আপনি সঙ্গে থাকলেও শিশুর যখন মনে হয় আপনি ‘উধাও’

আপনি ঘরেই আছেন, সন্তান পাশে বসে আছে, আপনার চোখ মোবাইলের পর্দায় - আমাদের কাছে এটি স্বাভাবিক মনে হলেও, শিশুর মস্তিষ্কের কাছে এই মুহূর্তটি ভিন্নভাবে ধরা পড়ে। নিউরোসায়েন্স বলছে, ছোট শিশুদের কাছে শারীরিক উপস্থিতি আর আবেগী সংযোগ এক নয়। শিশুর মস্তিষ্ক আবেগ নিয়ন্ত্রণ শেখে চোখের দৃষ্টি, মুখের অভিব্যক্তি, কণ্ঠস্বর এবং প্রতিক্রিয়ার সময় দেখে। অভিভাবক যখন ফোনে মনোযোগ দেন, তখন এই সংকেতগুলো হঠাৎ থেমে যায়। শিশুর স্নায়ুতন্ত্র এটিকে বিচ্ছিন্নতা হিসেবে অনুভব করে - যা অনেকটা অভিভাবক সাময়িকভাবে `উধাও’ হয়ে যাওয়ার মতো। গবেষণায় দেখা গেছে, এমন বিচ্ছিন্নতা বারবার ঘটলে শিশুর মস্তিষ্ক সংযোগকে অনিশ্চিত হিসেবে ধরে নেয়। তখন কিছু শিশু বেশি দুষ্টুমি করে, কেউ চুপচাপ গুটিয়ে যায়, আবার কেউ সারাক্ষণ মনোযোগ চাইতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব আচরণ জেদ বা কৌশল নয় - বরং নিরাপত্তা ও সংযোগ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। নিউরোসায়েন্সের ভাষায়, শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ গড়ে ওঠে রেসপনসিভ কেয়ারের মাধ্যমে। অর্থাৎ, তারা বড়দের কাছ থেকে আবেগ সামলানোর ক্ষমতা ধার নেয়। অভিভাবক যখন নিয়মিত সাড়া দেন না, তখন শিশুর মস্তিষ্কে চাপের প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হতে থাকে।

আপনি সঙ্গে থাকলেও শিশুর যখন মনে হয় আপনি ‘উধাও’

আপনি ঘরেই আছেন, সন্তান পাশে বসে আছে, আপনার চোখ মোবাইলের পর্দায় - আমাদের কাছে এটি স্বাভাবিক মনে হলেও, শিশুর মস্তিষ্কের কাছে এই মুহূর্তটি ভিন্নভাবে ধরা পড়ে।

নিউরোসায়েন্স বলছে, ছোট শিশুদের কাছে শারীরিক উপস্থিতি আর আবেগী সংযোগ এক নয়। শিশুর মস্তিষ্ক আবেগ নিয়ন্ত্রণ শেখে চোখের দৃষ্টি, মুখের অভিব্যক্তি, কণ্ঠস্বর এবং প্রতিক্রিয়ার সময় দেখে।

অভিভাবক যখন ফোনে মনোযোগ দেন, তখন এই সংকেতগুলো হঠাৎ থেমে যায়। শিশুর স্নায়ুতন্ত্র এটিকে বিচ্ছিন্নতা হিসেবে অনুভব করে - যা অনেকটা অভিভাবক সাময়িকভাবে `উধাও’ হয়ে যাওয়ার মতো।

আপনি সঙ্গে থাকলেও শিশুর যখন মনে হয় আপনি ‘উধাও’

গবেষণায় দেখা গেছে, এমন বিচ্ছিন্নতা বারবার ঘটলে শিশুর মস্তিষ্ক সংযোগকে অনিশ্চিত হিসেবে ধরে নেয়। তখন কিছু শিশু বেশি দুষ্টুমি করে, কেউ চুপচাপ গুটিয়ে যায়, আবার কেউ সারাক্ষণ মনোযোগ চাইতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব আচরণ জেদ বা কৌশল নয় - বরং নিরাপত্তা ও সংযোগ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।

নিউরোসায়েন্সের ভাষায়, শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ গড়ে ওঠে রেসপনসিভ কেয়ারের মাধ্যমে। অর্থাৎ, তারা বড়দের কাছ থেকে আবেগ সামলানোর ক্ষমতা ধার নেয়। অভিভাবক যখন নিয়মিত সাড়া দেন না, তখন শিশুর মস্তিষ্কে চাপের প্রতিক্রিয়া সক্রিয় হতে থাকে।

আপনি সঙ্গে থাকলেও শিশুর যখন মনে হয় আপনি ‘উধাও’

এখানে বিষয়টি অপরাধবোধের নয়, সচেতনতার। শিশুরা সারাক্ষণ মনোযোগ চায় না - তারা চায় বিশ্বস্ত মানসিক সংযোগ। খাবারের সময়, কথা বলার মুহূর্তে বা খেলাধুলার ফাঁকে ফোন নামিয়ে চোখে চোখ রাখা, মন দিয়ে শোনা - এই ছোট কাজগুলোই শিশুর মস্তিষ্ককে শেখায় যে সম্পর্ক নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত এমন সংযোগ শিশুর আত্মসম্মান, আবেগীয় স্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত করে। শিশুরা জানতে চায় শুধু একটাই কথা - আমি কি এখনো তোমার মনে আছি? ফোন নামিয়ে তাকালেই অনেক সময় সেই উত্তরটা দেওয়া হয়ে যায়।

সূত্র: হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, জার্নাল অব চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট, ন্যাশনাল সায়েন্টিফিক কাউন্সিল অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড

এএমপি/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow