অধিকাংশ মানুষ ডানহাতি কেন? গবেষণায় নতুন তথ্য
বিশ্বজুড়ে ১০ জন মানুষের মধ্যে ৯ জনই সাধারণত তাদের দৈনন্দিন কাজ করার জন্য ডান হাত ব্যবহার করে থাকেন। ক্রিকেট বা অন্য যেকোনো খেলায় আমরা ডানহাতি ও বামহাতি খেলোয়াড়দের পার্থক্য দেখি, তবে কেন অধিকাংশ মানুষই ডানহাতি হয়, তা দীর্ঘকাল ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে এক রহস্য হয়ে ছিল। সম্প্রতি ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় এই রহস্যের কিছু নতুন দিক উন্মোচন হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, মানুষের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশ ডানহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত মানুষের মস্তিষ্কের বাম অংশ শরীরের ডান অংশকে এবং ডান অংশ শরীরের বাম অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে ভাষা এবং অন্যান্য দক্ষতার জন্য মস্তিষ্কের বাম অংশ বেশি ব্যবহৃত হয়, এর ফলে তাদের ডান হাতটি প্রাধান্য পায় বা ‘ডমিন্যান্ট’ হয়ে ওঠে।
গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, কেউ যদি ডান হাতের পরিবর্তে বাম হাত ব্যবহার শুরু করে, তবে তার মস্তিষ্কের কার্যকারিতাতেও পরিবর্তন আসে।
বিবর্তন ও শারীরিক গঠন
গবেষকরা জানিয়েছেন, মানুষের সোজা হয়ে হাঁটার অভ্যাস এবং বড় আকারের মস্তিষ্কের বিবর্তনের সাথে ডান হাতের ব্যবহারের একটি গভীর সম্
বিশ্বজুড়ে ১০ জন মানুষের মধ্যে ৯ জনই সাধারণত তাদের দৈনন্দিন কাজ করার জন্য ডান হাত ব্যবহার করে থাকেন। ক্রিকেট বা অন্য যেকোনো খেলায় আমরা ডানহাতি ও বামহাতি খেলোয়াড়দের পার্থক্য দেখি, তবে কেন অধিকাংশ মানুষই ডানহাতি হয়, তা দীর্ঘকাল ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে এক রহস্য হয়ে ছিল। সম্প্রতি ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় এই রহস্যের কিছু নতুন দিক উন্মোচন হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, মানুষের মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কিছু অংশ ডানহাতি হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত মানুষের মস্তিষ্কের বাম অংশ শরীরের ডান অংশকে এবং ডান অংশ শরীরের বাম অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেহেতু অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে ভাষা এবং অন্যান্য দক্ষতার জন্য মস্তিষ্কের বাম অংশ বেশি ব্যবহৃত হয়, এর ফলে তাদের ডান হাতটি প্রাধান্য পায় বা ‘ডমিন্যান্ট’ হয়ে ওঠে।
গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, কেউ যদি ডান হাতের পরিবর্তে বাম হাত ব্যবহার শুরু করে, তবে তার মস্তিষ্কের কার্যকারিতাতেও পরিবর্তন আসে।
বিবর্তন ও শারীরিক গঠন
গবেষকরা জানিয়েছেন, মানুষের সোজা হয়ে হাঁটার অভ্যাস এবং বড় আকারের মস্তিষ্কের বিবর্তনের সাথে ডান হাতের ব্যবহারের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের মস্তিষ্কের আকার তুলনামূলক ছোট বা যারা কম সোজা হয়ে চলাফেরা করে, তাদের ক্ষেত্রে হাতের ব্যবহারের অগ্রাধিকার অনেক বেশি নমনীয় বা পরিবর্তনশীল হয়। প্রাচীনকালে মানুষ যখন সোজা হয়ে হাঁটতে শুরু করে, তখন থেকেই হাতের এই ব্যবহারের অগ্রাধিকার অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় আলাদা হতে থাকে।
সামাজিক চাপ ও পরিবেশ
হাজার বছর ধরে মানব সমাজে ডানহাতিদের আধিপত্য বজায় রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম ডানহাতিদের ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে, যার ফলে একটি সামাজিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই অভ্যাসটি বংশপরম্পরায় মানুষের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়ে আসছে।
জন্মের পূর্বেই নির্ধারণ?
মজার বিষয় হলো, হাতের ব্যবহারের এই অগ্রাধিকার মায়ের গর্ভ থেকেই শুরু হয় এবং কৈশোর পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতে এটি স্থায়ী রূপ নেয়। এমনকি কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, শিশু বড় হয়ে কোন হাত বেশি ব্যবহার করবে, তার ইঙ্গিত মায়ের গর্ভেই পাওয়া যায়। তবে এই প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র জন্মগত নয়, বরং পরিবেশগত এবং বিকাশজনিত নানা উপাদানের ওপরও নির্ভর করে।
জেনেটিক রহস্য
যদিও ডানহাতি বা বামহাতি হওয়ার পেছনে জিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়, তবুও বিজ্ঞানীদের কাছে এটি এখনো একটি গোলকধাঁধা। ২০১৯ সালে ৪ লাখ মানুষের ডেটার ওপর ভিত্তি করে করা একটি গবেষণায় ৪টি এমন জেনেটিক অঞ্চলের কথা জানা গেছে যা হাত ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত, তবে ধারণা করা হয় এর পেছনে আরও অনেক জিন থাকতে পারে। অদ্ভুত বিষয় হলো, বামহাতি বাবা-মায়ের ঘরেও অনেক সময় ডানহাতি শিশুর জন্ম হয়, যা বিজ্ঞানীদের অবাক করে দেয়।
বিজ্ঞানীরা এখনও এই রহস্যের প্রতিটি পরত পুরোপুরি উন্মোচন করতে না পারলেও, তারা এই গবেষণার মাধ্যমে মানুষের বিবর্তন এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র খুঁজে পেয়েছেন। এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো মানুষের ডান বা বাম হাত ব্যবহারের অগ্রাধিকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। বর্তমানে গবেষকরা এটি জানার চেষ্টা করছেন যে, কেন কিছু মানুষ আবার উভয় হাত সমানভাবে ব্যবহার করার ক্ষমতা রাখেন।
তথ্যসূত্র: জিও নিউজ