১৭ মাস পর জুলাই শহীদ সোহেল রানার কবর খুঁজে পেলো পরিবার

জুলাই আন্দোলনের অজ্ঞাতপরিচয় শহীদ হিসেবে গণকবরে দাফন করা ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুন্সিগঞ্জের সোহেল রানা (৩৭)। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এদিন বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় সিআইডি। শহীদ সোহেল রানা মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড়া এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ির কাজলা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। তবে তখন পরিবারের খোঁজ না পেয়ে বেওয়ারিশভাবে রায়েরবাজারের গণকবরে দাফন করা হয়েছিল। গনঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছে বলে জানতে পারলেও দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে মরদেহের অবস্থানের অপেক্ষায় ছিল পরিবার। পরিবারের তথ্য মতে, ৪ ভাই এক বোনের মধ্যে সোহেল ছিল সবার বড়। দেশের জন্য কিছু করবেন এটাই চাইতেন সোহলে রানা। পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার যাত্রাবাড়িতে। ১৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। এরপর আর খোঁজ মেলেনি। তিনদিন পর ঢাকা মেডিকেলের মর্গসহ বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও পাওয়া যায়নি তাকে। ৩৪ দি

১৭ মাস পর জুলাই শহীদ সোহেল রানার কবর খুঁজে পেলো পরিবার

জুলাই আন্দোলনের অজ্ঞাতপরিচয় শহীদ হিসেবে গণকবরে দাফন করা ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন ছিলেন মুন্সিগঞ্জের সোহেল রানা (৩৭)।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন কবরস্থানে মরদেহ উত্তোলন ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এদিন বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় সিআইডি।

শহীদ সোহেল রানা মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঘোড়দৌড়া এলাকার লাল মিয়ার ছেলে।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ির কাজলা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। তবে তখন পরিবারের খোঁজ না পেয়ে বেওয়ারিশভাবে রায়েরবাজারের গণকবরে দাফন করা হয়েছিল। গনঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছে বলে জানতে পারলেও দীর্ঘ ১৭ মাস ধরে মরদেহের অবস্থানের অপেক্ষায় ছিল পরিবার।

১৭ মাস পর জুলাই শহীদ সোহেল রানার কবর খুঁজে পেলো পরিবার

পরিবারের তথ্য মতে, ৪ ভাই এক বোনের মধ্যে সোহেল ছিল সবার বড়। দেশের জন্য কিছু করবেন এটাই চাইতেন সোহলে রানা। পরিবার নিয়ে থাকতেন ঢাকার যাত্রাবাড়িতে। ১৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। এরপর আর খোঁজ মেলেনি। তিনদিন পর ঢাকা মেডিকেলের মর্গসহ বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও পাওয়া যায়নি তাকে। ৩৪ দিন পর সোহেলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পারে তার পরিবার।

সোহেলের ভাই জুয়েল ও নাবিল জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমার ভাই দেশের জন্য কিছু করবেন এটাই চাইতেন। শাহাবাগ থানা থেকে জানানো হয়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাজলা যাত্রাবাড়িতে সোহলকে নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে এত পরিমাণ গুলি ছিল সেটা গুণে শেষ করা যায়নি। সোহেলের মৃত্যু নিশ্চিতে সনদ হিসেবে একটি কাগজ পাই। সেই সঙ্গে শাহাবাগ থানার অজ্ঞাত-২৮ জিডি নাম্বার ১৩৫৯ এর কপি আর কিছু বীভৎস ছবি পেয়েছিলাম। রায়ের বাজার কবরস্থানে সোহেলকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

অবশেষে দীর্ঘ ১৭ মাস পর সন্তানের মরদেহ শনাক্তের পর কান্নায় ভেঙে পরে শহীদ সোহেল রানার মাসহ পরিবারের সদস্যরা। এসময় আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

শনাক্ত হওয়া অন্য শহীদরা হলেন- শহীদ ফয়সাল সরকার, শহীদ পারভেজ বেপারী, শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহীদ মাহিম (২৫), শহীদ আসানুল্লাহ, কাবিল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম (২৯)।

১৭ মাস পর জুলাই শহীদ সোহেল রানার কবর খুঁজে পেলো পরিবার

সিআইডি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, রায়েরবাজার কবরস্থানে অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মরদেহ উত্তোলন ও ফরেনসিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রতিটি মরদেহ উত্তোলনের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ফরেনসিক চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত পরিচালনা করেন। সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়।

সিআইডির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় শহীদদের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের মধ্য থেকে ৯টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাপ্ত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে এরই মধ্যে ৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় শহীদের পরিচয় সফলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

শুভ ঘোষ/এমএন

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow