১৫ দিনের ছুটি নিয়ে ২০ মাস নিখোঁজ থাকা সেই বেবিচক কর্মকর্তা বরখাস্ত
কখনও স্ত্রীকে উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি করানোর অজুহাত, কখনও-বা সন্তানের অসুস্থতার দোহাই। মাত্র ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ১৫ দিন গড়িয়ে এখন ২০ মাস পার হয়েছে। দফায় দফায় বিভিন্ন অজুহাত আর কৌশলের আশ্রয় নিয়ে কর্মস্থলে না ফিরে যুক্তরাষ্ট্রে ‘পলাতক’ আছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (সিএনএস) মো. আরিফ-উর-রহমান। দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং অসদাচরণের দায়ে অবশেষে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে বেবিচক। বেবিচকের সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আরিফ-উর-রহমান ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তার ‘স্ত্রীর উচ্চশিক্ষায় সহায়তার’ জন্য ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। নিয়মানুযায়ী ছুটি শেষে কর্মস্থলে না ফিরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকেই আরও ৩ মাস ১৫ দিন ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন। তবে বেবিচক তার সেই আবেদন নামঞ্জুর করে এবং ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে দেশে ফেরেননি। ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দীর্ঘ ২০ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বেবিচকের সহকারী পরিচালক মো. আরিফ-উর-রহমানকে চাকরি থেকে
কখনও স্ত্রীকে উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি করানোর অজুহাত, কখনও-বা সন্তানের অসুস্থতার দোহাই। মাত্র ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ১৫ দিন গড়িয়ে এখন ২০ মাস পার হয়েছে। দফায় দফায় বিভিন্ন অজুহাত আর কৌশলের আশ্রয় নিয়ে কর্মস্থলে না ফিরে যুক্তরাষ্ট্রে ‘পলাতক’ আছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (সিএনএস) মো. আরিফ-উর-রহমান।
দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং অসদাচরণের দায়ে অবশেষে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে বেবিচক।
বেবিচকের সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আরিফ-উর-রহমান ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট তার ‘স্ত্রীর উচ্চশিক্ষায় সহায়তার’ জন্য ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। নিয়মানুযায়ী ছুটি শেষে কর্মস্থলে না ফিরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকেই আরও ৩ মাস ১৫ দিন ছুটি বাড়ানোর আবেদন করেন। তবে বেবিচক তার সেই আবেদন নামঞ্জুর করে এবং ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে দেশে ফেরেননি।
১৫ দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দীর্ঘ ২০ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় বেবিচকের সহকারী পরিচালক মো. আরিফ-উর-রহমানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্ত্রীর উচ্চশিক্ষা ও সন্তানের চিকিৎসার মতো একের পর এক অজুহাত দেখিয়ে তিনি ছুটি বাড়াতে চেয়েছিলেন। তদন্তে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলো
বেবিচক জানায়, আরিফ-উর-রহমান গত দেড় বছরে একের পর এক অজুহাত দাঁড়িয়ে ছুটি বাড়াতে চেয়েছেন। কর্তৃপক্ষ যখন তাকে কাজে যোগ দিতে ব্যাখ্যা তলব করে, তখন তিনি কোনো জবাব না দিয়ে উল্টো অতিরিক্ত ৬ মাসের ছুটির আবেদন করেন। এই পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ এনে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে বেবিচক।
মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত চলাকালীন তিনি নতুন কৌশলের আশ্রয় নেন। শুরুতে ‘স্ত্রীর উচ্চশিক্ষা’র দোহাই দিলেও পরে সুর বদলে হঠাৎ ‘পুত্রের চিকিৎসা’র কথা উল্লেখ করেন এবং এক পর্যায়ে ২ বছরের শিক্ষা ছুটির আবেদন জমা দেন। এ ধরনের পরিস্থিতির ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থানরত দেশের বাংলাদেশি দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ছুটির আবেদন করার বিধান রয়েছে। তবে আরিফ-উর-রহমান দূতাবাসের মাধ্যমে না করে সরাসরি বেবিচকে ছুটির আবেদন করেন। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় বেবিচক সেই ছুটি নামঞ্জুর করে এবং তাকে পাল্টা চিঠি দেয়।
বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বেবিচক একটি সুশৃঙ্খল সংস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা (আরিফ-উর-রহমান) মাত্র ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ ২০ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, যা সরাসরি চাকরি বিধিমালার লঙ্ঘন। তাকে বারবার কাজে ফেরার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি ফেরেননি, বরং পলায়নরত থেকে একের পর এক অসামঞ্জস্যপূর্ণ অজুহাত দেখিয়েছেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চাকরি হতে বরখাস্ত করা হয়েছে।’
What's Your Reaction?