হাঁটু পানিতে এসএসসি পরীক্ষা, চেয়ারে পা তুলে বসে শিক্ষক

মাত্র সোয়া এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র বেঞ্চে পা তুলে পরীক্ষা দিয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। একই সময় হলে দায়িত্বরত শিক্ষককেও চেয়ারে জুতা নিয়ে পা তুলে বসে থাকতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ পরিস্থিতি দেখা গেছে। এদিকে বৃষ্টিতে ডুবে গেছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ি। এতে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ। সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সোয়া বেলা ১১ পর্যন্ত হলেও পরে নগরীর লাকসাম রোড, জেলা স্কুল রোড, রেসকোর্স, বিসিক শিল্পনগরী, কুমিল্লা নগর ভবনের সমনের সড়ক, ঈদগাহ এলাকা, ছাতিপট্টি, চর্থা, কান্দিরপাড়-রাণীর বাজার সড়ক, ঠাকুরপাড়া-অশোকতলা, ছায়া বিতান ও শুভপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়ে। এতে অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে, ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এদিকে বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরা। বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হওয়

হাঁটু পানিতে এসএসসি পরীক্ষা, চেয়ারে পা তুলে বসে শিক্ষক

মাত্র সোয়া এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র বেঞ্চে পা তুলে পরীক্ষা দিয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। একই সময় হলে দায়িত্বরত শিক্ষককেও চেয়ারে জুতা নিয়ে পা তুলে বসে থাকতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ পরিস্থিতি দেখা গেছে।

এদিকে বৃষ্টিতে ডুবে গেছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ি। এতে ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে সোয়া বেলা ১১ পর্যন্ত হলেও পরে নগরীর লাকসাম রোড, জেলা স্কুল রোড, রেসকোর্স, বিসিক শিল্পনগরী, কুমিল্লা নগর ভবনের সমনের সড়ক, ঈদগাহ এলাকা, ছাতিপট্টি, চর্থা, কান্দিরপাড়-রাণীর বাজার সড়ক, ঠাকুরপাড়া-অশোকতলা, ছায়া বিতান ও শুভপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে পড়ে। এতে অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে, ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

এদিকে বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকরা। বৃষ্টি ও ঝড় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ চলে যায়। কোনো কোনো কেন্দ্রে মোমবাতি ও চার্জলাইট জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আবার অনেক কেন্দ্রে পানি জমে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের। পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের হাঁটু ও কোমর সমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়।

মাত্র সোয়া এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঈশ্বর পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র বেঞ্চে পা তুলে পরীক্ষা দিয়েছে

কুমিল্লার ঈশ্বর পাঠশালা স্কুল কেন্দ্রের সামনে পরীক্ষা শেষে ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে অভিভাবক হারুনুর রশিদ বলেন, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২০ মিনিট পরেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর মোমবাতি ও চার্জার লাইট দিয়ে ভেতরে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করে। স্কুলের পুরোনো ভবনে যে সব শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে তাদেরকে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে লিখতে হয়েছে। পানিতে পা ডুবিয়ে রেখেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এর বিকল্প ছিল না।

সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, বিগত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার রাস্তাঘাট ও ড্রেনের কাজ হয়। নগরীর শাসনগাছা, রেসকোর্স, বাগিচাগাঁও, ফায়ার সার্ভিস রোড, কান্দিরপাড় নজরুল অ্যাভিনিউ, রানীরবাজার, অশোকতলা, স্টেশন রোড, পুলিশ লাইন, জেল রোড, ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়, ঝাউতলা, বাদুরতলা, মনোহরপুর, সার্কিট হাউজ রোড, আদালতের মোড়, তালপুকুর রোড, ফয়জুন্নেসা স্কুল রোড, ডাক্তার পাড়া, সদর হাসপাতাল রোড, ছাতিপট্টি, রাজগঞ্জ, মোগলটুলীসহ প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা নিরশনে সিটি করপোরেশন বক্স ড্রেন নির্মাণ করলেও অজ্ঞাত কারণে এসব ড্রেন পানি নিষ্কাশনে কোনো কাজে আসছে না।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, কুমিল্লা সিটির জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের। অতীতে যারা এ নগরীর দায়িত্ব পালন করেছে তাদের অবহেলার কারণে আজ নগরবাসী খেসারত দিচ্ছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণ করেছি মাত্র কয়েকদিন হলো। বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে লক্ষ্যে আমরা কারণসমূহ চিহ্নিত করে সরেজমিন পরিদর্শন করছি। তা ছাড়া স্থায়ীভাবে নগরবাসীকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে ইতোমধ্যে বৃহৎ পরিকল্পনা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

কুমিল্লা আবহাওয়া কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও দুই দিন মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাহিদ পাটোয়ারী/এনএইচআর/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow