হামলার পরপরই মিসাইল বাংকার সচল করে ফেলছে ইরান
ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এসব হামলার মূল লক্ষ্যই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। তবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল বাংকার ও সাইলো (মিসাইল সংরক্ষণের ঘাঁটি) খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আবার সচল করে তুলছে ইরান। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাটি খুঁড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো থেকে মিসাইল লঞ্চার উদ্ধার করে ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হাতে এখনও বিপুল পরিমাণ ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার রয়েছে। ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন চলতি সপ্তাহে দাবি করেছিল, পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের ১১ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভিন্ন কথা বলছে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ। তাদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে টিকে আছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘ইরানের মিসাইল হামলা
ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এসব হামলার মূল লক্ষ্যই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ মিসাইল বাংকার ও সাইলো (মিসাইল সংরক্ষণের ঘাঁটি) খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আবার সচল করে তুলছে ইরান। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাটি খুঁড়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো থেকে মিসাইল লঞ্চার উদ্ধার করে ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হাতে এখনও বিপুল পরিমাণ ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার রয়েছে। ফলে দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন চলতি সপ্তাহে দাবি করেছিল, পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের ১১ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভিন্ন কথা বলছে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগ। তাদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে টিকে আছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘ইরানের মিসাইল হামলার সক্ষমতা ধ্বংস করাই এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’ অন্যদিকে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বারবার দাবি করেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সামরিক শক্তি ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়েছে।’ তবে সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, ‘ইরান এখনও মিসাইল ছোড়ার সক্ষমতা রাখে, যদিও সেগুলো আকাশেই প্রতিহত করা সম্ভব।’
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলার হার প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ইরানের নৌ সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর বড় অংশ ধ্বংস বা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আকাশপথেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তবে গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা, ইরানের হামলা কমে যাওয়ার পেছনে কৌশলগত কারণ রয়েছে। অনেক মিসাইল লঞ্চার পাহাড়ের গুহা বা ভূগর্ভস্থ বাংকারে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সেগুলো হামলা থেকে রক্ষা করে সুযোগমতো আবার ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে ইরান।
বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ইরান এখনও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০টি মিসাইল ইসরায়েলের দিকে ছুড়ছে। এদিকে, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে ঠিক কত লঞ্চার ছিল, তার সঠিক তথ্যও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নেই। ফলে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংকার বা গুহাগুলোতে কত লঞ্চার অবশিষ্ট রয়েছে, তা নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ইরান বুলডোজার ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া লঞ্চারগুলো দ্রুত খুঁড়ে বের করছে এবং সেগুলো পুনরায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করছে।
What's Your Reaction?