১৮ মাস আরামে ছিলেন, সেটা এখন হচ্ছে না: বিরোধীদলকে নৌ প্রতিমন্ত্রী
কয়েকদিন ধরে বিরোধীদলের সদস্যদের মধ্যে খুব অস্থিরতা লক্ষ্য করছেন বলে সংসদে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি বলেছেন, ‘আমি খোঁজার চেষ্টা করেছি কী কারণে অস্থিরতা। আমি একটি জিনিস খুঁজে পেয়েছি।...গত ১৮ মাস (অন্তর্বর্তী সরকারের সময়) যে আরামে ছিলেন, সেই আরাম এখন হচ্ছে না। এ কারণে অনেক সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।’ রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজিব আহসান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রথম দিকে ঠিকই ছিল। কয়েক দিন যাবৎ খুব একটা অস্থিরতা লক্ষ্য করছি, আমাদের বিরোধীদলের সদস্যদের মধ্যে। আমি খোঁজার চেষ্টা করেছি যে কী কারণে অস্থিরতা। আমি একটি জিনিস খুঁজে পেয়েছি। অস্থিরতার কারণটি হলো—ওয়ান ইলেভেনে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল সেই সরকারটি সম্পর্কে সবাই জানেন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলা হতো।আর গত ১৮ মাস যে সরকারটি ছিল, সেই সরকারটি কিন্তু আজকের যারা বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দ আছে, সেই জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি সমর্থিত সরকার হিসেবে সবাই অভিহিত করেছে….। নৌ প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বিরোধীদলের সদস্যরা হইচই শুরু করেন। এ সময়
কয়েকদিন ধরে বিরোধীদলের সদস্যদের মধ্যে খুব অস্থিরতা লক্ষ্য করছেন বলে সংসদে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি বলেছেন, ‘আমি খোঁজার চেষ্টা করেছি কী কারণে অস্থিরতা। আমি একটি জিনিস খুঁজে পেয়েছি।...গত ১৮ মাস (অন্তর্বর্তী সরকারের সময়) যে আরামে ছিলেন, সেই আরাম এখন হচ্ছে না। এ কারণে অনেক সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।’
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজিব আহসান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রথম দিকে ঠিকই ছিল। কয়েক দিন যাবৎ খুব একটা অস্থিরতা লক্ষ্য করছি, আমাদের বিরোধীদলের সদস্যদের মধ্যে। আমি খোঁজার চেষ্টা করেছি যে কী কারণে অস্থিরতা। আমি একটি জিনিস খুঁজে পেয়েছি। অস্থিরতার কারণটি হলো—ওয়ান ইলেভেনে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল সেই সরকারটি সম্পর্কে সবাই জানেন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলা হতো।
আর গত ১৮ মাস যে সরকারটি ছিল, সেই সরকারটি কিন্তু আজকের যারা বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দ আছে, সেই জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি সমর্থিত সরকার হিসেবে সবাই অভিহিত করেছে….।
নৌ প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বিরোধীদলের সদস্যরা হইচই শুরু করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, গত ১৮ মাস যে আরামে ছিলেন। সেই আরাম এখন হচ্ছে না। এই কারণে অনেক সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। আমি প্রমাণ দিয়ে দেখাতে পারবো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন নেতা, তার বক্তব্য আছে, সে একজনের সঙ্গে গল্প করছে, বলছে যেইভাবে আমরা কাটিয়েছি। মন চেয়েছে প্রধান উপদেষ্টার বাসায় ঢুকে গিয়েছি, মন চেয়েছে তার বেডরুমে ঢুকে গিয়েছি, মন চেয়েছে সচিবের রুমে ঢুকে গিয়েছি। এখন তো আর সে সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। সমস্যাটা এ জন্যই।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন নিয়ে কথা হয়েছে। অন্ততপক্ষে তিনজন সংসদ সদস্য বক্তব্য দিয়েছেন। রেকর্ড আছে আপনার (স্পিকার) কাছে। একজন বলেছেন ৮৪৪ জন শহীদ হয়েছেন, একজন বলেছেন এক হাজারের ওপরে শহীদ হয়েছেন। একজন বলেছেন ১,৪০০ শহীদ হয়েছেন। আমি যতটুকু পড়াশোনা করে দেখেছি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন হাসপাতালের সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে বলেছিল ১,৪০০ এর অধিক শহীদ হয়েছেন এবং এটা জাতিসংঘও বলার চেষ্টা করেছে। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় একটি গ্যাজেট প্রকাশ করেছে, তাতে ৮৪৪ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন সমস্যাটা কোন জায়গাটায়? আমি একটি কথা আপনাদের বলতে চাই, একটি উদ্ধৃতি দিয়েই বলতে চাই। মাননীয় বিরোধীদলের নেতা, আমি ওনাকে খুবই পছন্দ করি, খুব সুন্দর কথা বলেন, আদবের সঙ্গে কথা বলেন। গত ১৪ এপ্রিল একটি অনুষ্ঠানে উনি বলেছেন, ১,৪০০ শহীদের মধ্যে ১,২০০ শহীদের বাসায় যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।
রাজিব আহসান বলেন, সরকারি গেজেটে ৮৪৪ জন শহীদের কথা বলা হয়েছে। উনি (বিরোধীদলীয় নেতা) ১,৪০০ শহীদের মধ্যে ১,২০০ জনের বাসায় কীভাবে গেলেন? এটাতো আমি বুঝতে পারছি না। উনি যদি যেয়ে থাকেন কোনো আপত্তি নেই, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমরা প্রকৃত সংখ্যাটা জানতে চাই।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন হয়েছে। এক বছর দুই বছর হয় নাই। এখনই স্মৃতির বিস্মৃতিতে অনেক কিছু হারিয়ে যদি যায়, ১০ বছর ২০ বছর পরে এই ইতিহাস বিকৃতি হয়ে কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে? মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে যে ধরনের একটি ব্যবসা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে যে ব্যবসা আমরা দেখেছি গত ৫৪ বছর, আমরা চাই না এই জুলাইকে কেন্দ্র করে নতুন করে ব্যবসা শুরু হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ব্যবসা বন্ধ করার জন্য প্রকৃত ইতিহাস, কতজন শহীদ হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় আমরা জানতে চাই। উনি আরেকটি কথা বলেছেন, শহীদরা সবাই শিক্ষিত ছাত্র বা রাজনীতিবিদ নন, তারা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ভালো কথা। কিন্তু এই শহীদদের বড় অংশ তো রাজনীতিবিদদের আহ্বানে এখানে শরিক হয়েছেন। এই নেতৃত্বের অধীনে এই সংগ্রামে যারা শরিক হয়েছেন, তাদের অস্তিত্বকে যদি অস্বীকার করি, তাহলে শহীদদের ওপরে এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের ওপরে অবিচার হয়ে যাবে।
রাজিব আহসান বলেন, আমরা বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। সরকার ভুল করলে বলবেন, সমালোচনা করবেন, কার্টুন করবেন। কিন্তু আমার নেত্রী (খালেদা জিয়া) মারা গেছেন, তাকে উদ্দেশ্য করে আপনাদের কর্মীরা অশালীন বক্তব্য দেয়। প্রধানমন্ত্রী আছেন, তার অবশ্যই সমালোচনা করা যাবে। সেটা নিয়মের মধ্যে করেন।
প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী এটিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
পরে জবাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তিনি (প্রতিমন্ত্রী) বলেছেন, শহীদদের সংখ্যা যদি ৮০০ প্লাস হয়, তাহলে আমি ১,২০০ বাড়িতে গেলাম কীভাবে? ফ্যামিলিতে গেলাম কীভাবে? বিরোধীদলীয় নেতা বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান সংসদ কক্ষে ছিলেন না।
বিরোধীদলীয় নেতা বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, সালাহউদ্দিন (সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু) সাহেব তার বক্তব্যে নিজেই বলেছেন যে, শুধু জাতীয়তাবাদী দল এবং তার অঙ্গ সংগঠনের লোকরাই শহীদ হয়েছে ১,০০০ এর ওপরে। আমি যদি তার কথাটাই সমর্থন করি, তাহলে হিসাব এখান থেকেই তিনি (রাজীব আহসান) পাবেন, আমার কাছে কষ্ট করে আসতে হবে না।
বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, ‘দুই নম্বর, আমি কোনো বানোয়াট কথা বলিনি। এই ব্যাপারে আমাদের কাছে একটা কমপ্লিট প্রোফাইল আছে, এখানে উপস্থিত অনেকে আমাদের সেই প্রোফাইল পেয়েছেন। আমাদের ওয়েবসাইটে এটা এভেইলেবল। চেক এবং ক্রস চেক করে আমরা নিশ্চিত হওয়ার পরে এই তালিকাগুলো করেছি।
এমওএস/এমএমকে
What's Your Reaction?