অবশেষে যশোরবাসীর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বপ্ন পূরণের পথে

প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় নানা ভোগান্তিতে পড়েছে যশোর মেডিকেল কলেজের (যমেক) শিক্ষার্থীরা। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী ২৭ এপ্রিল ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসে হাসপাতাল না থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপের জন্য প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তেমনি যশোরসহ আশপাশের জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার যশোরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেয় এবং শহরের দক্ষিণে হরিণার বিলে ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করে এবং অস্থায়ীভাবে জেনারেল হাসপাতাল ভবনে কলেজের কার্যক্রম চালু হয়। ২০১৬ সালে নিজস্ব ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও হাসপাতাল নির্মাণ আর এগোয়নি। দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর ২০২৩ সালে

অবশেষে যশোরবাসীর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্বপ্ন পূরণের পথে

প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় নানা ভোগান্তিতে পড়েছে যশোর মেডিকেল কলেজের (যমেক) শিক্ষার্থীরা। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী ২৭ এপ্রিল ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বর্তমানে কলেজ ক্যাম্পাসে হাসপাতাল না থাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপের জন্য প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের যেমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তেমনি যশোরসহ আশপাশের জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার যশোরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেয় এবং শহরের দক্ষিণে হরিণার বিলে ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে হাসপাতাল নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করে এবং অস্থায়ীভাবে জেনারেল হাসপাতাল ভবনে কলেজের কার্যক্রম চালু হয়। ২০১৬ সালে নিজস্ব ক্যাম্পাসে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও হাসপাতাল নির্মাণ আর এগোয়নি।

দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পর ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্প অনুমোদন পায়। ২০২৫ সালের জুনে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পে গতি আসে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্মাণকাজে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, তৃতীয় বর্ষ থেকে ক্লিনিক্যাল ক্লাস শুরু হওয়ায় নিয়মিত হাসপাতালে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে শেষ বর্ষে সন্ধ্যাকালীন ক্লাস থাকায় যাতায়াত আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।

তাদের মতে, কলেজের সঙ্গে হাসপাতাল স্থাপিত হলে শিক্ষার মান বাড়ার পাশাপাশি যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইলসহ প্রায় ৮০ লাখ মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় ১০ তলা বিশিষ্ট ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন, শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য পৃথক হোস্টেল, নার্সিং কলেজ ও হোস্টেল, স্টাফ নার্স ডরমেটরি, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের আবাসন, ৫০০ আসনের মিলনায়তন, মসজিদ এবং বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্ততি নেওয়া হচ্ছে। যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের স্বপ্ন ছিল। সেই অপূর্ণ স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে পূরণ হতে যাচ্ছে। এতে যশোরবাসী উচ্ছ্বসিত।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে যশোরবাসীর পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হবে। আশাকরি পর্যায়ক্রমে সেই দাবি বাস্তবায়ন হবে।

মিলন রহমান/এনএইচআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow