আন্দোলন প্রত্যাহারের পর ভারতে চলছে ধরপাকড়
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত সপ্তাহে ভারতজুড়ে হওয়া বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি এখনও শান্ত হয়নি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা, আটক ও গ্রেফতারের অভিযোগ উঠছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহারকারীদের চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে ২৬ জুলাইয়ের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এক ২১ বছর বয়সী যুবককে পুলিশ আটক করেছিল। একটি ছবির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয় বলে জানা গেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই যুবক অভিযোগ করেন, পুলিশ হেফাজতে তাকে মারধর করা হয়েছে এবং বিজেপির এক নেতার ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তাকে ভুলভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি বলেন, প্রথমে পুলিশ আমার বাবাকে থানায় ডাকে, পরে আমার মাকে। এরপর আমি নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করি। আমি শুধু প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলাম, কোনো ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। তবুও আমাকে এক দিনের বেশি সময় আটক রাখা হয়। প্রয়াগরাজ পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ২৬ ও ২৭ জ
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত সপ্তাহে ভারতজুড়ে হওয়া বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি এখনও শান্ত হয়নি। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা, আটক ও গ্রেফতারের অভিযোগ উঠছে।
একই সঙ্গে বিক্ষোভ সংক্রান্ত বিভিন্ন পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহারকারীদের চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে ২৬ জুলাইয়ের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এক ২১ বছর বয়সী যুবককে পুলিশ আটক করেছিল। একটি ছবির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয় বলে জানা গেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ওই যুবক অভিযোগ করেন, পুলিশ হেফাজতে তাকে মারধর করা হয়েছে এবং বিজেপির এক নেতার ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তাকে ভুলভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তিনি বলেন, প্রথমে পুলিশ আমার বাবাকে থানায় ডাকে, পরে আমার মাকে। এরপর আমি নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করি। আমি শুধু প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলাম, কোনো ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। তবুও আমাকে এক দিনের বেশি সময় আটক রাখা হয়।
প্রয়াগরাজ পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে ২৬ ও ২৭ জুলাই সিভিল লাইনস থানায় তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলার অভিযোগকারী বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং অপর মামলার অভিযোগকারী একজন সাবেক বিজেপি সংসদ সদস্যের ছেলে।
তবে পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, কাউকে আটক করা হয়নি। প্রয়াগরাজ সিটির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশের কার্যালয় থেকে এক কর্মকর্তা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে কিছু মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল এবং পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় আরও ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিহারে নাবালকসহ ৪০ জন আটক
বিহারের ভাগলপুরে ২৫ জুলাইয়ের বিক্ষোভের ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে পুলিশ তার বাড়ি থেকে আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেসের আইন বিষয়ক শাখা।
কংগ্রেস নেতা ঋষভ রঞ্জনের দাবি, ২৬ জুলাই ভোরে ওই কিশোরকে আটক করা হয়। বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ার পর ভাগলপুর পুলিশ মোট ৪০ জনকে আটক বা গ্রেফতার করেছিল।
তবে ভাগলপুর সিটির পুলিশ সুপার অতুলেশ ঝা বলেন, ওই কিশোরকে নিয়ম অনুযায়ী জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে হাজির করা হয়েছে এবং তার অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিহার সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিক্ষোভের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছে এবং গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়া হবে।
সিসিটিভি ফুটেজে প্রকাশিত ছবি সরানোর উদ্যোগ
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে প্রকাশ করা ১৫৫ জনের ছবি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব ছবিতে নারী ও পুরুষ উভয়েই ছিলেন।
ইনস্টাগ্রাম থেকে ভিডিও সরানোর অভিযোগ
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভ সম্পর্কিত ভিডিও ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী অক্ষয় চন্দ্র মাধব দাবি করেন, বিক্ষোভে পুলিশের আচরণ ও সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে তিনি যেসব ভিডিও পোস্ট করেছিলেন, তার কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলন স্থগিত করেছিল ককক্রোচ জনতা পার্টি
এর আগে ২৫ জুলাই ককক্রোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন স্থগিত করে। কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে তাদের তিনটি প্রধান দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে ছিল—
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ, NEET পরীক্ষা বাতিলের পর আত্মহত্যা করা ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা।
তবে ককক্রোচ জনতা পার্টি সতর্ক করে জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশের হয়রানি অব্যাহত থাকলে তারা আবারও আন্দোলনে ফিরবে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এমএসএম
What's Your Reaction?