হাতের টানে ওঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং

বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মানিকচক বাজার থেকে কুটুরবাড়ি পর্যন্ত ৬৫ লাখের অধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষের এক সপ্তাহের মাথায় হাত দিয়ে টান দিলে বিটুমিন ও পাথরের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এতে এলাকার জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।  তারা বিক্ষোভ মিছিল করে অভিযোগ করেছেন, নির্মিত সড়কে কাদা ও ধুলাবালি ও নামমাত্র বিটুমিন স্প্রের পর তড়িঘড়ি করে কার্পেটিং করায় এ অবস্থা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনগণ তদন্ত সাপেক্ষে এ অনিয়মে জড়িত ঠিকাদার ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বগুড়ার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এলজিইডি বগুড়া সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বগুড়া সদরের রাজাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মানিকচক বাজার থেকে কুটুরবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৬৫০ মিটার সড়ক উন্নয়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়, ৬৯ লাখ আট হাজার ৪৫৬ টাকা। নন্দীগ্রাম উপজেলার দামগাড়া এলাকার ঠিকাদার আল মোমিনের মেসার্স অঙ্কন এন্টারপ্রাইজ সর্বনিম্ন ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩ টাকা দরে কাজটি পায়। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ২০২৬

হাতের টানে ওঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং

বগুড়া সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের মানিকচক বাজার থেকে কুটুরবাড়ি পর্যন্ত ৬৫ লাখের অধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষের এক সপ্তাহের মাথায় হাত দিয়ে টান দিলে বিটুমিন ও পাথরের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এতে এলাকার জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। 

তারা বিক্ষোভ মিছিল করে অভিযোগ করেছেন, নির্মিত সড়কে কাদা ও ধুলাবালি ও নামমাত্র বিটুমিন স্প্রের পর তড়িঘড়ি করে কার্পেটিং করায় এ অবস্থা হয়েছে। বিক্ষুব্ধ জনগণ তদন্ত সাপেক্ষে এ অনিয়মে জড়িত ঠিকাদার ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বগুড়ার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এলজিইডি বগুড়া সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বগুড়া সদরের রাজাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মানিকচক বাজার থেকে কুটুরবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৬৫০ মিটার সড়ক উন্নয়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়, ৬৯ লাখ আট হাজার ৪৫৬ টাকা। নন্দীগ্রাম উপজেলার দামগাড়া এলাকার ঠিকাদার আল মোমিনের মেসার্স অঙ্কন এন্টারপ্রাইজ সর্বনিম্ন ৬৫ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩ টাকা দরে কাজটি পায়। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ জুন পর্যন্ত। তবে দীর্ঘদিন কাজটি ফেলে রাখা হয়। অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে বর্ষার মধ্যে তড়িঘড়ি করে কার্পেটিং করা হয়েছে।

স্থানীয় আবদুল মালেক, মিজানুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তড়িঘড়ি করে কাজটি শেষ করায় গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়নি। সড়কের কিছু অংশে খালি পায়ে হাঁটা যাচ্ছে না। সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিংয়ের আস্তরণ উঠে গেছে। হাত দিয়ে টান দিলে পিচ ও পাথর উঠে আসছে। তবে ঠিকাদার সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করেনি। তবে কিছু এলাকাবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেসার্স অঙ্কন এন্টারপ্রাইজের নামে কার্যাদেশ হলেও তারা কাজটি করেনি। ঠিকাদার আল মোমিন বলেন, তিনি কাজটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাবতলী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম হেলালের কাছে বিক্রি করেছেন। 

তবে বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম হেলাল দাবি করেন, কাজটি তার নামে কেনা হলেও করেছেন তার শ্যালক মোনারুল ইসলাম টুটুল। এলাকাবাসীরা দাবি করেছেন, কাজের সময় হেলালের লোকজন ছিলেন। তাকেও (হেলাল) মাঝেমধ্যে সাইটে দেখা গেছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম হেলাল বলেন, কাজের সময় এলজিইডির দুজন কার্যসহকারী, দুজন উপসহকারী প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন। কার্পেটিংয়ের জিনিসপত্র ডাম্প ট্রাকে আনা হয়েছিল। তাই ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ ছিল না। 

তিনি দাবি করেন, কেউ শত্রুতা করে দুই এক জায়গায় পা দিয়ে বা অন্যভাবে খুঁচিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। এছাড়া কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে অবিরাম বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলে বিটুমিন গরম করে রোলার চালিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করা হবে।

রাজাপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক রেজা বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়ে সড়কটি পরিদর্শন করেছেন তিনি। পরে বিষয়টি বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করেন। 

তিনি আরও বলেন, এ কাজের ঠিকাদার বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম হেলাল। আবহাওয়া ভালো হলে তিনি রাস্তাটি সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।

বগুড়া সদর উপজেলা এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) প্রকৌশলী মোবারক হোসেন বলেন, সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাসে এলজিইডি কার্পেটিংয়ের কাজ করে না। এবার জুনের শেষ দিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঠিকাদারকে কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্পেটিংয়ের পরদিন থেকেই টানা বৃষ্টি শুরু হয়। ফলে রাস্তা শুকানোর সুযোগ পায়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কাজে ত্রুটির প্রমাণ পাওয়া গেছে। আবহাওয়া ভালো হলে ঠিকাদার নিজ খরচে ত্রুটিপূর্ণ অংশ মেরামত করবেন। 

প্রকৌশলী দাবি করেন, এলাকার কিছু ব্যক্তি বৃষ্টির পর শাবল ও কোদাল দিয়ে রাস্তার অংশবিশেষ খুঁচিয়ে তুলেছেন।

বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল ওয়াজেদ বলেন, রাস্তার বিষয়টি তার নজরে এসেছে। এ অনিয়মে ঠিকাদার বা এলজিইডির কেউ জড়িত থাকলে তারা শাস্তির আওতায় আসুক, এটাই তার চাওয়া বলে জানিয়েছেন তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow