উত্তরের আট জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে গাইবান্ধার বালাসীঘাট থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ নৌরুটে ফেরি সার্ভিসের জন্য ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই ঘাটে নির্মাণ করা হয় টার্মিনাল। কিন্তু এই নৌরুটে নদীর নাব্য সংকটে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে ফেরি চলাচল। একদিনও চলেনি ফরি। ফলে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে টার্মিনালটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৩৮ সালে বালাসী ও বাহাদুরাবাদ ঘাটে ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর রেল যোগাযোগ চালু ছিল। তবে ২০০০ সালে নদীর নাব্য সংকটের কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০১৭ সালের একনেকের সভায় বালাসীঘাট থেকে বাহাদুরাবাদ নৌরুটটি আবারও চালু করতে অনুমোদন দেওয়া হয় ফেরিঘাট টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। পরে দুই দফা বাড়িয়ে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়ায় ১৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
২০২১ সালের মধ্যে বেশ কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু শুরু হয়নি ফেরি চলাচল। নাব্য সংকট ও ২৬ কিলোমিটার বিশাল দূরত্বের নৌপথসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে নৌরুটটি চলাচলের অনুপযোগী বলে ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিএর কারিগরি কমিটি। ফলে সরকারের মেগা প্রকল্প থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না এই অঞ্চলের মানুষ।
বালাসীঘাট টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, টোল আদায়ের বুথ, বাস টার্মিনাল, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের ব্যারাক, পাইলট বিশ্রামাগার, অফিস, মসজিদ, খাবারের হোটেল, আনসার ব্যারাকসহ নানা অবকাঠামো অকোজে হয়ে পড়ে আছে।
স্থানীয়রা জানান, এই নৌপথে বড় লঞ্চতো দূরের কথা, ছোট লঞ্চও চলাচল করতে পারেনি। ছোট ছোট নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপর করছেন যাত্রীরা।
আরও পড়ুন:
- চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ নৌপথ খননে ব্যয় বাড়লো ১২ কোটি টাকা
- চূড়ান্ত হয়নি চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত
- দুই মাস বন্ধ নির্মাণকাজ, যাত্রীদের ভোগান্তি
- ‘হাবুডুবু’ খাচ্ছে ৩ হাজার কোটি টাকার নৌরুট উন্নয়ন কাজ
সাজ্জাদ হোসেন ছোটন নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফেরিঘাটের টার্মিনালটি মানুষের উপকারের জন্য করা হয়নি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল কোটি কোটি টাকা লোপাট করা। টার্মিনালটি সংস্কার করে শিশুপার্কসহ বিনোদন কেন্দ্র করার পরামর্শ দেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আলম মিয়া বলেন, ‘যখন টার্মিনালটির কাজ শুরু হয়, তখন বুক ভরা আশা নিয়েছিলাম বড় বড় ফেরি ঘাটে ফিরবে। এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। কিন্তু টার্মিনালটির কাজ শেষ হওয়ার পরও অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।’
ফুলছড়ির ঝিগাবাড়ির চরের বাসিন্দা আয়নাল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘এত সুন্দর চকচকে বিল্ডিংগুলো করলো বড় বড় লঞ্চ চলাচলের জন্য। অথচ বড় বড় লঞ্চতো দূরের কথা, ফেরির বড় নৌকাগুলোতো চলছে না। বিল্ডিংগুলো ব্যবহার না করার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।’
গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, ফেরিঘাটটি চালুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধাবাসী আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে এটি তৈরি করায় শুধু সরকারের টাকা অপচয় হয়েছে। বর্তমানে মানুষের কোনো উপকারেই আসছে না টার্মিনালটি।
এ বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএর দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এসআর/এমএস