‘হায় হোসেন’ ধ্বনিতে মুখর কলকাতার রাজপথ, শোক-শ্রদ্ধায় মহররম পালন

সারাবিশ্বের সঙ্গে কলকাতাতেও যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে মহরম। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকে কলকাতার মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার মধ্যেই ধর্মীয় আবেগে সড়কে নামেন মুসলিম শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।। শিয়া মুসলিমদের কাছে এই দিনটি গভীর শোকের। তারা মাতমের মাধ্যমে কারবালার সেই মর্মান্তিক ঘটনাকে স্মরণ করেন। অন্যদিকে, সুন্নি মুসলিমরা এই পবিত্র দিনে রোজা বা উপবাস পালন করেন। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলের পর কলকাতার শহরে পবিত্র মহরম উপলক্ষে কলকাতা শহরে সুসজ্জিত তাজিয়া নিয়ে বের হয়েছে শোভাযাত্রা।পার্ক সার্কাস এলাকাতেও বের হয় তাজিয়া মিছিল। হজ হাউসের কাছে কার্সিয়া বাগানের সামনে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট তাজিয়া নিয়ে জমায়েত হন মানুষ। মূল তাজিয়া মিছিল ঘিরে ছিল পার্ক সার্কাস এলাকা। এছাড়াও ধর্মতলার নাখোদা মসজিদ ও জিয়া রোড থেকে শুরু হয় তাজিয়া মিছিল। পাশাপাশি হরিশ ট্রিট থেকে একটি শোকযাত্রা বের হয় সেটি শিয়ালদা ফ্লাইওভার, বেলেঘাটা মেইনরোড হয়ে শহরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা রাজাবাজার, ইকবালপুর, কিদারপুর, মেটিয়াব্রুজ, মোমিনপুর হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। কালো পোশাকে বহু মানুষ, এমনকি নারীদেরও মিছিলে অংশ নিতে দেখা

‘হায় হোসেন’ ধ্বনিতে মুখর কলকাতার রাজপথ, শোক-শ্রদ্ধায় মহররম পালন

সারাবিশ্বের সঙ্গে কলকাতাতেও যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হচ্ছে মহরম। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকে কলকাতার মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার মধ্যেই ধর্মীয় আবেগে সড়কে নামেন মুসলিম শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ।।

শিয়া মুসলিমদের কাছে এই দিনটি গভীর শোকের। তারা মাতমের মাধ্যমে কারবালার সেই মর্মান্তিক ঘটনাকে স্মরণ করেন। অন্যদিকে, সুন্নি মুসলিমরা এই পবিত্র দিনে রোজা বা উপবাস পালন করেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলের পর কলকাতার শহরে পবিত্র মহরম উপলক্ষে কলকাতা শহরে সুসজ্জিত তাজিয়া নিয়ে বের হয়েছে শোভাযাত্রা।পার্ক সার্কাস এলাকাতেও বের হয় তাজিয়া মিছিল। হজ হাউসের কাছে কার্সিয়া বাগানের সামনে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট তাজিয়া নিয়ে জমায়েত হন মানুষ। মূল তাজিয়া মিছিল ঘিরে ছিল পার্ক সার্কাস এলাকা।

এছাড়াও ধর্মতলার নাখোদা মসজিদ ও জিয়া রোড থেকে শুরু হয় তাজিয়া মিছিল। পাশাপাশি হরিশ ট্রিট থেকে একটি শোকযাত্রা বের হয় সেটি শিয়ালদা ফ্লাইওভার, বেলেঘাটা মেইনরোড হয়ে শহরের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা রাজাবাজার, ইকবালপুর, কিদারপুর, মেটিয়াব্রুজ, মোমিনপুর হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

কালো পোশাকে বহু মানুষ, এমনকি নারীদেরও মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। কারবালার শোকগাথার নানা প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছিল তাজিয়া। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনি দিয়ে মাতম করেন। কারবালার রক্তাক্ত স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেউ কেউ নিজের শরীরে আঘাত করে শোক প্রকাশ করেন।

তাজিয়া মিছিলের ঐতিহ্য ও নান্দনিকতা দেখতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষও ভিড় জমান। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এখনও পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে, পবিত্র মহরম উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার ‘এক্স’-এ বার্তায় তিনি বলেন, হযরত ইমাম হুসেন (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগ আজও মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার অনুপ্রেরণা দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, কারবালার ঘটনা সাহস, দৃঢ় বিশ্বাস এবং ন্যায়বোধের এক চিরন্তন প্রতীক। এই পবিত্র দিন আমাদের সত্য, ন্যায়বিচার, সাহস ও মানবিক মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

এই পবিত্র মহরম উপলক্ষ্যে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে কলকাতা পুলিশ। পাশাপাশি সুরক্ষার কথা চিন্তা করে ড্রোন ক্যামেরারও সাহায্য নিচ্ছে প্রশাসন।

ভারতজুড়েই গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হয়েছে মহরম। বিভিন্ন ধর্মের মানুষও তাজিয়া মিছিল ও শোক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য ছবি তুলে ধরেছেন।

ডিডি/কেএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow