেটমায়ার ঝড় তোলেন। ১২ বলে ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলের ১০২ রানের মাথাতে বিদায় নিয়েছেন তিনি। একই ওভারে সাজঘরে ফিরেছেন চেইজও। ২৫ বলে ৪০ রান করেন রোস্টন চেইজ। দুজনকেই ফিরিয়েছেন জাসপ্রীত বুমরাহ।
দুই সেট ব্যাটারকে হারিয়ে রানের গতি কিছুটা কমে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের। শেরফান রাদারফোর্ড ৯ বলে ১৪ রান করে থেমেছেন ১১৯ রানের মাথাতে। এরপর ঝড় তোলেন রভম্যান পাওয়েল এবং জেসন হোল্ডার। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ভারতের বোলারদের তুলোধুনো করে রান তুলেছেন দুজন।
সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে রানের গতি। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শটে রান বের করেছেন পাওয়েল-হোল্ডার। ভারতের বোলারদের কচুকাটা করে দলের বোর্ডে রান তুলেছেন। আগ্রাসী মেজাজে চালিয়েছেন ধুন্ধুমার ব্যাটিং। দলের রানও চলে যান দুইশর কাছাকাছি।
নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯ বলে ৩৪ রান করে টিকে ছিলেন পাওয়েল। ২২ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন হোল্ডার। দুজনে মিলে ৫ম উইকেট জুটিতে যোগ করেছেন ৭৬ রান, মাত্র ৩৫ বলে।
ভারতের হয়ে ২ উইকেট শিকার করেছেন জাসপ্রীত বুমরাহ। ১টি করে উইকেট নেন হার্দিক পান্ডিয়া এবং বরুণ চক্রবর্তী।
জবাব দিতে নেমে ওপেনিং জুটিতে অভিষেক শর্মা এবং সাঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে ভর করে ২৯ রান তোলে ভারত। জিম্বাবুয়ে ম্যাচে ফিফটি হাঁকিয়ে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও উইন্ডিজ ম্যাচেই আবারও পুরনো পথে অভিষেক। ১১ বলে ১০ রান করে বিদায় নেন তিনি।
তিনে নামা ঈশান কিষাণের ইনিংসও এদিন লম্বা হয়নি। ৬ বলে ১০ রান করে বিদায় নিয়েছেন তিনি, দলের রান তখন ৪১। টিকে থাকা ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন পাওয়ারপ্লে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন। ৬ ওভারে জোড়া উইকেট হারিয়ে ৫৩ রান তোলে ভারত।
চারে নেমে স্যামসনের সাথে যোগ দেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। স্যামসন এক প্রান্ত ধরে খেলে গেছেন। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়িয়েছেন। সুযোগ বুঝে বের করেছেন বাউন্ডারিও। ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটি, মাত্র ২৬ বলে।
১৬ বলে ১৮ রান করে অধিনায়ক সূর্যকুমার দলের ৯৯ রানের মাথাতে থেমেছেন। পাঁচে নামেন তিলক ভার্মা। স্যামসনের সাথে জুটি বেঁধে আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়েছেন তিলক। ভারতও ছুটতে থাকে লক্ষ্যের দিকে।
দারুণ খেলতে থাকা তিলক থেমেছেন দলের ১৪১ রানের মাথায়। ১৫ বলে ২৭ রান করা তিলককে ফেরান জেসন হোল্ডার। স্যামসন টিকে ছিলেন। ছয়ে নেমে তার সাথে যোগ দিয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া।
শেষ দিকে স্যামসন-হার্দিকের ব্যাটেই এগিয়েছে ভারতের ইনিংস। জয়ের সম্ভাবনাও ভালোভাবেই টিকে ছিল। শেষ দুই ওভারে ভারতের দরকার ছিল ১৭ রান। ১৯তম ওভারে ১৪ বলে ১৭ রান করা হার্দিক পান্ডিয়াকে ফেরান শামার জোসেফ। তবে শিভাম দুবে এবং স্যামসন মিলে নিয়ে ফেলেন ১০ রান।
শেষ ওভারে দরকার ছিল ৭ রান। বোলিংয়ে আসেন রোমারিও শেফার্ড। প্রথম বলেই উড়িয়ে ছক্কা হাঁকান স্যামসন। ৫ বলে দরকার আর মাত্র ১ রান। জেতা প্রায় সেখানেই হয়ে যায়। পরের বলেই জিতেছে ভারত। ৪ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জয়লাভ করে টিম ইন্ডিয়া। ৫০ বলে ৯৭ রান করে টিকে ছিলেন স্যামসন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন জেসন হোল্ডার এবং শামার জোসেফ। ১ উইকেট নেন আকিল হোসেইন।