অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে লিবিয়ায় ‘সামুদ্রিক উদ্ধার কেন্দ্র’ করবে ইইউ
ইতালি এবং মাল্টার অর্থায়নে ইউরোপমুখী অভিবাসনের অন্যতম অবৈধ পথে ভীড় কমানোর নীতি নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। লিবিয়ার জেনারেল খলিফা হাফতারের নিয়ন্ত্রিত অংশে উদ্ধার কেন্দ্রটি তৈরি করা হবে যদিও পূর্ব লিবিয়া কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি ইইউ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পূর্ব লিবিয়ার বেনগাজিতে ‘সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র (এমআরসিসি)’ করবে বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন লিবিয়ায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত নিকোলা অরলান্ডো। ইইউর আইআরআইএনআই অপারশেন, মাল্টার প্রতিনিধি এবং লিবিয়ান আরব আর্মড ফোর্সেসের সেক্রেটারি জেনারেল খায়েরি তামিমির সঙ্গে বৈঠক শেষে অরলান্ডো সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘আমরা অপারশেন আইআরআইএনআই এর আওতায় বেনগাজিতে একটি এমআরসিসি স্থাপনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে ফেলেছি।’ আরও পড়ুন কুয়েতে বিশেষ অভিযানে ১২৫৩ বিদেশি আটক নতুন কেন্দ্রটি সম্ভবত লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে ইউরোপমুখী অভিবাসী নৌকা আটকাতে ভূমিকা রাখবে। অভিবাসীদের সাগর থেকে উদ্ধারও করা হবে। এভাবে ইতালি বা গ্রিসমুখী অনিয়মিত অভিবাসনে লাগাম টানা যেতে পারে। সাগর থেকে উদ্ধারকৃতদের আবার লিবিয়াতে ফেরত নেওয়া হবে
ইতালি এবং মাল্টার অর্থায়নে ইউরোপমুখী অভিবাসনের অন্যতম অবৈধ পথে ভীড় কমানোর নীতি নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
লিবিয়ার জেনারেল খলিফা হাফতারের নিয়ন্ত্রিত অংশে উদ্ধার কেন্দ্রটি তৈরি করা হবে যদিও পূর্ব লিবিয়া কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি ইইউ।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন পূর্ব লিবিয়ার বেনগাজিতে ‘সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র (এমআরসিসি)’ করবে বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন লিবিয়ায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত নিকোলা অরলান্ডো।
ইইউর আইআরআইএনআই অপারশেন, মাল্টার প্রতিনিধি এবং লিবিয়ান আরব আর্মড ফোর্সেসের সেক্রেটারি জেনারেল খায়েরি তামিমির সঙ্গে বৈঠক শেষে অরলান্ডো সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘আমরা অপারশেন আইআরআইএনআই এর আওতায় বেনগাজিতে একটি এমআরসিসি স্থাপনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে ফেলেছি।’

কুয়েতে বিশেষ অভিযানে ১২৫৩ বিদেশি আটক
নতুন কেন্দ্রটি সম্ভবত লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে ইউরোপমুখী অভিবাসী নৌকা আটকাতে ভূমিকা রাখবে। অভিবাসীদের সাগর থেকে উদ্ধারও করা হবে। এভাবে ইতালি বা গ্রিসমুখী অনিয়মিত অভিবাসনে লাগাম টানা যেতে পারে। সাগর থেকে উদ্ধারকৃতদের আবার লিবিয়াতে ফেরত নেওয়া হবে। কেন্দ্রটি ২০২৭ সালের মধ্যেই তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অরলান্ডো বলেন, ‘ইইউ বর্ডার এসিসটেন্স মিশন ইন লিবিয়া (ইইউবিএএম) এবং আইআরআইএনআই এর নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কেন্দ্রটি আন্তর্জাতিক মান এবং মানবাধিকার রক্ষা করে সমুদ্রে সন্ধান এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় লিবিয়ার সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে।’
আইআরআইএনআই হচ্ছে, ২০২০ সালে চালু হওয়া ইইউর এক সামরিক কার্যক্রম যার মূল উদ্দেশ্য লিবিয়ার ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ করা। তবে অবৈধ তেল পাচার এবং মানবপাচার রুট ভেঙ্গে দেওয়াও এই মিশনের কাজ।
আইআরআইএনআই মিশনের অংশ হিসেবে ইউরোপীয় সামরিক বাহিনী লিবিয়ার সমুদ্ররক্ষী এবং নৌ-সেনাদেরও প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তবে এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছিল মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
বেনগাজির কেন্দ্রটি নিয়েও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার আপত্তি রয়েছে। তাদের বক্তব্য, লিবিয়ার সমুদ্ররক্ষীদের ক্ষমতা বাড়ালে আরও বেশি অভিবাসীদের বাধা দেওয়া হতে পারে, অবৈধ পুশব্যাক ঘটতে পারে এবং অভিবাসীদের জোর করে লিবিয়ায় ফেরত নেওয়া হতে পারে যেখানে তারা নির্বিচারে আটক, শোষণ, নির্যাতন, ধর্ষণ ও দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউরোপে প্রবেশের আশায় অনিয়মিতভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার এক প্রাথমিক স্পট হচ্ছে লিবিয়া। মানবপাচারকারীরা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির রাজনৈতিক বিভাজনের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অনিয়মিত পথে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছান। এই যাত্রায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।
লিবিয়ার দুই অংশ শাসন করছে মূলত দুটি আলাদা শক্তি। ইউরোপীয় ইউননিয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রিপলীকেন্দ্রিক ন্যাশনাল ইউনিটি সরকারকে সমর্থন দেয়। তবে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করতে এবার পূর্ব লিবিয়া যাদের নিয়ন্ত্রণে সেই গোষ্ঠীর সঙ্গেও সখ্যতা গড়তে চাচ্ছে ইইউ যদিও তাদের স্বীকৃতি দেয়নি ইউরোপের জোটটি।
ইইউ কর্মকর্তারা মনে করেন, সমুদ্রে উদ্ধার অভিযান আরো কার্যকর করতে, মানবপাচার চক্র ভেঙ্গে দিতে এবং সর্বোপরি ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানি রুখতে লিবিয়ার উভয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্ক জরুরি।
সূত্র: ইনফোমাইগ্রেন্টস
এমআরএম
What's Your Reaction?