৫ ডুবুরির কাঁধে রংপুরের ৮ জেলা

• জেলা পর্যায়ে নেই ডুবুরি পদ• ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব শেষ• বিভিন্ন জেলায় ছুটে বিপাকে ডুবুরিরাও নদ-নদী, পুকুর ও খাল-বিল বেষ্টিত রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি মাত্র পাঁচজন। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য এই সংখ্যাটি কেবল অপ্রতুলই নয়, বরং চরম উদ্বেগজনক। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো- বিভাগের কোনো জেলায় আলাদা করে কোনো ডুবুরি পদ নেই। সবার ভরসা বিভাগীয় ওই ৫ জন ডুবুরি। একদিকে দিন দিন পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ডুবুরির অভাবে সময়মতো উদ্ধারকাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে উদ্ধার অভিযান শুরুর আগেই ঝরে যাচ্ছে বহু তাজা প্রাণ। আরও পড়ুন ৩০ বছর পর ৩ ডুবুরি পাচ্ছে রংপুর ফায়ার সার্ভিস রংপুর বিভাগে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও এই আটটি জেলা রয়েছে। ভৌগোলিক কারণেই এই অঞ্চলটি নদীমাতৃক এবং বর্ষা মৌসুমে এখানে বন্যা ও নৌকাডুবির মতো দুর্ঘটনাও ঘটে। ‘যদি কখনো পঞ্চগড় থেকে কল আসে তাহলে রংপুর থেকে যেতে কমপক্ষে দুই-আড়াই ঘণ্টা সময়তো লাগেই। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা প্রশ্ন তোলে

৫ ডুবুরির কাঁধে রংপুরের ৮ জেলা

• জেলা পর্যায়ে নেই ডুবুরি পদ
• ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব শেষ
• বিভিন্ন জেলায় ছুটে বিপাকে ডুবুরিরাও

নদ-নদী, পুকুর ও খাল-বিল বেষ্টিত রংপুর বিভাগের আটটি জেলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি মাত্র পাঁচজন। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর জন্য এই সংখ্যাটি কেবল অপ্রতুলই নয়, বরং চরম উদ্বেগজনক। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো- বিভাগের কোনো জেলায় আলাদা করে কোনো ডুবুরি পদ নেই। সবার ভরসা বিভাগীয় ওই ৫ জন ডুবুরি।

একদিকে দিন দিন পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ডুবুরির অভাবে সময়মতো উদ্ধারকাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। ফলে উদ্ধার অভিযান শুরুর আগেই ঝরে যাচ্ছে বহু তাজা প্রাণ।

রংপুর বিভাগে রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও এই আটটি জেলা রয়েছে। ভৌগোলিক কারণেই এই অঞ্চলটি নদীমাতৃক এবং বর্ষা মৌসুমে এখানে বন্যা ও নৌকাডুবির মতো দুর্ঘটনাও ঘটে।

‘যদি কখনো পঞ্চগড় থেকে কল আসে তাহলে রংপুর থেকে যেতে কমপক্ষে দুই-আড়াই ঘণ্টা সময়তো লাগেই। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা প্রশ্ন তোলেন- এতো দেরিতে আসলেন কেন? তাদেরকে কীভাবে বোঝাবেন যে, এই পথের দূরত্ব।’

রংপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, পুরো বিভাগের আট জেলার জন্য অনুমোদিত ডুবুরি রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। কোনো একটি জেলায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে রংপুর থেকে সেখানে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ততক্ষণে নিখোঁজ ব্যক্তির বেঁচে থাকার আশা আর থাকে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডুবুরি যখন আসে, তখন জীবিত উদ্ধারের আর কিছু বাকি থাকে না, শুধু মরদেহটাই পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক সময়ে রংপুর বিভাগে পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঘটনা এখন নিত্যদিনের খবর।

একমাসে প্রাণ ঝরেছে অর্ধশত

রংপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৬ জুন পর্যন্ত সময়ে ২২টি কল (ডাক) পেয়েছে তারা। উদ্ধার অভিযানে গিয়ে পানিতে ডুবে যাওয়া ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে তাদের ডুবুরি দল।

