আপনার উঠোনে রেলগাড়ি থেমেছিল আবিদ ভাই
‘তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে, রেলগাড়ি থামে’? জানি না আবিদভাই ..আপনি চলে গেছেন আপনার স্টেশনে। আমাদেরটা কবে আসবে কে জানে..শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, স্মরণে চিরদিন ঘাসের ঘটনা নিয়ে স্মিত হাসিমুখে স্থির হয়ে রয়েছেন আবিদ আজাদ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিমান কবি। কবি আবিদ আজাদের সঙ্গে আমার অসংখ্য স্মৃতি। ২০০৫ সালে আবিদ আজাদের মৃত্যু হয়েছে মাত্র ৫২ বছর বয়সে। কিন্তু বাংলাসাহিত্যে তিনি চিরদিন বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। আবিদ আজাদের সঙ্গে আলাপ শিল্পতরুতে। শিল্পতরু আবিদ আজাদের প্রকাশনা সংস্থা। তাঁর প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকার নামও ছিল শিল্পতরু। আমার একটি কবিতা সেখানে প্রকাশিত হয়েছিল। সেইসূত্রেই গিয়েছিলাম অফিসে। সেটি তখন ছিল যতদূর মনে পড়ে পান্থপথে যাবার আগেই মোড়টিতে। কাঁঠাল বাগানের ঢালের কাছাকাছি। ম্যানিন নামের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ছিল। তার কাছে কোথাও। কিন্তু সেটা ক্ষণিকের আলাপ। পরে তাঁর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন কবি শাকিল রিয়াজ। জনকণ্ঠে আমি যোগ দিই ১৯৯৮ সালে। শাকিল তখন ছিলেন জনকণ্ঠে আমার সবচেয়ে কাছের সহকর্মী। তিনিই নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেন কবি আবিদ আজাদের সঙ্গে। খুব দ্রুত তিনি খুব প্রিয় মানুষ হয়ে
‘তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে, রেলগাড়ি থামে’? জানি না আবিদভাই ..আপনি চলে গেছেন আপনার স্টেশনে। আমাদেরটা কবে আসবে কে জানে..শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, স্মরণে চিরদিন ঘাসের ঘটনা নিয়ে স্মিত হাসিমুখে স্থির হয়ে রয়েছেন আবিদ আজাদ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিমান কবি।
কবি আবিদ আজাদের সঙ্গে আমার অসংখ্য স্মৃতি। ২০০৫ সালে আবিদ আজাদের মৃত্যু হয়েছে মাত্র ৫২ বছর বয়সে। কিন্তু বাংলাসাহিত্যে তিনি চিরদিন বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন।
আবিদ আজাদের সঙ্গে আলাপ শিল্পতরুতে। শিল্পতরু আবিদ আজাদের প্রকাশনা সংস্থা। তাঁর প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকার নামও ছিল শিল্পতরু। আমার একটি কবিতা সেখানে প্রকাশিত হয়েছিল। সেইসূত্রেই গিয়েছিলাম অফিসে। সেটি তখন ছিল যতদূর মনে পড়ে পান্থপথে যাবার আগেই মোড়টিতে। কাঁঠাল বাগানের ঢালের কাছাকাছি। ম্যানিন নামের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ছিল। তার কাছে কোথাও।
কিন্তু সেটা ক্ষণিকের আলাপ। পরে তাঁর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন কবি শাকিল রিয়াজ। জনকণ্ঠে আমি যোগ দিই ১৯৯৮ সালে। শাকিল তখন ছিলেন জনকণ্ঠে আমার সবচেয়ে কাছের সহকর্মী। তিনিই নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেন কবি আবিদ আজাদের সঙ্গে। খুব দ্রুত তিনি খুব প্রিয় মানুষ হয়ে ওঠেন।
২০০০ সাল থেকে বইপত্র নামে টিভিতে একটা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন আবিদভাই। আমি সহকারী উপস্থাপক ছিলাম। সিরাজুল ইসলাম মুনীর ভাইও সহকারী উপস্থাপক ছিলেন। সুইডেন যাবার আগ পর্যন্ত শাকিলও তাই ছিলেন। মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রামপুরা টিভি ভবনে আবিদভাইকে নিয়ে যাবার এবং রেকর্ডিং শেষে বাড়ি পৌঁছে দেবার দায়িত্বটা আমাদের মানে আমার ও শাহিন রিজভির ঘাড়ে ছিল।
তখন বিটিভির রেকর্ডিং মানে রাহেলিল্লাহ কারবার। মেকআপ নিয়ে ঘন্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো। আড্ডা দেয়া ছাড়া সময় কাটানোর আর কোনো পথ ছিল না। সেসময় আবিদ আজাদ ভাইয়ের বাড়িতেও আমরা খুব যেতাম। শাহিনের তখন মাছ ধরার নেশা ছিল । মিরপুর চিড়িয়াখানার লেক, সংসদভবনের লেক আরও কোথায় কোথায় চলে যেত মাছ ধরতে। মাছ ধরে ফিরে আসলেই টাটকা মাছ নিয়ে যত রাতই হোক আমরা চলে যেতাম আবিদ ভাইয়ের বাড়িতে। তারপর রাত দুটো অবধি চলতো আড্ডা। আবিদ ভাই ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক। দুর্দান্ত কবি। শিল্পতরু নামে তার প্রকাশনা সংস্থা ছিল। আশি ও নব্বই দশকে অনেক লেখকের লেখাই প্রকাশিত হয়েছে শিল্পতরু থেকে।
এ উক্তিতে অনেকেই নাখোস হতে পারেন কিন্তু আমার কাছে এখনও মনে হয় সত্তর দশকের সেরা কবি আবিদ আজাদ। তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। কি অনায়াসে তিনি বলেন,
‘এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি
সেই কবিতাটি এক্ষুনি বাজেয়াপ্ত করা হবে
এক্ষুনি বেআইনি বলে ঘোষিত হবে সেই কবিতার
প্রতিটি শব্দ
প্রতিটি দাঁড়ি কমা
প্রতিটি সেমিকোলন
এক্ষুনি নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হবে সেই কবিতার প্রতিটি চরণ।
এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি
তার জন্যে মুহূর্তের মধ্যে সারাদেশ জুড়ে নেমে আসবে আরো
একটি উত্থানের প্রাক-মুহূর্তের স্তব্ধতা
নেমে আসবে রাইফেলের নলের মতো
মৃত্যু –
আর সেই মৃত্যুর স্তব্ধতায় বাংলাদেশেরআবহমান সবুজ রং
অন্ধকারের মতো কালো হতে হতে ভয়াল গর্জনে ফেটে পড়বে
সমুদ্রের মতো।’ (এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি)
আবিদ আজাদ তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঘাসের ঘটনা থেকেই আলাদা। একদম আলাদা। কি গভীর আর্তি, কি বিষন্ন উচচ্চারণ ছিল তাঁর কবিতায়।
‘বুক থেকে অবিস্মরণীয় মৌনতার লতাতন্তু
ঝরাতে ঝরাতে চলে গেছো তুমি।
আমি পড়ে আছি অপাঙ্গেবিদীর্ণ হতশ্রী বাড়ির মতো একা
আকণ্ঠবিরহী এই একা আমি
শুভ্র নির্জনতাধৌত পথের রেখার পাশে পড়ে আছি অনুজ্জ্বল
আরেকটি ম্লান রেখা শুধু
(আজো তুমি/ ঘাসের ঘটনা)
আবিদ আজাদের কবিতা আমাকে চিরদিন অপার বিস্ময়ে ভরিয়ে দিতো। অদ্ভুত এক জগৎ সৃষ্টি করতেন তিনি কবিতার মাধ্যমে। সে জগৎ ভীষণ বিমর্ষ, ভীষণ নিভৃত।
‘আমাকে পাবে না। পাবে শুধু অচল দিবাবসান
অনুক্ষণ মরীচিকা পোড়া দিগন্তের ভান
বিসর্পিল শুষ্ক জিহ্বা ঝরে যাবে তোমার পথের
পিপাসার্ত নদী তোমাকে দেখিয়ে দেবে ভুলপথ
হরিণশিঙের মতো মুমূর্ষু আকাশ চিরে চিরে
এঁকে বেঁকে উঠে যাবে তোমার জীবন
তবু তুমি আমাকে পাবে না।
(আর্তি/ ঘাসের ঘটনা)
আবিদ আজাদের ‘তোমাদের উঠোনে কি বৃষ্টি নামে, রেলগাড়ি থামে?’ এমন একটি পংক্তি বাংলা সাহিত্যের কবিতার পাঠককে কি খুব জোরে বুকের ভিতর ধাক্কা দেয় না?
আচ্ছা, এখানে আবার একটু ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করি। শিল্পতরুর অফিস তখন মহম্মদপুরে। আমি শাকিল ও শাহিন এক সন্ধ্যায় হানা দিলাম সেখানে। কেন? কবি আবিদ আজাদের পঞ্চাশতম জন্মতিথি পালন করার ইচ্ছা আমাদের। শাহিনের সঙ্গে সেদিনই আবিদভাইয়ের প্রথম আলাপ। শাহিন তার নিজের কবিতার বই ‘জলমার্বেলে অবগাহন’ আবিদভাইকে উপহার দিল এবং প্রথম পাতায় লিখলো ‘কবি রফিক আজাদকে ভালোবাসা জানিয়ে উপহার দিলাম’। আমি জানি না শাহিন কেন এমন ভুল করেছিল। যাই হোক, পরদিন আবার আবিদ ভাইয়ের অফিসে যেতেই তিনি বললেন, ‘শাহিন, আপনার কবিতাগুলো খুব ভালো লাগলো, যদিও বইটা রফিক আজাদকে দেয়া’।
আমরা কয়েকজন জন্মদিন উদযাপন কমিটির সদস্য হিসেবে কোমর বেঁধে নামলাম। মূল পান্ডা ছিলাম আমি, শাহিন, শাকিল ও ফারহানা মিলি।
জন্মদিন উদযাপনকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন সন্ধ্যায় আমরা আমাদের সদ্য কেনা গাড়ি করে দলবেঁধে বের হতাম। কবি ফজল শাহাবুদ্দীন, কথাশিল্পী আলাউদ্দিন আল আজাদ, কবি মাশুক চৌধুরী, কবি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, ড. মাহবুব হাসান, কবি আবুল হোসেনসহ এমন কোনো জীবিত বিখ্যাত কবি সাহিত্যিক নেই যার বাড়িতে আমরা যাইনি। কবি শামসুর রাহমান ও কবি আল মাহমুদের কাছেও যাওয়া হলো। প্রত্যেকেই শুভেচ্ছাবাণী দিলেন।
আবিদ ভাইয়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠানটি পালিত হলো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে। তখন পুরনো ভবন। মিলনায়তনটির সামনে একটু উঠোন। সেই উঠোনে চললো কবি সাহিত্যিকদের আড্ডা। আর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হয়ে মঞ্চে আলো করে ছিলেন আল মাহমুদ ও ফজল শাহাবুদ্দীন পাশাপাশি। এটিই এই দুই দিকপাল কবির শেষ কোনো অনুষ্ঠানে পাশাপাশি এক মঞ্চে অংশগ্রহণ। একই মঞ্চে ছিলেন কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও আবুল হোসেন।
ভাবুন, এমন একটি অনুষ্ঠান যেখানে দর্শক সারিতে থাকেন মুহম্মদ নুরুল হুদা, কামাল চৌধুরী, নাসির আহমেদ, মাশুক চৌধুরী, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, মাহবুব হাসান, আতাহার খান, রেজোয়ান সিদ্দিকী, হাসান হাফিজ, হেলাল হাফিজ।
মনে পড়ে রোজার মাস ছিল। তাই ইফতার যেন ঠিক সময়ে পৌছায় সেটি নিশ্চিত করতে বাংলা মোটরের ভীষণ জ্যাম ঠেলে নিজে গাড়ি চালিয়ে অসাধ্য সাধন করেছিল শাহিন। কয়েকশ অতিথি এসেছিলেন সেই অনুষ্ঠানে।
জন্মদিনের উৎসবের পর আবিদ ভাইয়ের পরিবারেরই যেন সদস্য হয়ে উঠলাম আমি ও শাহিন। তিনি আমাকে একদম নিজের ছোটবোনের মতো স্নেহ করতেন। কত কিছু নিয়ে যে গল্প হতো। কবিতা, সাহিত্যের খবরাখবর এবং এই জগতের যত ঘটন-অঘটন।
আমরা সবসময় দলবেঁধে বিভিন্ন সাহিত্য অনুষ্ঠানে যেতাম। সোনার গাঁয়ের লোকশিল্প জাদুঘরের প্রধান তখন কবি মাহমুদ শফিক। তাঁর আমন্ত্রণে কবিতা পড়তে যেতাম একসঙ্গে। আমি, শাহিন, আবু জুবায়ের (কবি আবু সালেহর পুত্র), জাহাঙ্গীর ফিরোজভাই, মাহবুব হাসানভাই।
একবার মধুপুরের জলুই অরণ্যে আমরা কবিতা পড়তে যাই। আবেগপ্রবণ জাহাঙ্গীর ফিরোজভাই তো অরণ্যে দারুণভাবে কবিতা পড়ছেন ।বললেন, ‘গাছের ছায়ায় বসে কবিতা পড়তে কি যে ভালো লাগছে। আজ জোছনায় সারারাত কাব্য হবে।’ আবিদভাই আমাকে আস্তে করে বললেন, ‘সন্ধ্যার আগেই আমরা ফিরবো। এত রোমান্টিকতার দরকার নেই। রাতের বেলা ডাকাত আক্রমণ করলে কবিতা দিয়ে ঠেকানো যাবে না।’ আরেকবার এমন একটি বনভোজনে গিয়েছি সবাই। আবিদ ভাই বললেন, ‘এখন কিন্তু গাছে ছেঙ্গা হওয়ার সময়। প্রকৃতি খুবই মনোরম বটে, তবে বেশি কাছে না যাওয়াই উত্তম’। হ্যা, এমন সব মজার কথা বলে তিনি প্রায়ই আমাদের ভাবজগত থেকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনতেন।
আমাদের ছেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও এসেছিলেন আবিদভাই। প্রায় প্রতিদিনই হয় তাঁর বাসায় অথবা অন্য কোথাও আমরা একসঙ্গে আড্ডা দিতাম।
বিটিভির বইপত্র অনুষ্ঠানের রেকর্ডিং করতে আমরা সকলে দলবেঁধে সিলেটেও গিয়েছিলাম। বইপত্রে আবিদ ভাইয়ের বড় ছেলে তাইমুর রশীদ নিয়মিত অংশ নিতো। ও তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। পরে চ্যানেল আইতে যোগ দেয়। এখন সে বাংলা ভিশনের সাংবাদিক। কয়েক বছর আগে ইস্টার্ন প্লাজার সামনে দেখা হয়েছিল। যদিও তাইমুর এখন রীতিমতো সিনিয়র সাংবাদিক। আমার চোখে কিন্তু ওর সেই সদ্য তরুণ সুকুমার চেহারাটিই স্থির হয়ে আছে।
আবিদ আজাদভাই অনেকদিন ধরেই অ্যাজমা, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসুখে ভুগছিলেন। ২০০৪ সালেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে যখন ছিলেন তখন সেই অসুস্থ অবস্থাতেও কবিতা লিখেছেন। অসাধারণ সেইসব কবিতা। ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর অনবদ্য একটি কবিতার বই ‘কে যেন ধানের কথা বলে।’
আবিদ আজাদ ভাইয়ের বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু তিনি লবিং বা ধান্দাবাজি কোনটাই জানতেন না। ফলে বাংলা সাহিত্যের এমন একজন শক্তিমান কবি হয়েও পুরস্কারটি তিনি পাননি। তবে আমার মনে হয়, এতে তার কোনও ক্ষতি হয়নি। আবিদ আজাদের মতো অসামান্য কবির কাছে বাংলা একাডেমি পুরস্কার কোনও বিষয় নয়। বরং তাঁকে পুরস্কার না দিয়ে একাডেমিই সকলের কাছে ছোট হয়েছে।
আবিদ আজাদ চলে গেছেন ২০০৫ সালের ২২ মার্চ। কিন্তু বাংলা সাহিত্য থেকে তাকে মুছে ফেলার ক্ষমতা কারও নেই। তিনি তাঁর অমর উচ্চারণগুলো নিয়ে আজও সগৌরবে অবস্থান করছেন।
ভালো থাকুন আবিদভাই। অনেক ভালো থাকুন। একদিন নিশ্চয়ই আবার দেখা হবে। অনেক গল্প জমে আছে।
What's Your Reaction?