হরমুজ খুলতে একমত, কৌশলে বিভক্ত আরব জোট!
যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে একমত হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে, পারস্পরিক মতপার্থক্য ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ সেই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম পলিটিকো। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডান ও ছয় সদস্যের উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বৈঠক করেছে। ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে একাধিক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে জিসিসি। তবে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে সবাই একমত হলেও, কীভাবে সেই লক্ষ্য অর্জন করা হবে-এ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়েছে। কার বিকল্প জ্বালানি রপ্তানি পথ আছে, কার অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কার অবকাঠামো ইরানের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত-এসব বিষয় তাদের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য গড়ে তুলেছে। একজন ইরাকি কর্
যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে একমত হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে, পারস্পরিক মতপার্থক্য ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ সেই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম পলিটিকো।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও সৌদি আরব সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডান ও ছয় সদস্যের উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বৈঠক করেছে। ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে একাধিক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে জিসিসি।
তবে, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার বিষয়ে সবাই একমত হলেও, কীভাবে সেই লক্ষ্য অর্জন করা হবে-এ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বড় ধরনের মতভেদ রয়েছে। কার বিকল্প জ্বালানি রপ্তানি পথ আছে, কার অর্থনীতি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কার অবকাঠামো ইরানের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত-এসব বিষয় তাদের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য গড়ে তুলেছে।
একজন ইরাকি কর্মকর্তা বলেন, তারা কংগ্রেস ও স্টেট ডিপার্টমেন্টে সমন্বিতভাবে কাজ করছে কিন্তু সবাই একই অবস্থানে নেই।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ডেভিড শেঙ্কার বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর পুরোনো বিভক্তি এই যুদ্ধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই বিভক্তির সবচেয়ে দৃশ্যমান উদাহরণ হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিলে ইউএইর ওপেক (OPEC) জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে উল্লেখ করা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধই এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ ছিল যা বিশেষ করে সৌদি আরবকে ক্ষুব্ধ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত জিসিসির অভ্যন্তরীণ বিভাজন বর্তমান ইরান-মার্কিন যুদ্ধের কারণে আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে এখনো গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। একে অপরের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে গোপনে সমঝোতার সন্দেহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
এমন অবস্থায় এই বিভক্তি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা কিংবা হরমুজ প্রণালি পুনরায় নিরাপদভাবে খুলে দেওয়ার উদ্যোগকে আরও কঠিন করে তুলছে। কেউ ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে, আবার কেউ দ্রুত নৌপথ সচল করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি বাহিনী লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
সাবেক মার্কিন নৌবাহিনীর ভাইস অ্যাডমিরাল জন মিলারের মতে, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ জিসিসি শুধু নিজেদের নিরাপত্তাই বাড়াতে পারবে না, ভবিষ্যতের যুদ্ধবিরতি আলোচনাতেও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জিসিসির সদস্য দেশগুলো হরমুজ প্রণালির বিকল্প অবকাঠামো গড়ে তুলতেও কাজ করছে। ইউএই ভারত মহাসাগরের ফুজাইরাহ বন্দরের দিকে নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করছে। একই সঙ্গে কুয়েতও সৌদি আরব ও ইউএইর পাইপলাইন ব্যবহার করে তেল রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।
কেএম
What's Your Reaction?