‘ঘটনাস্থলে ডুবুরি পৌঁছে কেবল মরদেহ উদ্ধার করা ছাড়া তার আর কিছুই করার নেই। কেউ ডুবে গেলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করতে না পারলে বাঁচানো কষ্টকর। এজন্য ডুবুরির মতো প্রয়োজনীয় পদ কম রাখা সমীচীন নয়।’

তবে বাস্তবিক অর্থে এই সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। কেবল গত এক মাসের ব্যবধানে রংপুরের বিভিন্ন জেলায় অন্তত অর্ধশত মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

এরমধ্যে ৩ মে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে নীরব নামে তিন বছরের এক শিশু, ১২ মে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়িতে চার বছর বয়সি এক শিশু, ১৬ মে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীতে ডুবে দুই ভাই, ২০ মে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ি কুটিপাড়া গ্রামে সাবিয়া জান্নাত (৬) ও মো. সিয়াম (৪) নামে দুই ভাই-বোন, ২৭ মে গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের মাজারেরপাড় এলাকায় পানিতে ডুবে রুশা মনি (১৫) ও ছোট ভাই সাইফ (৫), ২৮ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে মোমিন আলী নামে এক যুবক, ২৯ মে রংপুরের তারাগঞ্জে বন্ধুদের সঙ্গে যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নেমে অহিদ ইসলাম (১৫) ও মাসুদ রানা (১৬) নামে দুই কিশোর, ৩ জুন দিনাজপুরের খানসামায় আত্রাই নদীতে ডুবে মান্না ইসলাম (৪৫) ও সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে দুই ভাই, ৩১ মে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার শিবেরডাঙ্গী নয়াপাড়া এলাকায় পুকুরের পানিতে ডুবে ৪ বছরের এক শিশু, ১ জুন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পুকুরের পানিতে ডুবে সৃজন কুমার (৬) ও বৃন্দা রানী (৫) নামে দুই শিশু, ৬ জুন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে সিনথিয়া আকতার (১১) নামে এক শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়।

এছাড়া এ মাসের ৩ জুন থেকে ৬ জুন রংপুরের পীরগাছায় ছয় শিশু, ৫ জুন নগরীর ঘাঘট নদীতে নেমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, রোববার (৭ জুন) পঞ্চগড় সদর উপজেলার দশমাইল দক্ষিণ সাহেবীজোত এলাকায় পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই মাদরাসা ছাত্র ও একই দিনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী গ্রামে রুপাইয়া (৪) ও আশফিকা (৪) নামে আপন দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ রোববার (৭ জুন) লালমনিরহাটে ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

৫ জনের ভরসায় পুরো বিভাগ

রংপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে ২৫ জন ডুবুরির একটি ইউনিট ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। পরে তাদেরকে রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

 

সেইসময় রংপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে যোগ দেন দুজন ডুবুরি। দীর্ঘ তিন দশক ধরে দুজন ডুবুরি দিয়ে উদ্ধার কাজ চালানোর পর ২০১৯ সালে আরও তিনজন ডুবুরি যোগ দেন। সেই থেকে পাঁচজন ডুবুরি দিয়ে চলছে পুরো বিভাগের উদ্ধার কাজ। তবে এ সংখ্যাও যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উন্নয়নের ছোঁয়াতেও হয়নি উন্নতি

রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে। পানি গাড়ি, ফোম গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক উপকরণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের চেয়েও কম ডুবুরি থাকায় জরুরি উদ্ধার কাজ কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

বিভাগের জেলা ও উপজেলা ফায়ার সার্ভিসগুলোতে পদ সৃষ্টি না হওয়ায় কোথাও কোনো ডুবুরি নেই। এসব জেলায় সেবা দেওয়ার জন্য রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসে যে ডুবুরি রয়েছেন তারাই কোথাও পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটলে আট জেলায় চষে বেড়ান। ফলে তাদেরকে বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছে।

ভোগান্তিতে ডুবুরিরাও

২০১৭ সালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটে যোগ দেন গাইবান্ধার আবুল কালাম আজাদ।

বর্তমানে রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে কর্মরত এই ডুবুরি কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাগো নিউজকে বলেন, ‘যদি কখনো পঞ্চগড় থেকে কল আসে তাহলে রংপুর থেকে যেতে কমপক্ষে দুই-আড়াই ঘণ্টা সময়তো লাগেই। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা প্রশ্ন তোলেন- এতো দেরিতে আসলেন কেন? তাদেরকে কীভাবে বোঝাবেন যে, এই পথের দূরত্ব।’

আজাদ বলেন, ‘এমনও দিন যায়, পঞ্চগড়ে ২-৩ ঘণ্টা ডিউটি শেষ করে গাইবান্ধা থেকে কল আসে। তখন ওই পথেই গাইবান্ধা চলে যেতে হয়। আবার গাইবান্ধায় কাজ শেষ হতে না হতেই লালমনিরহাট বা অন্য কোনো জেলা থেকে কল আসে। তখন সেখানেও ছুটতে হয়। এভাবে টানা ৫-৭ দিন এক জেলা থেকে আরেক জেলা ছোটার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। যদি ডুবুরির সংখ্যা বাড়ানো যেত তাহলে এই কষ্ট ও ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমতো।’

জরুরি বিভাগের ঢিলেমি প্রক্রিয়া

উদ্ধার তৎপরতা জোরালো করতে ডুবুরির সংখ্যা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই জানিয়ে নগরীর কটকিপাড়ার বাসিন্দা সাবেক রোভার স্কাউট সদস্য সাব্বির আহমেদ বলেন, বর্তমানে সরকারের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিভাগ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। জরুরি প্রয়োজনে সবাই এ বিভাগের সহযোগিতা চায়। এ বিভাগের সব স্তরেই সক্ষমতা রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, ‘পঞ্চগড় থেকে ডুবুরির জন্য ডাক এলে রংপুর থেকে সেখানে পৌঁছাতে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা সময় লাগবে। এই সময় একজন মানুষের পানির নিচে স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার কথা নয়। ঘটনাস্থলে ডুবুরি পৌঁছে কেবল মরদেহ উদ্ধার করা ছাড়া তার আর কিছুই করার নেই। কেউ ডুবে গেলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করতে না পারলে বাঁচানো কষ্টকর। এজন্য ডুবুরির মতো প্রয়োজনীয় পদ কম রাখা সমীচীন নয়।’

প্রয়োজন সচেতনতা

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের একাকি ছেড়ে না দেওয়া, খেলার সময় সঠিক তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করাসহ সচেতন হলে এ ধরনের মৃত্যুর বড় একটি অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের স্কুলশিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, সাঁতার না জেনে পানিতে নামা ঠিক নয়। পাশাপাশি প্রতিটি অভিভাবককে সচেতন হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই শিশুকে একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।

বাংলাদেশ স্কাউটসের লিডার ট্রেইনার সিদ্দিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, যখনই কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ডুবুরি না থাকায় তারা পানির নিচে উদ্ধারকাজ শুরু করতে পারে না। রংপুর বা পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে ডুবুরি কল করে আনা পর্যন্ত যে দীর্ঘ সময় অপচয় হয়, সেটাই ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। রংপুর বিভাগের মতো একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জন্য অন্তত প্রতিটি জেলায় একটি করে পূর্ণাঙ্গ ডুবুরি ইউনিট (প্রতি ইউনিটে অন্তত ৫-৬ জন ডুবুরি) থাকা অত্যন্ত জরুরি।

সেইসঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সাঁতার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, ডুবুরি সংকটের এই চড়া মূল্য রংপুরবাসীকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে দিতে হবে বলেও জানান তিনি।

যা বলছে কর্তৃপক্ষ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান, ‘ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরিদের জন্য জেলায় কোনো পদ নেই। বিভাগীয় অফিসে তাদের পদ। সেখান থেকেই তারা জেলা ও উপজেলায় যান।’

তিনি বলেন, ‘এই জনবল দিয়ে বিশাল এই অঞ্চলের চাহিদা মেটানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসে আরও কিছু ডুবুরি যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে শুনেছি।’

এফএ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow