২০২০ সালের নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেছে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ সংক্রান্ত কিছু গোয়েন্দা নথিও অবমুক্ত (ডিক্লাসিফাই) করেছেন বলে জানান তিনি। এদিন স্থানীয় সময় রাত ৯টায় হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ভাষণে এমন দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আজ রাতে আমি নির্বাচনী সিস্টেমে থাকা চমকে দেওয়া দুর্বলতাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করার ঘোষণা দিচ্ছি।’ ‘এই তথ্য-প্রমাণ দেখাবে, আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা হ্যাকিং, অপব্যবহার ও বিদেশি হস্তক্ষেপের জন্য বিপজ্জনকভাবে উন্মুক্ত—যে আগে কখনও কল্পনা করা হয়নি,’  দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বহু বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে।’ চীন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের বিপুল পরিমাণ ‘হাতিয়ে নিচ্ছে’ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এসব তথ্যের মধ্যে ছিল নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, রাজনৈতিক দলীয় পছন্দ এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও অন্যান্য অসৎ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সংবেদনশীল তথ্য।’ তবে যুক্তরাষ

২০২০ সালের নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেছে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ সংক্রান্ত কিছু গোয়েন্দা নথিও অবমুক্ত (ডিক্লাসিফাই) করেছেন বলে জানান তিনি। এদিন স্থানীয় সময় রাত ৯টায় হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ভাষণে এমন দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আজ রাতে আমি নির্বাচনী সিস্টেমে থাকা চমকে দেওয়া দুর্বলতাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করার ঘোষণা দিচ্ছি।’ ‘এই তথ্য-প্রমাণ দেখাবে, আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা হ্যাকিং, অপব্যবহার ও বিদেশি হস্তক্ষেপের জন্য বিপজ্জনকভাবে উন্মুক্ত—যে আগে কখনও কল্পনা করা হয়নি,’  দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, বহু বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে।’ চীন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের বিপুল পরিমাণ ‘হাতিয়ে নিচ্ছে’ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এসব তথ্যের মধ্যে ছিল নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, রাজনৈতিক দলীয় পছন্দ এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও অন্যান্য অসৎ কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সংবেদনশীল তথ্য।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের তথ্য সাধারণত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সরকারি নথি হিসেবে পাওয়া যায়। ট্রাম্পের দাবি, প্রকাশিত নথিতে ২০২০ সালের নির্বাচনে চীনের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টাসংক্রান্ত তথ্য ‘ডিপ স্টেট’ ‘খাটো করে দেখানোর’ চেষ্টা করেছিল। এদিকে নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ ও আইনপ্রণেতারা সতর্ক করেছেন, অবমুক্ত করা এসব গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করতে পারেন। ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ‘প্রেসিডেন্ট ও আমেরিকান জনগণ—উভয়ের কাছ থেকেই এসব তথ্য গোপন রেখেছিল, যা কেউ কল্পনাও করেনি।’ তবে ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ২০২১ সালের জানুয়ারির মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, চীন শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেনি। যদিও সংখ্যালঘু মতামতে বলা হয়েছিল, চীন ট্রাম্পবিরোধী জনমত গড়ে তোলার কিছু চেষ্টা করেছিল। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করে বলেন, নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন এমন মার্কিন সাংবাদিকদের শনাক্ত করে তাদের আরও বেশি নেতিবাচক লেখা প্রকাশের জন্য অর্থ দিতে চেয়েছিল বেইজিং। তিনি বলেন, ‘চীনা সরকার এমন মার্কিন সাংবাদিকদের শনাক্ত করতে চেয়েছিল, যারা প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন করেছিল। এরপর তাদের বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে আরও বেশি নেতিবাচক লেখা লিখতে উৎসাহিত করতে চেয়েছিল। তারা কী লিখছে, তা নিয়ে চীনের কোনো মাথাব্যথা ছিল না।’ তবে এ দাবির পক্ষে ট্রাম্প কোনো উদাহরণ উপস্থাপন করেননি। তিনি আরও বলেন, ‘চীনা সরকার চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যেন পরবর্তী নির্বাচনে হেরে যান।’ ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত ভোটগ্রহণের যন্ত্র (ভোটিং মেশিন) হ্যাক করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার বহুদিন ধরেই জানে, এই মেশিনগুলো আক্রমণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’ এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’। ট্রাম্প একটি গোয়েন্দা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আমাদের মূল্যায়ন হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ—অন্তত রাশিয়া, চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়া এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রবহির্ভূত গোষ্ঠী—যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করার সক্ষমতা রাখে।’ সবশেষে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’। তিনি পুরোনো এবং বহুবার খণ্ডিত অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরে বলেন, ভোটার তালিকায় নাগরিক নয় ও মৃত—এমন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, ‘প্রকাশিত এসব তথ্য এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরছে, যা এতটাই ভেঙে পড়েছে এবং এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, এর পক্ষে কোনোভাবেই সাফাই গাওয়া সম্ভব নয়। এটি রক্ষা করার মতো কোনো ব্যবস্থা নয়।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow