হাইতির সাবেক প্রেসিডেন্ট হত্যায় যুক্তরাষ্ট্রে চারজন দোষী সাব্যস্ত
হাইতির সাবেক প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইজ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ২০২১ সালে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। শুক্রবার (০৮ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্কাঞ্জেল প্রেটেল অর্টিজ, আন্তোনিও ইনত্রিয়াগো, ওয়াল্টার ভেইন্তেমিলা এবং জেমস সোলাজেস নামের চারজনকে প্রেসিডেন্ট মইজকে হত্যা বা অপহরণের ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী ঘোষণা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়, যা আগে থেকেই চলমান নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তোলে। এ ছাড়া মার্কিন আইন লঙ্ঘন করে ষড়যন্ত্রে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগেও তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। চারজনেরই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। মার্কিন কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, হাইতির সবচেয়ে কাছের মার্কিন অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চল ছিল মইজ হত্যার পরিকল্পনা ও অর্থায়নের প্রধান কেন্দ্র। প্রায় দুই মাস আগে শুরু হওয়া এই বিচারে আসামিপক্ষ দাবি করে, অভিযুক্তদের বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। অভিযুক্তদের দাবি, তারা আসলে মইজকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
হাইতির সাবেক প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইজ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে চারজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ২০২১ সালে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
শুক্রবার (০৮ মে) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্কাঞ্জেল প্রেটেল অর্টিজ, আন্তোনিও ইনত্রিয়াগো, ওয়াল্টার ভেইন্তেমিলা এবং জেমস সোলাজেস নামের চারজনকে প্রেসিডেন্ট মইজকে হত্যা বা অপহরণের ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী ঘোষণা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর ক্যারিবীয় দেশ হাইতিতে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়, যা আগে থেকেই চলমান নিরাপত্তা ও মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তোলে। এ ছাড়া মার্কিন আইন লঙ্ঘন করে ষড়যন্ত্রে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগেও তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। চারজনেরই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
মার্কিন কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, হাইতির সবচেয়ে কাছের মার্কিন অঙ্গরাজ্য ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চল ছিল মইজ হত্যার পরিকল্পনা ও অর্থায়নের প্রধান কেন্দ্র। প্রায় দুই মাস আগে শুরু হওয়া এই বিচারে আসামিপক্ষ দাবি করে, অভিযুক্তদের বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।
অভিযুক্তদের দাবি, তারা আসলে মইজকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কারণ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি ক্ষমতায় ছিলেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছিল।
তারা আরও দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত কলম্বিয়ান ভাড়াটে যোদ্ধাদের কাজ ছিল হাইতির পুলিশের সঙ্গে গিয়ে ওই পরোয়ানা কার্যকর করা। কিন্তু তারা পৌঁছানোর আগেই মইজকে তার নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীরাই হত্যা করে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ইমানুয়েল পেরেজ বলেন, “এটি হাইতিয়ানদের পরিকল্পনা এবং হাইতিয়ানদেরই ষড়যন্ত্র।”
অন্যদিকে, মার্কিন কৌঁসুলিদের অভিযোগ, প্রথমে অভিযুক্তরা মইজকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে অন্য কাউকে বসানোর পরিকল্পনা করেছিল। পরে সেটি হত্যার পরিকল্পনায় রূপ নেয়।
আলজাজিরা জানিয়েছে, অভিযুক্ত পঞ্চম ব্যক্তি স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে পরে বিচারের মুখোমুখি হবেন। মার্কিন তদন্তে আরও আটজন ব্যক্তি দোষ স্বীকার করে সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
মইজ হত্যার পর থেকে হাইতিতে এখন পর্যন্ত কোনো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। পরে সেই পরিষদের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-এইমেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, হাইতিতে স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি। দেশটি একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে বাড়তে থাকা সহিংসতায় দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত। বর্তমানে অপরাধী চক্রগুলো দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্তত ৮,১০০টি গ্যাং-হত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
What's Your Reaction?