জুলাই-আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নবম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ মামলায় আরও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের এ দিন ধার্য করেন।
চাঁনখারপুলে পুলিশের গুলিতে নিহত শাহারিয়ার খান আনাসের নানা সাইদুর রহমান খান তার জবানবন্দিতে বলেছেন, এখন আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমি শহীদ শাহারিয়ার খান আনাসের নানা।
তিনি বলেন, গত বছর ৫ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে আমরা ঘুম থেকে উঠে আনাসকে বাড়িতে পাইনি। আমরা খোঁজাখুজি করে তার পড়ার টেবিলে তার মায়ের উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠি পাই। ওই চিঠি থেকেই জানতে পারি আনাস আন্দোলনে গেছে।
তিনি বলেন, আনাসের সঙ্গে একটি সিমবিহিন বাটন ফোন ছিল, ওই মোবাইল ফোনে আমাদের পরিবারের ৪-৫টা নম্বর সেভ করা ছিল। দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে অপরিচিত নম্বর থেকে একটি ফোন কল আসে আনাসের মায়ের মোবাইলে। জানতে চাওয়া হয় আমাদের পরিবার থেকে কেউ আন্দোলনে গেছে কি না, তখন আনাসের মা বলে, হ্যাঁ আমার ছেলে আনাস আন্দোলনে গিয়েছে। তখন অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয়, আপনারা স্যার সলিমুল্লাহ মিডফোর্ড মেডিকেল হাসপাতালে আসেন।
- আরও পড়ুন:
- স্বাচিপ চিকিৎসকরা বলেছিলেন ‘এরা সন্ত্রাসী, চিকিৎসা দেওয়া যাবে না’
- মামলা না করতে ৭ লাখ ও দোকান দিতে চেয়েছিলো আওয়ামী লীগ নেতা
- হাবিবুর রহমানসহ ৪ জনকে আত্মসমর্পণে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ
পরে আমরা আনাসের বাবা-মাসহ মিডফোর্ড হাসপাতালে যাই। ওখানে গিয়ে স্ট্রেচারের ওপর আনাসকে রক্তাক্ত অবস্থায় শায়িত অবস্থায় দেখি। হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আনাসকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, হাসপাতাল থেকে আমাদের বলা হয় দ্রুত লাশ নিয়ে যেতে। তারপর আমরা রিকশায় করে আনাসের লাশ বাসায় নিয়ে আসি। জানাজা শেষে ওইদিনই জুরাইন কবরস্থানে আনাসকে দাফন করা হয়।
তিনি বলেন, আমি পরবর্তী সময় জানতে পারি চাঁনখারপুলের কাছে নবাব কাটারা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয় আনাস। আমি আরও জানতে পারি ওইদিনই আনাসহ ৬ জন সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয় সেখানে। তৎকালীন সরকারের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সেখানে গুলি করে।
ওই ঘটনার জন্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ যারা গুলি করেছে তাদের দায়ী করে ফাঁসি চান তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে দমনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিনে প্রতিদিনের মতো সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে।
এর আগে গত ৩ আগস্ট এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা অব্যাহত রয়েছে।
এফএইচ/এসএনআর/এএসএম