৯০ দিন চা না পান করলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে

চা ছাড়া বেশির ভাগ বাঙালির চলেই না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা, অফিসের ব্যস্ততার ফাঁকে আরেক কাপ, বিকেলের আড্ডায় কয়েক কাপ চা খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু কখনো ভেবেছেন, টানা ৯০ দিন চা না খেলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি হলেও সময়ের সঙ্গে শরীর নতুন অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। তবে এর প্রভাব ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন একাধিক কাপ চা পান করেন, তাদের শরীর প্রথমে ক্যাফেইনের অভাবে কিছু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে ঘুম, শক্তির মাত্রা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। প্রথম ১-২ সপ্তাহে যা হতে পারে যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের জন্য প্রথম দুই সপ্তাহ কিছুটা কঠিন হতে পারে। ক্যাফিনের অভাবে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বিরক্তিভাব, মনোযোগের ঘাটতি এবং বারবার চা খাওয়ার ইচ্ছা দেখা দিতে পারে। অনেকের সাময়িক ঝিমুনিও অনুভূত হতে পারে। তবে এই উপসর্গগুলো সাধারণত অস্থায়ী। কয়েক দিনের মধ্যেই শরীর ধীরে ধীরে ক্যাফেইন ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করে এবং এসব সমস্যা কমে আসে। এক মাসের মধ্যে শরীর মানিয়ে নি

৯০ দিন চা না পান করলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে

চা ছাড়া বেশির ভাগ বাঙালির চলেই না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা, অফিসের ব্যস্ততার ফাঁকে আরেক কাপ, বিকেলের আড্ডায় কয়েক কাপ চা খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু কখনো ভেবেছেন, টানা ৯০ দিন চা না খেলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি হলেও সময়ের সঙ্গে শরীর নতুন অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেয়। তবে এর প্রভাব ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে যারা প্রতিদিন একাধিক কাপ চা পান করেন, তাদের শরীর প্রথমে ক্যাফেইনের অভাবে কিছু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে ঘুম, শক্তির মাত্রা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

প্রথম ১-২ সপ্তাহে যা হতে পারে

যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের জন্য প্রথম দুই সপ্তাহ কিছুটা কঠিন হতে পারে। ক্যাফিনের অভাবে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বিরক্তিভাব, মনোযোগের ঘাটতি এবং বারবার চা খাওয়ার ইচ্ছা দেখা দিতে পারে। অনেকের সাময়িক ঝিমুনিও অনুভূত হতে পারে।

তবে এই উপসর্গগুলো সাধারণত অস্থায়ী। কয়েক দিনের মধ্যেই শরীর ধীরে ধীরে ক্যাফেইন ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করে এবং এসব সমস্যা কমে আসে।

jago

এক মাসের মধ্যে শরীর মানিয়ে নিতে শুরু করে

তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে অনেকেই ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করেন। সারাদিন শক্তির মাত্রা তুলনামূলক স্থির থাকে। ক্যাফেইনের কারণে শক্তি হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং পরে কমে যাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়। এ সময় চা খাওয়ার তীব্র ইচ্ছাও ধীরে ধীরে কমতে থাকে। ফলে চায়ের ওপর নির্ভরশীলতা আগের তুলনায় অনেকটাই হ্রাস পায়।

ঘুমের মান উন্নত হতে পারে

চায়ে থাকা ক্যাফেইন অনেক সময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষ করে বিকেল বা রাতে চা পান করলে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে বা ঘুম গভীর নাও হতে পারে। 

চা কমিয়ে দিলে বা সম্পূর্ণ বন্ধ করলে অনেকের দ্রুত ঘুম আসে এবং ঘুমের মানও উন্নত হয়। ভালো ঘুমের ফলে দিনের বেলায় মনোযোগ বাড়ে, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক অবস্থাও আরও স্থিতিশীল হতে পারে।

হজমের সমস্যা কমতে পারে

যাদের সকালে খালি পেটে দুধ-চা খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চা ছাড়ার পর অম্বল, গ্যাস, বুকজ্বালা বা পেট ফাঁপার সমস্যা কিছুটা কমতে পারে।

তবে এটি সবার ক্ষেত্রে একই রকম হয় না। ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন এবং শারীরিক অবস্থার ওপরও এর প্রভাব নির্ভর করে।

৯০ দিন পর যেসব পরিবর্তন দেখা যেতে পারে

টানা তিন মাস চা না খেলে শরীর সাধারণত নতুন অভ্যাসের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেয়। অনেকেই জানান, তাদের ঘুম আগের তুলনায় গভীর হয়েছে, সারাদিন শক্তি স্থির থাকে, ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরতা কমে গেছে এবং দৈনন্দিন কাজ আরও স্বাভাবিকভাবে করতে পারছেন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ কমলে হৃদস্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে যারা আগে দিনে অনেকবার চা পান করতেন।

তাহলে কি চা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর হলো-না। পরিমিত পরিমাণে চা পান করলে তা একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হতে পারে। বিশেষ করে চিনি কম দিয়ে বা চিনি ছাড়া চা পান করলে অনেকের জন্য তা উপকারীও হতে পারে।

সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন দিনে অতিরিক্ত চা পান করা হয় বা ক্লান্তি দূর করার একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে চা। তাই চা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেয়ে পরিমিত পরিমাণে পান করা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যদি অনিদ্রা, উদ্বেগ, বুক ধড়ফড় করা বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চা কমানো বা খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা ভালো।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হেলথলাইন ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow