সড়কে কোরবানির পর গ্যারেজে চলছে মাংস কাটা
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। সামর্থ্যবান মুসলমানরা ঈদের নামাজ শেষে পশু কোরবানিতে অংশ নিয়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মূল সড়ক বা অলিগলিতে সকাল থেকেই পশু জবাই, মাংস কাটাকাটি ও বর্জ্য অপসারণের ব্যস্ততা দেখা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন গ্যারেজে মাংস কুড়ানিদের ভিড় দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ঈদের জামাত শেষে রাজধানীবাসী কোরবানি শুরু করেন। সরেজমিনে মিরপুর, পল্লবী, কালশী ও মিরপুর-১২ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদের নামাজ শেষ করেই নগরবাসী পশু জবাইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিন, মাদরাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা একে অপরকে সহযোগিতা করছেন। এবারও ঢাকায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে সকাল থেকে নগরীর অলিগলি ও সড়কের পাশে পশু কোরবানি করতে দেখা গেছে। সকালে আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও ঈদের নামাজের সময় বৃষ্টির বিড়ম্বনা ছিল না। তবে সকাল ৮টার পর থেকেই বাড়তে থাকে রোদের তাপ। তীব্র গরম এড়াতে অনেকে বাসার গ্যারেজ কিংবা গাছের ছায়ায় বসে মাংস কাটাকাটি করতে দেখা যায়। দুপুর ১২টার ম
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। সামর্থ্যবান মুসলমানরা ঈদের নামাজ শেষে পশু কোরবানিতে অংশ নিয়েছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মূল সড়ক বা অলিগলিতে সকাল থেকেই পশু জবাই, মাংস কাটাকাটি ও বর্জ্য অপসারণের ব্যস্ততা দেখা গেছে। এছাড়া বিভিন্ন গ্যারেজে মাংস কুড়ানিদের ভিড় দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে ঈদের জামাত শেষে রাজধানীবাসী কোরবানি শুরু করেন। সরেজমিনে মিরপুর, পল্লবী, কালশী ও মিরপুর-১২ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদের নামাজ শেষ করেই নগরবাসী পশু জবাইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিন, মাদরাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা একে অপরকে সহযোগিতা করছেন।
এবারও ঢাকায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পশু জবাইয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে সকাল থেকে নগরীর অলিগলি ও সড়কের পাশে পশু কোরবানি করতে দেখা গেছে।
সকালে আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও ঈদের নামাজের সময় বৃষ্টির বিড়ম্বনা ছিল না। তবে সকাল ৮টার পর থেকেই বাড়তে থাকে রোদের তাপ। তীব্র গরম এড়াতে অনেকে বাসার গ্যারেজ কিংবা গাছের ছায়ায় বসে মাংস কাটাকাটি করতে দেখা যায়।
দুপুর ১২টার মধ্যেই অনেক পরিবার কোরবানির কাজ শেষ করে মাংস ঘরে তুলেছেন। পল্লবীর বি-ব্লকের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা আরমান বলেন, নামাজের পর কোরবানি করেছি। বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে সব শেষ হয়েছে। পশুর রক্ত ড্রেনে ফেলা হয়েছে আর বর্জ্য আলাদা প্যাকেটে রাখা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের গাড়ি এসে নিয়ে যাবে।
পল্লবীর বিভিন্ন সড়কে সিটি করপোরেশনের গাড়িকে কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবীরাও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
ঢাকায় এ বছর প্রায় সাত লাখ পশু কোরবানি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ৫৪ হাজার টনের বেশি বর্জ্য তৈরি হবে। দ্রুত এসব বর্জ্য অপসারণে কাজ করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এ কাজে প্রায় ৪০ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে তাদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ১৭ লাখের বেশি চটের ব্যাগ, পলিব্যাগ ও বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া দুর্গন্ধ ও জীবাণু নিয়ন্ত্রণে ব্লিচিং পাউডার ও স্যাভলন সরবরাহ করা হয়েছে।
কোরবানির বর্জ্য অপসারণসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দুটি হটলাইন চালু করেছে। নম্বর দুটি হলো- ০১৭০৯৯০০৮৮৮৮ এবং ০২২২৩৩৮৬০১৪।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কর্মীর মাধ্যমে তিন দিনের মধ্যে প্রায় ৩৪ হাজার টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে কোরবানির পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চামড়া সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। মসজিদ ও মাদরাসার সামনে অস্থায়ী বাঁশের সামিয়ানা টানিয়ে চামড়া সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ট্রাকে করে চামড়া সাভারের ট্যানারিগুলোতে পাঠানো হচ্ছে।
মিরপুর-১২ নম্বর এলাকার আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালাম মাদরাসার সামনে চামড়া সংগ্রহের জন্য অস্থায়ী শেড তৈরি করা হয়েছে। ভ্যান ও রিকশায় করে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসা থেকে চামড়া সংগ্রহ করছেন।
মাদরাসার প্রিন্সিপাল সাইফউজ্জামান বলেন, এবার কোরবানি কম হয়েছে। চামড়াও কম আসছে। গত বছর এই সময় ৭০০ থেকে ৮০০ চামড়া জমা হয়েছিল। এবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৪০০ চামড়া এসেছে। এলাকায় ঘুরলেই বোঝা যায়, কোরবানি আগের তুলনায় কম হয়েছে।
পল্লবী এলাকায় ভ্যানে করে চামড়া সংগ্রহ করতে দেখা যায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের। কোনো ভ্যানে চারটি, আবার কোনো ভ্যানে পাঁচটি চামড়া ছিল।
মাদরাসা ছাত্র সাইমুম বলেন, আগের ঈদে কিছুক্ষণ পরপর ভ্যান ভরে যেত। একেকটি লাইন থেকেই সাত-আটটি চামড়া পাওয়া যেত। এবার মানুষ কোরবানি কম করেছে। অনেকে আগে একাধিক পশু কোরবানি দিতেন, সেই সংখ্যাও কমেছে।
এসএম/এমআরএম
What's Your Reaction?