৪০ বছরেও গড়ে উঠেনি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র, ব্রিজেই সীমাবদ্ধ ঈদ আনন্দ

চার দশকের বেশি সময় পার হলেও পিরোজপুরে গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক মানের বিনোদন কেন্দ্র। ফলে জেলাবাসীর ঈদ আনন্দ এখন শুধুই বলেশ্বর ও নবনির্মিত বেকুটিয়া (অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী) সেতুর ওপর সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। মহাসড়কের ওপর এই উপচে পড়া ভিড়ের কারণে একদিকে যেমন যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে বাড়ছে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পিরোজপুর সদর উপজেলার বলেশ্বর সেতু ও বেকুটিয়া সেতুই এখন জেলার প্রধান ‘পর্যটন কেন্দ্র’। ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিন এই সেতু দুটিতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। পদ্মা সেতু চালুর পর এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বাড়লেও চলন্ত গাড়ির মাঝেই ঝুঁকি নিয়ে সেলফি ও আড্ডায় মাতছেন পর্যটকরা। জেলা প্রশাসনের অধীনে ‘ডিসি পার্ক’ থাকলেও আধুনিকতার ছোঁয়া না থাকায় সেখানে দর্শনার্থীদের আগ্রহ কম। স্থানীয়রা বলছেন, পিরোজপুরে ঘুরতে যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা না থাকায়, বাধ্য হয়েই এই ব্রিজে আসতে হয়। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। পিরোজপুর জেলায় একটি মানসম্মত আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র থাকলে ঈদ আনন্দ আরও কয়েক গুন বেড়ে যেত। তারা বলছেন, পিরোজপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর

৪০ বছরেও গড়ে উঠেনি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র, ব্রিজেই সীমাবদ্ধ ঈদ আনন্দ

চার দশকের বেশি সময় পার হলেও পিরোজপুরে গড়ে ওঠেনি কোনো আধুনিক মানের বিনোদন কেন্দ্র। ফলে জেলাবাসীর ঈদ আনন্দ এখন শুধুই বলেশ্বর ও নবনির্মিত বেকুটিয়া (অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী) সেতুর ওপর সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। মহাসড়কের ওপর এই উপচে পড়া ভিড়ের কারণে একদিকে যেমন যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে বাড়ছে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পিরোজপুর সদর উপজেলার বলেশ্বর সেতু ও বেকুটিয়া সেতুই এখন জেলার প্রধান ‘পর্যটন কেন্দ্র’। ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েকদিন এই সেতু দুটিতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। পদ্মা সেতু চালুর পর এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বাড়লেও চলন্ত গাড়ির মাঝেই ঝুঁকি নিয়ে সেলফি ও আড্ডায় মাতছেন পর্যটকরা। জেলা প্রশাসনের অধীনে ‘ডিসি পার্ক’ থাকলেও আধুনিকতার ছোঁয়া না থাকায় সেখানে দর্শনার্থীদের আগ্রহ কম।

স্থানীয়রা বলছেন, পিরোজপুরে ঘুরতে যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা না থাকায়, বাধ্য হয়েই এই ব্রিজে আসতে হয়। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। পিরোজপুর জেলায় একটি মানসম্মত আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র থাকলে ঈদ আনন্দ আরও কয়েক গুন বেড়ে যেত।

৪০ বছরেও গড়ে উঠেনি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র, ব্রিজেই সীমাবদ্ধ ঈদ আনন্দ

তারা বলছেন, পিরোজপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে একটি স্থায়ী ও আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুললে একদিকে যেমন জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে জেলার অর্থনীতিতেও নতুন গতি আসবে।

কাউখালী থেকে ঘুরতে আসা রহিম রেজা বলেন, অনেকটা বাধ্য হয়েই এই ব্রিজে আসতে হয়। আমাদের সঙ্গে বাচ্চা- পরিবারের নারী সদস্যরাও থাকে। এজন্য সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। বিগত বছরের ঈদগুলোতেও আমরা দেখেছি এই ব্রিজগুলোতে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এখানে দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গিয়েছে।

রাফিয়া তাবাসসুম বলেন, ঈদ উপলক্ষে বেকুটিয়া ব্রিজে ঘুরতে এসেছি পরিবারের সঙ্গে। একটু আতঙ্ক নিয়ে ভয়ে ভয়ে হাঁটতে হয়, কারণ পিছন থেকে যেকোনো সময় একটি গাড়ি এসে ধাক্কা দিতে পারে। তাই সতর্ক হয়ে চলাফেরা করতে হয়। পিরোজপুরে যদি একটি ভালো বিনোদন কেন্দ্র থাকতো তাহলে আমরা সেখানে ঘুরতে যেতে পারতাম।

৪০ বছরেও গড়ে উঠেনি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র, ব্রিজেই সীমাবদ্ধ ঈদ আনন্দ

পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন কলেজের প্রভাষক জালিস মাহমুদ তিনি বলেন, এখানে ঈদ উপলক্ষে অনেক মানুষের উপস্থিতি হয়েছে। মহাসড়ক হওয়ায় সবসময়ই বাস ট্রাক চলাফেরা করে। যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি হতে পারে। ছোট বড় দুর্ঘটনা তো ঘটতেই থাকে। সরকারের উচিত পিরোজপুরে একটি আধুনিক মানের বিনোদন কেন্দ্র তৈরি করা। যেখানে পিরোজপুরবাসী পরিবার নিয়ে সুন্দরভাবে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে।

পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।

মো. তরিকুল ইসলাম/কেএইচকে/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow