২০ বছর পর জাকসু নির্বাচন, উৎসবমুখর ক্যাম্পাস
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এই নির্বাচন ঘিরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো ক্যাম্পাসে। ২০ বছরের অচলায়তন ভেঙে মঙ্গলবার ১৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর আগে গেল বছর ৩০ ডিসেম্বর এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো। সেদিন ভোরে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন ২০২৫ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তবে দিনভর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ (৬ জানুয়ারি) জানায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, ২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর দীর্ঘ ২০ বছর পার হলেও এই ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের দেখা মেলেনি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এই নির্বাচন ঘিরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো ক্যাম্পাসে। ২০ বছরের অচলায়তন ভেঙে মঙ্গলবার ১৬ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এর আগে গেল বছর ৩০ ডিসেম্বর এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিলো। সেদিন ভোরে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন ২০২৫ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তবে দিনভর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভোটগ্রহণের নতুন তারিখ (৬ জানুয়ারি) জানায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, ২০০৫ সালে কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর দীর্ঘ ২০ বছর পার হলেও এই ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের দেখা মেলেনি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জোরালো দাবির মুখে ক্যাম্পাসে এখন বইছে নির্বাচনি হাওয়া।
বিশ্ববিদ্যালযয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী নওশীন তাসনিম জাগো নিউজকে বলেন, জগন্নাথ যখন কলেজ ছিল, তখন ছাত্র সংসদ ছিল এ দেশের ছাত্র রাজনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পর প্রশাসনের অনীহা, আইনি জটিলতা এবং ছাত্রসংগঠনগুলোর সহাবস্থানের অভাবে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জাকসু অকার্যকর হয়ে আছে। শেষবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল গত শতাব্দীর শেষভাগে।
শিক্ষার্থীদের মূল দাবিসমূহ
সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, ছাত্র সংসদ না থাকায় ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা কম সক্রিয় ছিল। বর্তমানে তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো: প্রতি বছর বা নির্দিষ্ট সময় অন্তর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। ছাত্রদের সমস্যার কথা সরাসরি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরার প্ল্যাটফর্ম তৈরি। সব রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। এছাড়া ক্যাফেটেরিয়া, আবাসন এবং পরিবহন সমস্যার সমাধানে ছাত্র প্রতিনিধিদের ভূমিকা রাখা।
ক্যাম্পাসে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মী এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জকসু নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা গঠনতন্ত্র সংশোধন এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজ শুরু করতে আগ্রহী। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা এবং সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন জাকসু জরুরি?
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রাইসুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হলো তার ছাত্র সংসদ। জকসু সচল থাকলে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে একটি বৈধ কণ্ঠস্বর নিশ্চিত হবে। নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। ক্যাম্পাসে দখলদারিত্ব বা লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির বদলে ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি প্রধান হবে। নিয়মিত জকসু নির্বাচন গণতান্ত্রিক চর্চা শক্ত করবে, প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়াবে। সুষ্ঠু, নিরাপদ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলবে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, জাকসু কেবল একটি নির্বাচন নয়। এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতীক। দীর্ঘদিনের জট কাটিয়ে যদি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয় তবে এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
কীভাবে হচ্ছে আয়োজন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। তবে ৩টার মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করবেন, তারা সবাই ভোট দিতে পারবেন।
ভোটার ও ভোটকেন্দ্র
নির্বাচনের ব্যাপকতা ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক আয়োজন হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জকসু নির্বাচনের জন্য ৩৮টি এবং হল সংসদ নির্বাচনের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদে ১৬ হাজার ৬৪৫ জন এবং হল সংসদে ১ হাজার ২৪২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
স্বচ্ছতা ও আধুনিকায়ন: ডিজিটাল সুরক্ষা
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের যাদের আইডি কার্ডের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, তারা নির্বাচন কমিশনের পোর্টাল থেকে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে ডিজিটাল ভোটার কার্ড সংগ্রহ করে ভোট দিতে পারবেন।
ক্যাম্পাসের তিনটি বড় ডিজিটাল বোর্ডে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নির্বাচনের গতিবিধি সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করা হবে।
প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবেন। পরে সব কেন্দ্রের তথ্য সমন্বয় করে চূড়ান্ত ফলাফল দেবে কমিশন।
নিরাপত্তার চাদরে ক্যাম্পাস
নির্বাচনি সহিংসতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেও আলাদাভাবে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশের একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
এমডিএএ/এমআইএইচএস/এমএস
What's Your Reaction?