৩৬ ট্রফির মালিক আনচেলত্তির কাঁধে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন

কার্লো আনচেলত্তি- ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও সম্মানিত কোচ। শান্ত স্বভাব, অসাধারণ খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার কারণে তিনি বিশ্ব ফুটবলে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। ভ্রু উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা তার পরিচিত ভঙ্গি যেমন বিখ্যাত, তেমনি বিখ্যাত তার ট্রফিভরা কোচিং ক্যারিয়ারও। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে তিনি এখন নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সেলেসাওদের ২০০২ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার দায়িত্ব এখন এই ইতালিয়ান কিংবদন্তির কাঁধে। ফুটবল কোচ হিসেবে আনচেলত্তির অর্জন বিস্ময়কর। তার দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে তিনি ১,৪১৩টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে জয় পেয়েছেন ৮৪৫ ম্যাচে, ড্র করেছেন ৩০৭টি এবং হেরেছেন ২৬১টি ম্যাচ। তার সামগ্রিক জয়ের হার ৫৯.৮০ শতাংশ, যা আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচিত হয়। ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ। স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জয়ের পর ২০২৫ সালে তিনি ব্রাজিলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জাতীয় দল পর্যায়ে এটি তার প্রথম বড় দায়িত্ব এবং

৩৬ ট্রফির মালিক আনচেলত্তির কাঁধে ব্রাজিলের হেক্সা জয়ের স্বপ্ন

কার্লো আনচেলত্তি- ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও সম্মানিত কোচ। শান্ত স্বভাব, অসাধারণ খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার কারণে তিনি বিশ্ব ফুটবলে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। ভ্রু উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা তার পরিচিত ভঙ্গি যেমন বিখ্যাত, তেমনি বিখ্যাত তার ট্রফিভরা কোচিং ক্যারিয়ারও। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে তিনি এখন নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সেলেসাওদের ২০০২ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়ার দায়িত্ব এখন এই ইতালিয়ান কিংবদন্তির কাঁধে।

ফুটবল কোচ হিসেবে আনচেলত্তির অর্জন বিস্ময়কর। তার দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারে তিনি ১,৪১৩টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে জয় পেয়েছেন ৮৪৫ ম্যাচে, ড্র করেছেন ৩০৭টি এবং হেরেছেন ২৬১টি ম্যাচ। তার সামগ্রিক জয়ের হার ৫৯.৮০ শতাংশ, যা আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচিত হয়।

ব্রাজিল জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ। স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জয়ের পর ২০২৫ সালে তিনি ব্রাজিলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জাতীয় দল পর্যায়ে এটি তার প্রথম বড় দায়িত্ব এবং অনেকের মতে, ব্রাজিলের মতো ফুটবল-পাগল দেশের কোচ হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন চাকরিগুলোর একটি।

তবে কোচ হওয়ার আগে আনচেলত্তি নিজেও ছিলেন একজন অসাধারণ ফুটবলার। মিডফিল্ডার হিসেবে তিনি ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এএস রোমার হয়ে সাফল্যের স্বর্ণযুগের অন্যতম সদস্য ছিলেন। পরে কিংবদন্তি কোচ আরিগো সাক্কির অধীনে এসি মিলানে খেলেন এবং টানা দুটি ইউরোপিয়ান কাপ জয়ের স্বাদ পান। মাঠের ভেতরে একজন কৌশলী মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত আনচেলত্তি সেই অভিজ্ঞতাকেই পরবর্তীতে কোচিং ক্যারিয়ারে কাজে লাগিয়েছেন।

১৯৯২ সালে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর কোচিংয়ে পা রাখেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা কৌশলবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। এসি মিলানে তিনি বিখ্যাত ৪-৩-২-১ ‘ক্রিসমাস ট্রি’ ফরমেশন জনপ্রিয় করেন। আবার রিয়াল মাদ্রিদে গিয়ে গ্যালাকটিকো তারকাদের সামর্থ্যের সঙ্গে মানিয়ে দল সাজিয়েছেন। আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তিনি কখনও খেলোয়াড়দের নিজের কৌশলের মধ্যে জোর করে ঢোকানোর চেষ্টা করেন না; বরং খেলোয়াড়দের গুণাবলির ভিত্তিতে কৌশল তৈরি করেন।

ফুটবল ইতিহাসে একমাত্র কোচ হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি লিগে শিরোপা জয়ের কীর্তিও তার। ইতালিতে এসি মিলান, ইংল্যান্ডে চেলসি, ফ্রান্সে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি), জার্মানিতে বায়ার্ন মিউনিখ এবং স্পেনে রিয়াল মাদ্রিদকে লিগ শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি। এই অনন্য অর্জন তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্লাব কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও তার আধিপত্য অবিশ্বাস্য। রেকর্ড পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন তিনি, যা এখনো অন্য কোনো কোচ করতে পারেননি। বড় ম্যাচের চাপ সামলানো এবং নকআউট পর্বে দলকে সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার দক্ষতা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর নতুন গন্তব্য হিসেবে তিনি বেছে নেন ব্রাজিলকে। সেলেসাওদের দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১২টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। এর মধ্যে জয় এসেছে ৭টিতে, ড্র ২টি এবং হার ৩টি ম্যাচে। ব্রাজিলের কোচ হিসেবে তার জয়ের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘এটি আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা এবং নতুন দায়িত্ব। ফুটবলের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা সত্যিই বিশেষ কিছু। দুটি শব্দে বলতে গেলে-দায়িত্ব এবং সম্মান। আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সুন্দর ও অনন্য মুহূর্ত এটি।’

বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচের আগে তিনি দলের আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেন, ‘আমাদের এমন একটি দল আছে, যারা বিশ্বের যেকোনো দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। আমরা সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত। এই দলে যেমন মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে, তেমনি অভিজ্ঞতাও আছে। সবচেয়ে বড় কথা, নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে তাদের পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে।’

নিজের স্বভাব সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘আমি স্বভাবগতভাবেই আশাবাদী। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী যে আমরা ভালোভাবে প্রস্তুত। আমরা বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করতে পারব।’

তবে প্রতিপক্ষকে মোটেও হালকাভাবে দেখছেন না আনচেলত্তি। মরক্কো সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলে কোনো ছোট দল নেই। মরক্কো আফ্রিকার অন্যতম সেরা দল। তাদের বিপক্ষে জিততে হলে আমাদের সব বিভাগে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স করতে হবে।’

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ইতিহাস যেমন গৌরবময়, তেমনি ২০০২ সালের পর শিরোপা না জেতার হতাশাও রয়েছে। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন দায়িত্ব দিয়েছে এমন একজন কোচকে, যিনি ক্লাব ফুটবলের প্রায় সব বড় শিরোপাই জিতেছেন। এখন দেখার বিষয়, ক্লাব ফুটবলে ইতিহাস গড়া কার্লো আনচেলত্তি জাতীয় দল পর্যায়েও একই সাফল্যের গল্প লিখতে পারেন কি না।

যদি তিনি ব্রাজিলকে ২০২৬ বিশ্বকাপ জিতাতে পারেন, তাহলে ইতোমধ্যেই কিংবদন্তির মর্যাদা পাওয়া এই ইতালিয়ান কোচের নাম ফুটবল ইতিহাসে আরও উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা থাকবে।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow