৮৫তম প্রয়াণ দিবসে সুর-ছন্দে রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে রবীন্দ্রসংগীত ও কবিতা আবৃত্তির এক মনোজ্ঞ সন্ধ্যা। আজ (৬ জুলাই) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে কী-ই বা বলব? তাকে নিয়ে বলতে গেলে একটি জীবনও কম পড়ে যায়। তার সৃষ্টি, চিন্তা ও অবদান এতটাই বিস্তৃত যে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’ তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ কখনোই মৃত্যুবরণ করেন না। তিনি মানুষের হৃদয়ে, তার সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনের মধ্য দিয়ে আজও বেঁচে আছেন। তার চিন্তা বিশ্বের অনেক মনীষীকে প্রভাবিত করেছে। এমনকি বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে তার ভাববিনিময় ইতিহাসের অংশ।’ আরও পড়ুন জায়েদ খানের সঙ্গে নেচে চমকে দিলেন আহমেদ শরীফ দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, একই ব্যক্তির লেখা দুটি দেশের জাতীয় সংগীত ভারতের ‘জন গণ মন’ এবং বাংলাদেশের ‘আমার সোনার বাংলা’ বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। তিনি শ্রীলঙ্কার জাতীয়

৮৫তম প্রয়াণ দিবসে সুর-ছন্দে রবীন্দ্রনাথকে স্মরণ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে রবীন্দ্রসংগীত ও কবিতা আবৃত্তির এক মনোজ্ঞ সন্ধ্যা। আজ (৬ জুলাই) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে কী-ই বা বলব? তাকে নিয়ে বলতে গেলে একটি জীবনও কম পড়ে যায়। তার সৃষ্টি, চিন্তা ও অবদান এতটাই বিস্তৃত যে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ কখনোই মৃত্যুবরণ করেন না। তিনি মানুষের হৃদয়ে, তার সাহিত্য, সংগীত ও দর্শনের মধ্য দিয়ে আজও বেঁচে আছেন। তার চিন্তা বিশ্বের অনেক মনীষীকে প্রভাবিত করেছে। এমনকি বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে তার ভাববিনিময় ইতিহাসের অংশ।’

দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, একই ব্যক্তির লেখা দুটি দেশের জাতীয় সংগীত ভারতের ‘জন গণ মন’ এবং বাংলাদেশের ‘আমার সোনার বাংলা’ বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। তিনি শ্রীলঙ্কার জাতীয় সংগীতের রচয়িতা আনন্দ সমরাকূনের ওপরও রবীন্দ্রনাথের প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ প্রথাগত ও গণ্ডিবদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে মুক্তচিন্তা, মানবিকতা ও প্রকৃতিনির্ভর শিক্ষায় বিশ্বাস করতেন। তাই তার গান, সাহিত্য কিংবা নৃত্য উপভোগের পাশাপাশি তার আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধও ধারণ করা প্রয়োজন।

 

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী স্বপ্নীল সজীব। তিনি ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গান দিয়ে পরিবেশনা শুরু করেন। এরপর আবৃত্তিশিল্পী সামিউল ইসলাম রবীন্দ্রনাথের কবিতা ‘অত চুপি চুপি কেন কথা কও’ আবৃত্তি করেন।

পরে স্বপ্নীল সজীব পরিবেশন করেন ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে’। এ সময় উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা মুগ্ধ হয়ে সংগীত উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত চিঠির একটি অংশও আবৃত্তি করা হয়।

পরবর্তীতে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রসংগীত ‘তুমি রবে নীরবে’, যেখানে উপস্থিত অনেকেই শিল্পীর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে গান করেন। এছাড়া সামিউল ইসলাম একটি প্রেমের কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানে আরও পরিবেশিত হয় ‘ও যে মানে না মানা’, ‘কৃষ্ণকলি আমি তারেই বলি’, ‘ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে’, ‘একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ’ এবং ‘আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার’সহ রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি গান।

 

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশনের সদস্য, বিশিষ্ট শিল্পী, সংস্কৃতিপ্রেমী এবং রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত রবীন্দ্রসংগীতপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।

এমআই/এমএমএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow