আইজিপি আসবেন তাই সড়কে শৃঙ্খলা, যেতে না যেতেই আগের মতো বিশৃঙ্খলা
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা। রাজধানীর শ্যামলী মোড়ে চোখে পড়লো অন্যান্য দিনের চেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তৎপর। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা কোনোভাবেই যেন শ্যামলী পার হয়ে কল্যাণপুর-গাবতলীর দিকে যেতে না পারে সেদিকে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। ঈদযাত্রার সময় পুলিশের এমন তৎপরতা যাত্রীসহ সড়কে চলাচলরত সবার কাছেই ইতিবাচক মনে হয়েছিল। তবে এই তৎপরতার কারণ হিসেবে জানা যায়, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন ঘিরে সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যস্ত ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আসাদগেট, শ্যামলী, কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল মোড় ও গাবতলী এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। সরেজমিনে শ্যামলী এলাকার সড়কে দেখা যায়, আদাবর ও রিং রোড থেকে আসা কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা মূল সড়কে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। রিকশায় থাকা যাত্রীরা অনুরোধ করলেও পুলিশ সদস্যরা তাদের মূল সড়কে উঠতে নিরুৎসাহিত করেন। কল্যাণপুরে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশা কোনোভাবে মূল সড়কে উঠে গেলেও তখনই পুলিশ সদস্যরা রিকশাচলককে ধরে গলির সড়কে ঢুক
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা। রাজধানীর শ্যামলী মোড়ে চোখে পড়লো অন্যান্য দিনের চেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তৎপর। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা কোনোভাবেই যেন শ্যামলী পার হয়ে কল্যাণপুর-গাবতলীর দিকে যেতে না পারে সেদিকে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। ঈদযাত্রার সময় পুলিশের এমন তৎপরতা যাত্রীসহ সড়কে চলাচলরত সবার কাছেই ইতিবাচক মনে হয়েছিল।
তবে এই তৎপরতার কারণ হিসেবে জানা যায়, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন ঘিরে সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যস্ত ছিলেন পুলিশ সদস্যরা।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আসাদগেট, শ্যামলী, কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল মোড় ও গাবতলী এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
সরেজমিনে শ্যামলী এলাকার সড়কে দেখা যায়, আদাবর ও রিং রোড থেকে আসা কোনো ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা মূল সড়কে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। রিকশায় থাকা যাত্রীরা অনুরোধ করলেও পুলিশ সদস্যরা তাদের মূল সড়কে উঠতে নিরুৎসাহিত করেন।
কল্যাণপুরে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশা কোনোভাবে মূল সড়কে উঠে গেলেও তখনই পুলিশ সদস্যরা রিকশাচলককে ধরে গলির সড়কে ঢুকিয়ে দিচ্ছিলেন। যাত্রীবাহী বাসগুলোকেও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে বেশি সময় দেওয়া হচ্ছিল না।
গাবতলীতে গিয়ে দেখা যায়, আইজিপির বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আসা ঘিরে গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়। সেখানে এক পাশে ডগ স্কোয়াডসহ র্যাব সদস্যরা, অন্য পাশে ডগ স্কোয়াডসহ ডিএমপির সোয়াত টিমের সদস্যরা। আর মূল সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যস্ত পুলিশ সদস্যরা।
আরও পড়ুন
গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার
সব মিলিয়ে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আইজিপি গাবতলী বাস টার্মিনাল ত্যাগ করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নিরাপত্তা ও সড়কে শৃঙ্খলা ছিল চোখে পড়ার মতো। গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে আইজিপি আলী হোসেন ফকির সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এদিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার গাবতলী বাস টার্মিনাল ত্যাগ করেন। এরপর গাবতলী, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর ও শ্যামলী এলাকায় যথারীতি সড়কে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে যায়।
দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত সেখানকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বিশৃঙ্খলার চিত্র চোখে পড়ে। এসময় অনবরত আসতে দেখা যায় ব্যাটারিচালিত অটোরিশা। যাত্রীবাহী বাসগুলোও যাত্রী ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে আগের বিশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরে যায়। আইজিপি চলে যাওয়ার পর সড়কে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কড়াকড়ি দেখা যায়নি।
আইজিপি আসার আগে থেকে শুরু করে গাবতলী থেকে চলে যাওয়া পর্যন্ত মূল সড়কে অটোরিকশা চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। তাহলে এখন থেকে পুলিশ মূল সড়কে অটোরিকশা চলতে দেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারে সেজন্য রাস্তা ক্লিয়ার রাখা আমাদের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, এ মুহূর্তে দূরপাল্লার বাসগুলোই পুলিশের প্রায়োরিটি। এসব বাস যেন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে সেজন্য অন্য যানবাহনগুলো নরমালি কন্ট্রোল করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এ মুহূর্তে আমরা মূল সড়কে অটোরিকশা খুব বেশি উঠতে দিচ্ছি না। মূল সড়কে ওঠার সংখ্যা খুব কম। ১০০টির মধ্যে হয়তো ১০টি গাড়ি মূল সড়কে উঠে পড়ছে। আমাদের পুলিশ সদস্যরা শৃঙ্খলা ধরে রাখতে কাজ করছে।
এদিন গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকালে আইজিপি সাংবাদিকদের বলেন, প্রতি বছর ঈদযাত্রার সময় ঘরমুখো মানুষকে নানান ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে সড়কে দীর্ঘ যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। তবে এ বছর ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, যাত্রীদের যেন কোনো ধরনের হয়রানি, টিকিট অতিরিক্ত মূল্য আদায় বা সড়কে অযাচিত যানজট ও ব্লকেডের সম্মুখীন হতে না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।
ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার বলেন, টার্মিনাল এলাকায় যানজট নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। চলমান ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
টিটি/এমকেআর
What's Your Reaction?