হজ ও ওমরায় মাথা মুণ্ডন বা ছাঁটার বিধান

সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য জীবনে একবার হজ আদায় করা ফরজ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, মানুষের ওপর আল্লাহর বিধান ওই ঘরের হজ করা, যার আছে সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য। (সুরা আলে ইমরান: ৯৭) হজের পাশাপাশি ওমরাহ পালনকেও উৎসাহিত করা হয়েছে ইসলামে। তাই সামর্থ্যবান মুসলিমদের ওপর জীবনে একবার ওমরাহ পালন করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। আর হজ ও ওমরার একটি ওয়াজিব বিধান হলো মাথার চুল মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা। কারণ, মাথার চুল মুণ্ডন বা কর্তন ছাড়া ইহরামের নিষেধাজ্ঞাগুলো শেষ হয় না। হজে মাথা মুণ্ডন করতে হয় কোরবানির পর মিনায়, আর ওমরাহতে সায়ি করার পর মারওয়ায়। হজ ও ওমরাতে মাথা মুণ্ডন বা ছাঁটা— উভয়টির যেকোনো একটি করা যায়। তবে হজে মাথা মুণ্ডন করা উত্তম। কিন্তু তামাত্তু হজকারীদের পক্ষে ওমরার পর ছাঁটানই উত্তম, যাতে হজের পর মুণ্ডনের জন্য কিছু চুল বাকি থাকে। এভাবে হজ ও ওমরায় মাথা মুণ্ডন বা ছাঁটান একটি বিশেষ ইবাদত। এটি পালন করা না হলে হজ বা ওমরাহ অনাদায়ী থেকে যাবে। নারী-পুরুষ কার কী বিধান? পুরুষের জন্য মাথা মুণ্ডন বা ছাঁটান উভয়টি জায়েজ, আর নারীর ক্ষেত্রে শুধু ছাঁটান জায়েজ। আর যার মাথায় চুল নেই সে শুধু ব্লেড বা চুল কাটার মেশিন পুরো

হজ ও ওমরায় মাথা মুণ্ডন বা ছাঁটার বিধান

সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য জীবনে একবার হজ আদায় করা ফরজ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, মানুষের ওপর আল্লাহর বিধান ওই ঘরের হজ করা, যার আছে সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য। (সুরা আলে ইমরান: ৯৭)

হজের পাশাপাশি ওমরাহ পালনকেও উৎসাহিত করা হয়েছে ইসলামে। তাই সামর্থ্যবান মুসলিমদের ওপর জীবনে একবার ওমরাহ পালন করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।

আর হজ ও ওমরার একটি ওয়াজিব বিধান হলো মাথার চুল মুণ্ডন বা চুল ছাঁটা। কারণ, মাথার চুল মুণ্ডন বা কর্তন ছাড়া ইহরামের নিষেধাজ্ঞাগুলো শেষ হয় না। হজে মাথা মুণ্ডন করতে হয় কোরবানির পর মিনায়, আর ওমরাহতে সায়ি করার পর মারওয়ায়।

হজ ও ওমরাতে মাথা মুণ্ডন বা ছাঁটা— উভয়টির যেকোনো একটি করা যায়। তবে হজে মাথা মুণ্ডন করা উত্তম। কিন্তু তামাত্তু হজকারীদের পক্ষে ওমরার পর ছাঁটানই উত্তম, যাতে হজের পর মুণ্ডনের জন্য কিছু চুল বাকি থাকে। এভাবে হজ ও ওমরায় মাথা মুণ্ডন বা ছাঁটান একটি বিশেষ ইবাদত। এটি পালন করা না হলে হজ বা ওমরাহ অনাদায়ী থেকে যাবে।

নারী-পুরুষ কার কী বিধান?

পুরুষের জন্য মাথা মুণ্ডন বা ছাঁটান উভয়টি জায়েজ, আর নারীর ক্ষেত্রে শুধু ছাঁটান জায়েজ। আর যার মাথায় চুল নেই সে শুধু ব্লেড বা চুল কাটার মেশিন পুরো মাথায় ঘুরিয়ে নেওয়াই যথেষ্ট এবং তা ওয়াজিব। (ফাতাওয়া আলমগিরি : ১/১৪৯)

মাথা ডান দিক থেকে মুণ্ডন সুন্নত

মাথা মুণ্ডানোর ক্ষেত্রে শুধু মুণ্ডন করলেই সওয়াবের পরিপূর্ণতা লাভ করবে না। এতে সুন্নত তরিকার অবলম্বন করতে হবে। ডান দিক থেকে মাথা মুণ্ডান সুন্নত। তাই হজ ও ওমরা পালনকারীদের জন্য উচিত ডান দিক থেকে মাথা মুণ্ডান শুরু করা। এভাবেই নবী করিম (সা.) হজে স্বীয় মাথা মোবারক মুণ্ডন করতেন।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) মিনায় পৌঁছে প্রথমে জামরাতে গেলেন এবং তাতে কঙ্কর মারলেন। অতঃপর মিনায় অবস্থিত তার ডেরায় গেলেন এবং কোরবানির পশুগুলো জবেহ করলেন, তৎপর নাপিত ডাকলেন এবং তাকে আপন মাথার ডান দিক বাড়িয়ে দিলেন। সে তা মুণ্ডন করল। তিনি আবু তালহা আনসারিকে ডেকে কেশগুচ্ছ দিলেন। অতঃপর নাপিতকে মাথার বাম দিক বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, মুণ্ডাও; সে মুণ্ডাল। আর তিনি তা সেই আবু তালহাকে দিয়ে বললেন, যাও মানুষের মধ্যে বণ্টন করে দাও।’ (মুসলিম: ১৩০৫, ১৩০৬, ১৩০৭)

স্ত্রী লোকের জন্য শুধু মাথার চুল ছাঁটান জায়েজ

ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার জন্য পুরুষের ক্ষেত্রে মাথার চুল মুণ্ডন বা কর্তন করা উভয়টি জায়েজ। কিন্তু হজ বা ওমরা পালনকারী নারীর ক্ষেত্রে শুধু মাথার চুল কর্তন জায়েজ, মুণ্ডন জায়েজ নেই। নবী করিম (সা.) হজ বা ওমরা পালনাবস্থায় নারীদের জন্য মাথার চুল মুণ্ডকে নিষেধ করেছেন। তাই নারী হাজিরা শুধু মাথার চুল কর্তন করে ইহরাম খুলে ফেলবেন। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘স্ত্রীলোকের প্রতি মাথা মুণ্ডন নেই। স্ত্রীলোকের প্রতি রয়েছে মাথা ছাঁটান।’ (আবু দাউদ: ১৯৮৪)

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow