১৮ কোটি টাকার হাসপাতাল এখন শিয়ালের আবাসস্থল
দূর থেকে দেখলে মনে হয় আধুনিক একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। দৃষ্টিনন্দন ভবন, সাজানো কক্ষ, এসি, টেলিভিশনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে নেই কোনো চিকিৎসাসেবা। তালাবদ্ধ ভবন আর ঝোপঝাড়ে ঘেরা হাসপাতালটি এখন পরিণত হয়েছে শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর আশ্রয়স্থলে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের তালিয়া গ্রামে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে চালু হয়নি। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
২.০৭৩ একর জমির ওপর নির্মিত হাসপাতালটিতে রয়েছে মূল ভবন, তিনটি কোয়ার্টার, জেনারেটর রুম, গ্যারেজ ও পাম্প হাউস। নির্মাণকাজ শেষে ২০২১ সালের ২০ জুন গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেবা কার্যক্রম চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হলেও এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতরে চেয়ার-টেবিল, এসি, এলইডি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম থাকলেও চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ওষুধের সংকটে স্বাস্থ্যসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় ভবনের চারপাশ ঝোপঝাড়ে ভরে
দূর থেকে দেখলে মনে হয় আধুনিক একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। দৃষ্টিনন্দন ভবন, সাজানো কক্ষ, এসি, টেলিভিশনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেখানে নেই কোনো চিকিৎসাসেবা। তালাবদ্ধ ভবন আর ঝোপঝাড়ে ঘেরা হাসপাতালটি এখন পরিণত হয়েছে শিয়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর আশ্রয়স্থলে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের তালিয়া গ্রামে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটি পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে চালু হয়নি। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
২.০৭৩ একর জমির ওপর নির্মিত হাসপাতালটিতে রয়েছে মূল ভবন, তিনটি কোয়ার্টার, জেনারেটর রুম, গ্যারেজ ও পাম্প হাউস। নির্মাণকাজ শেষে ২০২১ সালের ২০ জুন গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সেবা কার্যক্রম চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হলেও এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতরে চেয়ার-টেবিল, এসি, এলইডি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম থাকলেও চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ওষুধের সংকটে স্বাস্থ্যসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকায় ভবনের চারপাশ ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন-আর-রশিদ বলেন, ‘প্রতিবারই শুনি হাসপাতাল চালু হবে। কিন্তু বছর পার হয়ে যায়, কোনো পরিবর্তন দেখি না। হাসপাতাল চালু হলে এলাকার মানুষের অনেক উপকার হতো।’
স্থানীয় চিকিৎসক ডা. মো. ওমর কায়ছার বলেন, ‘সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। সেটি চালু না হওয়া হতাশাজনক। দ্রুত চালু করা জরুরি।’
স্থানীয় বাসিন্দা শিউলি বেগম বলেন, ‘অসুস্থ হলে আমাদের অনেক দূরে যেতে হয়। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের নিয়ে ঢাকায় যাওয়া খুব কষ্টকর। হাসপাতালটি চালু হলে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।’
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের জন্য ১৬টি পদ অনুমোদন করা হলেও এখনো অধিকাংশ পদ শূন্য রয়েছে। একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও দুজন নার্স পদায়ন করা হলেও তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদ বলেন, ‘হাসপাতালে দুজন চিকিৎসক পদায়ন রয়েছেন। তবে অর্থনৈতিক কোড না থাকায় কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘ওষুধ, জনবল ও বাজেট— সবকিছুতেই ঘাটতি রয়েছে। তবে ধীরে ধীরে সমস্যার সমাধান হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা যাবে।’
১৮ কোটি টাকার এই স্বাস্থ্য অবকাঠামো দ্রুত চালু হলে নাগরী ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।