১৮ বছর সহকারীর কাজ করেও কিছুই জানতেন না লেসলি গ্রফ
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপেস্টাইনের নির্বাহী সহকারী হিসেবে কাজ করা লেসলি গ্রফকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কংগ্রেসের হাউজ ওভারসাইট কমিটি। মঙ্গলবার (৯ জুন) মার্কিন এই কমিটিকে গ্রফ জানান, তিনি এপেস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। সিএনএন-এর বরাতে জানা গেছে, তিনি এপস্টেইনকে একজন ওস্তাদ প্রতারক ও কৌশলী প্রভাবক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এপেস্টাইন নিজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সবার কাছ থেকে গোপন রাখতেন। আরও পড়ুন>>নিখোঁজের ১৯ বছর পর হদিশ মিলেছে শিশু মেডেলিনের গ্রফ বলেন, তিনি যেসব তরুণী ও কিশোরীর জন্য ম্যাসাজের সময় নির্ধারণ করতেন তাদের সবাইকে তিনি পেশাদার ম্যাসাজ থেরাপিস্ট বলেই বিশ্বাস করতেন। তার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলতে চাই, আমি এখন বিশ্বাস করি ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত যে ব্যক্তি আমাকে চাকরি দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন এক দানব। তিনি আরও বলেন, পরে বুঝেছি, এপস্টেইন ছিলেন একজন অসাধারণ প্রতারক ও ধোঁকাবাজ। তিনি তার বৈধ জীবন এবং নির্যাতনকারীর গোপন জীবনকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতেন এবং নিশ্চিত করতেন যে তার সচিব হিসেবে আমি যেন কখনো এই দুই জগতের সংযোগ দেখতে না
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপেস্টাইনের নির্বাহী সহকারী হিসেবে কাজ করা লেসলি গ্রফকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কংগ্রেসের হাউজ ওভারসাইট কমিটি। মঙ্গলবার (৯ জুন) মার্কিন এই কমিটিকে গ্রফ জানান, তিনি এপেস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।
সিএনএন-এর বরাতে জানা গেছে, তিনি এপস্টেইনকে একজন ওস্তাদ প্রতারক ও কৌশলী প্রভাবক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এপেস্টাইন নিজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সবার কাছ থেকে গোপন রাখতেন।
আরও পড়ুন>>
নিখোঁজের ১৯ বছর পর হদিশ মিলেছে শিশু মেডেলিনের
গ্রফ বলেন, তিনি যেসব তরুণী ও কিশোরীর জন্য ম্যাসাজের সময় নির্ধারণ করতেন তাদের সবাইকে তিনি পেশাদার ম্যাসাজ থেরাপিস্ট বলেই বিশ্বাস করতেন।
তার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলতে চাই, আমি এখন বিশ্বাস করি ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুলাই পর্যন্ত যে ব্যক্তি আমাকে চাকরি দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন এক দানব।
তিনি আরও বলেন, পরে বুঝেছি, এপস্টেইন ছিলেন একজন অসাধারণ প্রতারক ও ধোঁকাবাজ। তিনি তার বৈধ জীবন এবং নির্যাতনকারীর গোপন জীবনকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতেন এবং নিশ্চিত করতেন যে তার সচিব হিসেবে আমি যেন কখনো এই দুই জগতের সংযোগ দেখতে না পাই।
গ্রফ জানান, ম্যাসাজ বুকিংয়ের কাজ ছিল সংক্ষিপ্ত ফোনকলের মাধ্যমে সময় নির্ধারণ করা। কেউ তাকে কখনো বলেনি যে ওই নারীরা অপ্রাপ্তবয়স্ক বা নির্যাতনের শিকার। তিনি দাবি করেন, যদি বিষয়টি জানতেন তাহলে কখনো নীরব থাকতেন না।
তিনি আরও সাক্ষ্য দেন যে এপস্টেইন কখনো তাকে নির্যাতন করেননি। একই সঙ্গে এপস্টেইন ও গিজেলেইন ম্যাক্সওয়েল তাকে তাদের বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে নিরুৎসাহিত করতেন।
এপস্টেইনের গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি সামাজিকভাবে একঘরে হয়ে পড়েছেন, মৃত্যুর হুমকি পেয়েছেন এবং তার পরিবারও হয়রানির শিকার হয়েছে বলে জানান গ্রফ।
ভুক্তভোগীদের উদ্দেশে গ্রফ বলেন, এই নারীদের জন্য আমার হৃদয় ভেঙে যায়। আমি তাদের বিশ্বাস করি। আমি কতটা খারাপ অনুভব করি তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় যে, যেসব সময়ে এপস্টেইন এসব নারীর ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন, সে সময় আমি তার কর্মচারী ছিলাম। এই ভয়াবহ অনুভূতি আমাকে সারাজীবন বহন করতে হবে।
তবে, তার এই অজ্ঞতার দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন কিছু ভুক্তভোগী ও আইনপ্রণেতা। ভুক্তভোগী সারলেনে রোচার্ড বলেন, গ্রফের বক্তব্য তার অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলে না। আর কংগ্রেসম্যান স্টিফেন লিঞ্চ প্রশ্ন তোলেন, ১৮ বছর এপস্টেইনের সঙ্গে কাজ করার পরও তিনি কীভাবে কিছুই জানতেন না। গ্রফ একাধিকবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ও এপস্টেইনের মধ্যে ফোনালাপের ব্যবস্থা করেছিলেন।
গ্রফ দাবি করেন, যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার পর এপস্টেইন তাকে বিশ্বাস করিয়েছিলেন যে, তাকে ফাঁসানো ও ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে।
কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার গ্রফের সাক্ষ্যকে খোলামেলা বলে বর্ণনা করলেও উল্লেখ করেন যে, কিছু বক্তব্য ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে মেলে না।
উল্লেখ্য, ২০০১ সাল থেকে এপস্টেইনের হয়ে কাজ করা গ্রফ তার (এপেস্টেইনের) সময়সূচি, ভ্রমণ এবং যোগাযোগের বিষয়গুলো পরিচালনা করতেন। ভুক্তভোগীদের অনেকে তাকে এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
সূত্র: সিএনবিসি
কেএম
What's Your Reaction?