হাওরে মাছ রক্ষায় কৃষিতে বালাইনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত

হাওরাঞ্চলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় কৃষিতে বালাইনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। উপদেষ্টা বলেন, বর্ষা মৌসুম শেষে হাওরাঞ্চলে পানি কমে যাওয়ায় রবি শস্য বিশেষ করে বোরো ধান চাষ শুরু হয়। সর্বোচ্চ ফলনের আশায় অনেক কৃষক অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালাইনাশক ব্যবহার করেন, যা হাওরাঞ্চলের মাছ, গবাদিপশু এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ প্রেক্ষাপটে বালাইনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। হাওরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যকে বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে যথোপযুক্ত কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে সবার আন্তরিক ও সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন ফরিদা আখতার। সভায় আরও বক্তব্য দেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (সেবা বিভাগ) মো. সাইদুর র

হাওরে মাছ রক্ষায় কৃষিতে বালাইনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত

হাওরাঞ্চলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় কৃষিতে বালাইনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

উপদেষ্টা বলেন, বর্ষা মৌসুম শেষে হাওরাঞ্চলে পানি কমে যাওয়ায় রবি শস্য বিশেষ করে বোরো ধান চাষ শুরু হয়। সর্বোচ্চ ফলনের আশায় অনেক কৃষক অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালাইনাশক ব্যবহার করেন, যা হাওরাঞ্চলের মাছ, গবাদিপশু এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ প্রেক্ষাপটে বালাইনাশক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

হাওরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্যকে বালাইনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে যথোপযুক্ত কর্মপদ্ধতি নির্ধারণে সবার আন্তরিক ও সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন ফরিদা আখতার।

সভায় আরও বক্তব্য দেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোকাব্বির হোসেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (সেবা বিভাগ) মো. সাইদুর রহমান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, কার্বোফুরান নামক ক্ষতিকর বালাইনাশক এরই মধ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এর বাজারজাতকরণ কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি ক্ষতিকর রাসায়নিক বালাইনাশকের পরিবর্তে জৈব বালাইনাশক ও বিকল্প বালাই ব্যবস্থাপনা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কৃষি সচিব বলেন, বালাইনাশক ব্যবহার সংক্রান্ত বিধিমালা চূড়ান্ত হলে এর ব্যবহার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। বর্তমানে দেশে ৩৩৫টি জেনেরিক নামের প্রায় ৮ হাজার ১০০টি বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডের বালাইনাশক বাজারে রয়েছে, যা সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা না থাকায় কৃষকরা অতিরিক্ত বালাইনাশক ব্যবহার করছেন। এ সমস্যা রোধে তিনি বালাইনাশক বিক্রির ক্ষেত্রে পরামর্শপত্র পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, বালাইনাশকের টক্সিসিটি (বিষাক্ততা) পরীক্ষার জন্য এনআইবি (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি), বিসিএসআইআর (বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ) ও বারির (বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট) পরীক্ষাগার ব্যবহারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই একমত পোষণ করেছেন। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান ও সমন্বয়ের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- আসন্ন বোরো মৌসুমে হাওর অধ্যুষিত সাত জেলায় বালাইনাশক বিক্রি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে কৃষি খাতে বালাইনাশক ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে।

এছাড়া বালাইনাশকের বোতল ও প্যাকেটে সহজ ও স্পষ্ট বাংলায় ব্যবহার নির্দেশিকা সংযুক্ত করে বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি হাওর অধ্যুষিত জেলাগুলোতে কৃষকদের জন্য বালাইনাশকের নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

খাদ্য ও পশুখাদ্যে বালাইনাশকের বিষাক্ততা পরীক্ষার জন্য এনআইবি, বিসিএসআইআর ও বারির পরীক্ষাগারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিকর রাসায়নিক বালাইনাশকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে জৈব বালাইনাশক, আইপিএম (ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট) ও জিএপি (গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস) কার্যক্রম জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাওর অঞ্চলে বালাইনাশক নিয়ন্ত্রণে একটি সমন্বিত ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ বাস্তবায়ন আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন ও সিলেট বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. ইমাম উদ্দীন কবির, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান প্রমুখ।

এনএইচ/একিউএফ/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow