৫ বছর ধরে জিওব্যাগের ওপর বসবাস, ঝড়-বৃষ্টিতে ভরসা অন্যের বাড়ি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের রমজানকাঠী গ্রামের বাসিন্দা নুরজাহান বেগম ও হাবিবুর রহমান ফকির দম্পতি। একসময় ছিল সাজানো-গোছানো সংসার। তবে সেটা বেশিদিন টেকেনি। সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছেন এই দম্পতি। চার দফা ভাঙনে ৬৫ শতাংশ জমি, বসতভিটা, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরপর থেকে পাঁচ বছর ধরে জিওব্যাগের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ছাপরায় বসবাস করছেন তারা। বর্ষাকালে জোয়ারের পানি কখনো ঘরের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়, আবার কখনো ঘরের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি বা বন্যা দেখা দিলে আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হয় অন্যের বাড়িতে। পঞ্চাশোর্ধ্ব নুরজাহান বেগম প্রায়ই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন সন্ধ্যা নদীর দিকে। নদীর ঢেউয়ের দিকে চেয়ে যেন খুঁজে ফেরেন হারিয়ে যাওয়া জীবনের স্মৃতি। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘জীবনের কত স্মৃতি জড়াইয়া আছে এই জায়গাডায়। একসময় জমিতে ফসল হইতো, সেই ফসল বিক্রি কইরা সংসার চলতো। স্বামীর ৬৫ শতাংশ জমি ছিল, বাড়িঘর আছিল। সব নদী গিল্লা খাইছে। এখন বাকি শুধু আমরা দুইজন।’ কথা বলতে বলতে আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘না খাইয়া থাকলেও লজ্জায় কারও কাছে হাত পাতি না। আল্লাহ যেভাব

৫ বছর ধরে জিওব্যাগের ওপর বসবাস, ঝড়-বৃষ্টিতে ভরসা অন্যের বাড়ি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের রমজানকাঠী গ্রামের বাসিন্দা নুরজাহান বেগম ও হাবিবুর রহমান ফকির দম্পতি। একসময় ছিল সাজানো-গোছানো সংসার। তবে সেটা বেশিদিন টেকেনি।

সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছেন এই দম্পতি। চার দফা ভাঙনে ৬৫ শতাংশ জমি, বসতভিটা, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এরপর থেকে পাঁচ বছর ধরে জিওব্যাগের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ছাপরায় বসবাস করছেন তারা।

বর্ষাকালে জোয়ারের পানি কখনো ঘরের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়, আবার কখনো ঘরের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি বা বন্যা দেখা দিলে আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হয় অন্যের বাড়িতে।

পঞ্চাশোর্ধ্ব নুরজাহান বেগম প্রায়ই অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন সন্ধ্যা নদীর দিকে। নদীর ঢেউয়ের দিকে চেয়ে যেন খুঁজে ফেরেন হারিয়ে যাওয়া জীবনের স্মৃতি। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘জীবনের কত স্মৃতি জড়াইয়া আছে এই জায়গাডায়। একসময় জমিতে ফসল হইতো, সেই ফসল বিক্রি কইরা সংসার চলতো। স্বামীর ৬৫ শতাংশ জমি ছিল, বাড়িঘর আছিল। সব নদী গিল্লা খাইছে। এখন বাকি শুধু আমরা দুইজন।’

কথা বলতে বলতে আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘না খাইয়া থাকলেও লজ্জায় কারও কাছে হাত পাতি না। আল্লাহ যেভাবে রাখছে, সেভাবেই ভালো আছি।’

পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি হাবিবুর রহমান ফকির জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই এলাকায় বেড়ে উঠেছেন। জমিজমা ও পৈতৃক ভিটা ছিল তাদের। রাজমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি কৃষিজমির ফসল দিয়েও ভালোভাবে সংসার চলতো। কিন্তু একের পর এক নদীভাঙনে সবকিছু হারিয়ে ফেলেছেন।

তিনি বলেন, ‘সব কাইরা নিছে নদী। চারবার আমার ঘর নদীতে চইলা গেছে। সব নদীতে নিয়া যাওনের পর সরকার জিওব্যাগ ফেলছে। এখন ওই জিওব্যাগের ওপরই থাকি।’

৫ বছর ধরে জিওব্যাগের ওপর বসবাস, ঝড়-বৃষ্টিতে ভরসা অন্যের বাড়ি

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীভাঙনের দুশ্চিন্তা সহ্য করতে না পেরে তিনবার ব্রেন স্ট্রোক করেছেন হাবিবুর রহমান। বর্তমানে তিনি কানে কম শোনেন এবং আগের মতো ভারী কাজও করতে পারেন না। বয়স ও অসুস্থতার কারণে আয়ও কমে গেছে অনেক।

তাদের দুই ছেলে থাকলেও তারা আলাদা পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। দিন আনে দিন খায় অবস্থায় জীবনযাপন করেন। ফলে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়ানোর সামর্থ্যও সীমিত।

ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব বলেন, ‘হাবিব ফকিরের বাড়ি চারবার নদীতে ভাঙছে। তার সব জমিজমা নদীগর্ভে গেছে। এখন তাদের নিজের কোনো জমি নেই যে সেখানে ঘর তুলে থাকতে পারেন। তাই জিওব্যাগের ওপর দোকানের মতো পাটাতন করে টিনের ছাপরা দিয়ে দুইজন মানুষ বসবাস করছেন।’

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা নদীর ভয়াল ভাঙনে এ অঞ্চলের বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও অনেকেই এখনো ভিটেমাটির মায়ায় নদীপাড় ছাড়তে পারেননি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আহসান হিমু বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ওই দম্পতির জন্য সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা নিয়েও পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক ও হৃদয়বিদারক। পরিবারটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য পরিবারগুলোর জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

শাওন খান/এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow