২১ বছর পর বাবা-মায়ের কাছে ফিরলেন রিনা
রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে সাত বছর বয়সে হারিয়ে যায় ছোট্ট রিনা আক্তার। দীর্ঘ ২১ বছর পর জন্মদাতা বাবা-মায়ের বুকে ফিরেছেন রিনা। বুধবার (১৫ জুলাই) দীর্ঘ ২১ বছর পর রিনা গাংনীতে বাবার বর্তমান বাড়িতে ফিরে আসেন। হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। রিনা আক্তার মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মহিষাখোলা গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে। তিনি ৩ সন্তানের জননী। বর্তমানে তার বাবার বসবাস গাংনী পৌর এলাকার সন্ধ্যানী স্কুলপাড়ায়। রিনা জানান, ছোটোবেলায় দাদির সঙ্গে বাবার কাছে ঢাকায় যাওয়ার পথে গাবতলীতে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যান তিনি। পরে একটি বাসে উঠে পড়লে বাসের হেলপার তাকে গাউছিয়া এলাকায় নামিয়ে দেন। সেখানে ঘুরতে থাকলে এক নারী তাকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের দুপ্তারা ইউনিয়নের দরি সত্যবান্দী (বড় বীনারচর) গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব মাস্টারের কাছে নিয়ে যান। রিনা আরও জানান, তিন ছেলের জনক হলেও কোনো কন্যাসন্তান না থাকায় মোতালেব মাস্টার রিনাকে নিজের মেয়ের মতো লালন-পালন করেন। তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করান এবং পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগ করে দেন। পরবর্তীতে পড়াশোনা বন্ধ হলেও স্নেহ-ভালোবাসার কোনো কমতি
রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে সাত বছর বয়সে হারিয়ে যায় ছোট্ট রিনা আক্তার। দীর্ঘ ২১ বছর পর জন্মদাতা বাবা-মায়ের বুকে ফিরেছেন রিনা।
বুধবার (১৫ জুলাই) দীর্ঘ ২১ বছর পর রিনা গাংনীতে বাবার বর্তমান বাড়িতে ফিরে আসেন। হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
রিনা আক্তার মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মহিষাখোলা গ্রামের আব্দুর রহমানের মেয়ে। তিনি ৩ সন্তানের জননী। বর্তমানে তার বাবার বসবাস গাংনী পৌর এলাকার সন্ধ্যানী স্কুলপাড়ায়।
রিনা জানান, ছোটোবেলায় দাদির সঙ্গে বাবার কাছে ঢাকায় যাওয়ার পথে গাবতলীতে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যান তিনি। পরে একটি বাসে উঠে পড়লে বাসের হেলপার তাকে গাউছিয়া এলাকায় নামিয়ে দেন। সেখানে ঘুরতে থাকলে এক নারী তাকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের দুপ্তারা ইউনিয়নের দরি সত্যবান্দী (বড় বীনারচর) গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব মাস্টারের কাছে নিয়ে যান।
রিনা আরও জানান, তিন ছেলের জনক হলেও কোনো কন্যাসন্তান না থাকায় মোতালেব মাস্টার রিনাকে নিজের মেয়ের মতো লালন-পালন করেন। তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করান এবং পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার সুযোগ করে দেন। পরবর্তীতে পড়াশোনা বন্ধ হলেও স্নেহ-ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। ২০১৪ সালে মাহবুব নামে এক যুবকের সঙ্গে রিনার বিয়ে হয়। তবে জন্মদাতা বাবা-মাকে খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কখনোই হারিয়ে যায়নি।
রিনার বাবা আব্দুর রহমান জানান, ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় থাকতেন। মেয়ে দাদির সঙ্গে তার কাছে আসার পথে গাবতলীতে হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েকে আর খুঁজে পাননি। মেয়েকে হারানোর বেদনার পাশাপাশি তাকে মেয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অপবাদও সহ্য করতে হয়েছে।
অবশেষে চার মাস আগে আব্দুর রহমান জনপ্রিয় উপস্থাপক আরজে কিবরিয়ার ‘আপন ঠিকানা’ অনুষ্ঠানে মেয়ের তথ্য পাঠান। অপরদিকে রিনার স্বামীও তার স্ত্রীর জন্মদাতা বাবা-মায়ের সন্ধান চেয়ে তথ্য পাঠান। উভয় পক্ষের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে গত ১৩ জুলাই নিশ্চিত হওয়া যায়, রিনাই সেই ২১ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া শিশু।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ছোটোবেলা থেকেই শুনে আসছি আব্দুর রহমান চাচার মেয়ে হারিয়ে গেছে। এত বছর পর ‘আপন ঠিকানা’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেয়েকে ফিরে পাওয়ার ঘটনা আমাদের সবাইকে আনন্দিত করেছে। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
দীর্ঘ ২১ বছর পর রিনা গাংনীতে বাবার বর্তমান বাড়িতে ফিরে আসেন। তাকে একনজর দেখতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা উৎসুক মানুষ। আবেগঘন পুনর্মিলনের সেই মুহূর্তে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। সাত বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া সেই রিনা আজ তিন সন্তানের জননী। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাবা-মা ফিরে পেলেন তাদের হারিয়ে যাওয়া আদরের সন্তান, আর রিনাও ফিরে পেলেন নিজের শিকড় ও জন্মদাতা পরিবার।
What's Your Reaction?