অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর প্রাণ কেড়ে নিল ঘাতক ট্রাক, ঈদের আনন্দ পরিণত হলো শোকে

বগুড়ার শাজাহানপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের শাজাহানপুর থানাধীন ফটকি ব্রিজ ও করিম তেলের পাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ সামিয়া তার স্বামী সাগর আলীর সঙ্গে ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাচ্ছিলেন। ভিড় এড়াতে ঈদের দিনগুলোতে ঢাকাতেই থেকে গিয়েছিলেন তারা, কিন্তু ঘাতক মহাসড়ক কেড়ে নিল এক অনাগত প্রাণসহ সামিয়ার জীবন।নিহত সামিয়ার বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার গুচ্ছগ্রাম এলাকায়। ঈদের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও, আজ সেই বাড়িতে ফিরছে সামিয়ার নিথর দেহ। এক অনাগত প্রাণের অকাল প্রয়াণ আর এক পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের গল্প হয়ে রইল এই দুর্ঘটনা।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আসবাবপত্র বোঝাই করে একটি মিনি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ন-২২-৪৯১৩) নিয়ে স্বামী ও স্বজনদের সঙ্গে দিনাজপুর যাচ্ছিলেন সামিয়া। ট্রাকটি ফটকি ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ চাকা পাংচার হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। ট্রাকের ওপরে বসা সামিয়া ও তার স্বামী সাগর আলী ছিটকে ট্রাকের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।দুর্ঘটনার পর

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর প্রাণ কেড়ে নিল ঘাতক ট্রাক, ঈদের আনন্দ পরিণত হলো শোকে

বগুড়ার শাজাহানপুরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বগুড়া-রংপুর মহাসড়কের শাজাহানপুর থানাধীন ফটকি ব্রিজ ও করিম তেলের পাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ সামিয়া তার স্বামী সাগর আলীর সঙ্গে ঢাকা থেকে দিনাজপুর যাচ্ছিলেন। ভিড় এড়াতে ঈদের দিনগুলোতে ঢাকাতেই থেকে গিয়েছিলেন তারা, কিন্তু ঘাতক মহাসড়ক কেড়ে নিল এক অনাগত প্রাণসহ সামিয়ার জীবন।

নিহত সামিয়ার বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার গুচ্ছগ্রাম এলাকায়। ঈদের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও, আজ সেই বাড়িতে ফিরছে সামিয়ার নিথর দেহ। এক অনাগত প্রাণের অকাল প্রয়াণ আর এক পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের গল্প হয়ে রইল এই দুর্ঘটনা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আসবাবপত্র বোঝাই করে একটি মিনি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো ন-২২-৪৯১৩) নিয়ে স্বামী ও স্বজনদের সঙ্গে দিনাজপুর যাচ্ছিলেন সামিয়া। ট্রাকটি ফটকি ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ চাকা পাংচার হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়। ট্রাকের ওপরে বসা সামিয়া ও তার স্বামী সাগর আলী ছিটকে ট্রাকের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার করে তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সামিয়া। গুরুতর আহত হলেও স্বামী সাগর আলী প্রাণে বেঁচে যান, কিন্তু তার চোখের সামনেই শেষ হয়ে যায় তার পৃথিবী। হাসপাতালের করিডোরে ডুকরে কেঁদে উঠছিলেন সাগর আলী। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমার স্ত্রী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। ভিড়ের ভয়ে ঈদে বাড়ি যাইনি। ভেবেছিলাম জ্যাম কমলে ওকে নিয়ে শান্তিতে বাড়ি যাব। আমার অনাগত সন্তানের মুখ দেখার আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিল সামিয়া। এখন আমি কাকে নিয়ে বাড়ি ফিরব?" সাগরের এই আহাজারিতে হাসপাতালের বাতাসও যেন ভারী হয়ে উঠছিল।

এ বিষয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রইচ উদ্দিন জানান, ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। সড়কে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow