হামের প্রকোপ কবে কমতে পারে?

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। বর্তমানে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে, ঠিক কোন সময়টিতে এই রোগ বেশি ছড়ায় এবং এর প্রকোপ কবে নাগাদ কমতে পারে? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে। কখন প্রকোপ বেশি হয়? শীতের শেষ ও বসন্তকাল: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে হাম সাধারণত শীতের শেষভাগ (ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়ে বসন্তের মাঝামাঝি (এপ্রিল) পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। শুষ্ক আবহাওয়া: গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, শুষ্ক মৌসুমে এই ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত ঘটে। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে ভাইরাসের ড্রপলেটগুলো দীর্ঘ সময় ভেসে থাকতে পারে (এনসিবিআই) স্কুল ও জনসমাগম: বছরের শুরুতে স্কুলগুলো সচল থাকা এবং সামাজিক মেলামেশা বাড়ার কারণে জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে সংক্রমণের হার কয়েক গুণ বেড়ে যায়। (সিডিসি) হামের প্রকোপ কবে কমতে পারে? জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে হামের প্রকো

হামের প্রকোপ কবে কমতে পারে?

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে। বর্তমানে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে, ঠিক কোন সময়টিতে এই রোগ বেশি ছড়ায় এবং এর প্রকোপ কবে নাগাদ কমতে পারে? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে এর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।

কখন প্রকোপ বেশি হয়?

শীতের শেষ ও বসন্তকাল: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে হাম সাধারণত শীতের শেষভাগ (ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হয়ে বসন্তের মাঝামাঝি (এপ্রিল) পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

শুষ্ক আবহাওয়া: গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে, বিশেষ করে বাংলাদেশে, শুষ্ক মৌসুমে এই ভাইরাসের বিস্তার দ্রুত ঘটে। বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকলে ভাইরাসের ড্রপলেটগুলো দীর্ঘ সময় ভেসে থাকতে পারে (এনসিবিআই)

স্কুল ও জনসমাগম: বছরের শুরুতে স্কুলগুলো সচল থাকা এবং সামাজিক মেলামেশা বাড়ার কারণে জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে সংক্রমণের হার কয়েক গুণ বেড়ে যায়। (সিডিসি)

হামের প্রকোপ কবে কমতে পারে?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে হামের প্রকোপ কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডাক্তার মোহাম্মদ জাহিদ রায়হান এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বর্তমানে হামে মৃত্যুর হার একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ জন মারা যাচ্ছে। বর্তমানে যেভাবে টিকাদান কর্মসূচি ও অন্যান্য পদক্ষেপ চলছে, তাতে এটি এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে নিম্নগামী বা ‘ডাউনগ্রেড’ হবে বলেও তিনি আশা করছেন।

আইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডাক্তার মুশতাক হোসেনও একমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি গণটিকাদান (২১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা) এবং ‘রিং ভ্যাক্সিনেশন’ সফল হয়, তবে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সংক্রমণ কমে আসতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, সংক্রমণ কমে যাওয়ার সাথে সাথেই হয়তো মৃত্যুর সংখ্যা কমবে না। ইতোমধ্যে যারা সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন, তাদের কারণে মৃত্যু সংখ্যা কমতে সংক্রমণ কমার পর আরও প্রায় এক মাস বেশি সময় লাগতে পারে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেছেন।

তবে তিনি সতর্ক করেছেন, সংক্রমণ কমতির দিকে আসার সময় হঠাৎ কোনো কোনো এলাকায় মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে, যা একটি রোগতাত্ত্বিক হিসাব এবং এতে ঘাবড়ে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow