৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, যা গত বছর ৪৮টি। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার ৯টি শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান বেড়েছে।
শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে—জামালপুরের সরিষাবাড়ীর চাপারকোনা মোনিয়া আবুল গার্লস হাইস্কুল, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল এবং জামালপুরের ইসলামপুরের কাদামতলী করিপাড়া হাইস্কুল।
দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে অংশ নেওয়া রংপুর বিভাগের আট জেলার ১৮টি বিদ্যালয় থেকে এবার ১২৪ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
শূন্য পাস করা বিদ্যালয়গুলোর হলো—রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও গাসিপুর উচ্চ বিদ্যালয়। গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার উত্তর দামোদরপুর কাজীপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহারপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আমবাড়ী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, সদর উপজেলার পূর্ব কুমারপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার এএম রাথবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয়, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তাওরিগাঁ উচ্চ বিদ্যালয় এবং হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বালারামহাট মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
রাজশাহী বোর্ডের রয়েছে ৫টি শূন্য পাস প্রতিষ্ঠান। শতভাগ ফেল করা স্কুলগুলো হলো—রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার পাকড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘা উপজেলার বানিয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, মোহনপুর উপজেলার আমরাইল উচ্চ বিদ্যালয়, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার পাইলানপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও জয়পুরহাটের পাঁচবিবির শিরট্টি ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়।
ঢাকা বোর্ডেও রয়েছে ৬টি প্রতিষ্ঠান। সেগুলো হলো—টাঙ্গাইলের নাগরপুরের সলিমাবাদ আনোয়ার খান মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বনগ্রাম আতারুননেসা উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার জালদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জঙ্গলিয়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বিদেশ কেন্দ্রের বাংলাদেশের দোয়েল একাডেমি।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় এবার ১১ প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। যশোর বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা নাইশা মাধ্যমিক স্কুল থেকে ৭ জন অংশ নিয়েছিল, তারা সবাই ফেল করেছে। এ ছাড়া আশাশুনির গোদারা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চারজন, শ্যামনগরের সাহেবখালী সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চারজন, দেবহাটার বাবুরাবাদ ধাপুখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চারজন অংশ নিয়ে শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে। খুলনার ডুমুরিয়ার কাটেঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চারজন, খালিশপুরের আসমা সরোয়ার ইসলামিক হাইস্কুল থেকে চারজন ও বাগেরহাটের শরণখোলার ডি এন একতা গার্লস হাইস্কুল থেকে দুজন কৃতকার্য হতে পারেনি। এ ছাড়া যশোরের মনিরামপুর চানদুয়া সমাসকাটি গার্লস হাইস্কুল থেকে তিনজন, হেলাঞ্চি কৃষ্ণবাটি মাধ্যমিক গার্লস স্কুল থেকে একজন, শার্শার সারাতলা জুনিয়র গার্লস হাইস্কুল থেকে দুজন ও মুক্তিযোদ্ধা জি কে জি এস মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে একজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি।
চট্টগ্রামেও ৮টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। এগুলো হলো—ফটিকছড়ির নারায়ণহাট গার্লস হাইস্কুল, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বরকলের আন্দরমানিক (মাইছছড়ি) জুনিয়র হাইস্কুল, লংগদুর মহালছড়ি হাইস্কুল, সন্দ্বীপের উরিরচর জুনিয়র হাইস্কুল, খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুল, দীঘিনালার জারুলছড়ি হেডম্যানপাড়া হাইস্কুল, দীঘিনালার তারাবানিয়া হাইস্কুল এবং বাঘাইছড়ির শিলজাক দজার বাজার জুনিয়র স্কুল।
এ ছাড়াও বরিশাল বোর্ডের ৫টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি। বোর্ডের তথ্যমতে, ঝালকাঠি সদর উপজেলার সাওরাকাঠি নব আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সাতজন পরীক্ষার্থী এবং কাঠালিয়া উপজেলার বানাই রাবেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ছয়জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পিরোজপুর সদর উপজেলার পোরগোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় আটজন। এ ছাড়া বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কেরামত গায়জাউদ্দীন নূরমোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন এবং মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম রতনপুর পঙ্কজ দেবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে সাতজন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এসব বিদ্যালয় থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।