আবিদ আজাদের কবিতা-শরীর

সত্তর দশকের বাংলা কবিতা বিষয় বৈচিত্র্য অনন্য। পশ্চিম বঙ্গের সত্তর দশকের বাংলা কবিতাও বৈচিত্র্যপূর্ণ।  সত্তরের প্রথম পর্ব যদি হয় এক মৃত্যুর চালচিত্র তাহলে তার দ্বিতীয় পর্ব হাজির হল আরেক মেজাজ নিয়ে। জরুরি অবস্থার কালো দিনগুলোর অবসান ঘটল, ইন্দিরা গান্ধীর পতন ঘটল। কেন্দ্রে প্রথম অ-কংগ্রেসি মন্ত্রিসভা গঠিত হল। আর সাধারণ মানুষের অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গী করে রাজ্যে ক্ষমতাসীন হল বামফ্রন্ট।      সত্তর দশকের বাংলা কবিতায় অন্য আন্দোলন না থাকলেও রাজনৈতিক আন্দোলনের ছায়া তীব্র হয়ে রইল। একটা বড়ো অংশের কবিতার মধ্যে সমাজ-জীবনের এই  জমে ওঠা অসন্তোষের সাহসী প্রকাশ ঘটল। অনেকেই কলম ধরলেন সংগ্রামের লক্ষ্যে। সময় চেতনায় উজ্জ্বল নিরাবরণ অথচ তীক্ষ্ণ গদ্যে লেখা সরল খোলা ভাষায় লেখা সেই সব কবিতায় ধরা রইল সেই সময়ের রক্তছবি। আবার সেসবের মধ্যে না গিয়ে অনেকে সুশিল্পিত নাগরিক পরিমার্জিত উজ্জ্বল কাব্যলেখায়  ঝুঁকে পড়লেন। তবে এই সময়ে সাহিত্য-জগতে আরেক একটা নীরব বিপ্লব ঘটে গেল। ‘চিনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান’ ঘোষণাকারী অতি-বামপন্থি বিপ্লবীরা বলেছিলেন সশস্ত্র কৃষিবিপ্লবের কথা। ডাক দিয়ে ছিলেন গ্রাম দিয়ে শহর দখল ক

আবিদ আজাদের কবিতা-শরীর

সত্তর দশকের বাংলা কবিতা বিষয় বৈচিত্র্য অনন্য। পশ্চিম বঙ্গের সত্তর দশকের বাংলা কবিতাও বৈচিত্র্যপূর্ণ। 
সত্তরের প্রথম পর্ব যদি হয় এক মৃত্যুর চালচিত্র তাহলে তার দ্বিতীয় পর্ব হাজির হল আরেক মেজাজ নিয়ে। জরুরি অবস্থার কালো দিনগুলোর অবসান ঘটল, ইন্দিরা গান্ধীর পতন ঘটল। কেন্দ্রে প্রথম অ-কংগ্রেসি মন্ত্রিসভা গঠিত হল। আর সাধারণ মানুষের অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গী করে রাজ্যে ক্ষমতাসীন হল বামফ্রন্ট।   

 


সত্তর দশকের বাংলা কবিতায় অন্য আন্দোলন না থাকলেও রাজনৈতিক আন্দোলনের ছায়া তীব্র হয়ে রইল। একটা বড়ো অংশের কবিতার মধ্যে সমাজ-জীবনের এই  জমে ওঠা অসন্তোষের সাহসী প্রকাশ ঘটল। অনেকেই কলম ধরলেন সংগ্রামের লক্ষ্যে। সময় চেতনায় উজ্জ্বল নিরাবরণ অথচ তীক্ষ্ণ গদ্যে লেখা সরল খোলা ভাষায় লেখা সেই সব কবিতায় ধরা রইল সেই সময়ের রক্তছবি। আবার সেসবের মধ্যে না গিয়ে অনেকে সুশিল্পিত নাগরিক পরিমার্জিত উজ্জ্বল কাব্যলেখায়  ঝুঁকে পড়লেন। তবে এই সময়ে সাহিত্য-জগতে আরেক একটা নীরব বিপ্লব ঘটে গেল। ‘চিনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান’ ঘোষণাকারী অতি-বামপন্থি বিপ্লবীরা বলেছিলেন সশস্ত্র কৃষিবিপ্লবের কথা। ডাক দিয়ে ছিলেন গ্রাম দিয়ে শহর দখল করার কথা। রেডবুক আর রাইফেল হাতে নিয়ে এই স্বপ্নের পিছনে ছুটতে গিয়ে একটা গোটা প্রজন্মের কত যে তরুণ তাজা প্রাণ অকালে ঝড়ে গেল।

পশ্চিমবঙ্গে নকশালবাড়ির কৃষক আন্দোলনের আকর্ষণে ঝাঁপিয়ে পড়লেন হাজার হাজার তরুণ অপরাজেয় রাষ্ট্রশক্তির বন্দুক-বেয়োনেটের সামনে।কাশীপুর, বরানগরের ট্রাকভর্তি লাশ উধাও হয়ে গেল গঙ্গা গর্ভে, বস্তাবন্দিলাশ বারাসাতের রাস্তায়, মৃতদেহ মাড়িয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ,  কয়েদখানায় হত্যা- পশ্চিম বাংলার বাঙালি জীবনে তা আগুনের আলপনা এঁকে দিল। 


আর বাংলাদেশের সত্তর দশকের বাংলা কবিতায় যে উচ্চকণ্ঠী সরবতা দেখা গেছে- বাঙালির সমাজ জীবনের এক উত্তাল ও অস্থিরসময়।


সত্তর দশকের রাজনীতি, দেশপ্রীতির নামে একশ্রেণির মানুষের ভণ্ডামি আর সামগ্রিক অবক্ষয়ের চিত্র উঠে এসেছে সে সময়ের অনেকের লেখায়। কবিতায় তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। এ দশকের কবিতায় ওতপ্রোতরূপে জড়িয়ে রয়েছে রাজনীতি আর দেশপ্রেমের নামে ঘটে যাওয়া যাবতীয় নোংরামির ইতিহাস।


১৯৪৭-পরবর্তী বাংলা কবিতার যে স্বতন্ত্র অবস্থান এর সূচনায় ছিলেন পঞ্চাশের দশকের কবিরা। ষাটের দশকে এসে বাঁক নিয়েছিল স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের এবং সেই সঙ্গে স্বকীয় অবস্থান তৈরির প্রচেষ্টার মাধ্যমে। অপ্রিয় হলেও সত্য, সত্তরের কবিরা সে পথেই হেঁটেছেন তাদের পুরোটা সময়ে। দশকের বলয় ছিঁড়ে ফেলে কয়েকজন প্রতিষ্ঠা করেছেন স্বতন্ত্র স্বর, যার কারণে আজ পর্যন্ত সত্তরের কবিতা নান্দনিকতায় অনন্য। 


সত্তর দশক সম্বন্ধে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বলেছেন- সত্তরের দশ বছর আমাদের জীবন-ইতিহাসে এক ভয়ংকর উত্থান পতনের সময়। এই অল্প সময়ের মধ্যে জীবনের তাবত এলাকায় ঘটে গেছে দারুণ এক ওলট পালট। স্বপ্ন, নৈরাশা, হত্যা, হিংসা, অপরিনিতি রাজনীতিক উত্থান, সামরিক শাসন, বিশ্বাসহীনতা এবং এই সমুদয় ভাঙচুরের পাশাপাশি একটি স্বপ্নবান সংগ্রামী জীবন চেতনা ধীরে ধীরে, তিল তিল করে বেড়ে উঠেছে।বিভিন্ন বয়সের কিছু তরুণ আমরা চাইছি মৌলিক বৃক্ষ জন্মাক। আমরা মাটিতে বীজ বুনেছি। হোক যে ঘাস তবু কিছু মৌলিক বৃক্ষ জন্ম নিক। স্বর্ণলতার চাষ বন্ধ হোক। 
সত্তর দশকের কবিদের ছন্দপ্রীতিও ঈর্ষণীয়; গতানুগতিক ছন্দের ঢোল পিটিয়ে অনেকেই রচনা করেছেন তাদের কবিতা। তাদের কাছে ছন্দ-চেতনা এবং ছন্দ ব্যবহার চির আরাধ্য বিষয় হয়ে উঠেছিল। তাদের সামগ্রিক কবিতাচর্চার ফসল অর্থাৎ কাব্যগ্রন্থ বিশ্লেষণ করলে এই মন্তব্যের সত্যতা মেলে।

আশার বিষয় যে এর পরও সত্তরের অধিকাংশ কবিই নতুন পথ সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছেন, যার ধারাবাহিকতা নতুন শতকের প্রথম দশকেও বিদ্যমান। কবিতার কালপর্ব অর্থাৎ একজন কবির উত্থানকাল বিচারের জন্য কোনোকালেই সুগম আর সুন্দর হয়নি কবিতার পথ। একজন সার্থক কবি সত্যিকার অর্থেই মহাকালের তরীতে আসীনযোগ্য। কবিতাই তার হিরণ্ময় সেতু। এসব দিক বিবেচনায় সত্তরের কালপর্বে যারা একনিষ্ঠভাবে কবিতাচর্চায় নিজেদের পুরোপুরি সমর্পণ করেছেন তাদের মধ্যে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, আবিদ আজাদ, মাহবুব বারী, ত্রিদিবদস্তিদার, দাউদ হায়দার, আশরাফ মীর, মোস্তফা মীর, শিহাব সরকার, হাসান হাফিজ, হেলাল হাফিজ, সোহরাব হাসান, জাহাঙ্গীর ফিরোজ, মতিন বৈরাগী, ময়ুখ চৌধুরী, মাহবুব হাসান, নাসির আহমেদ, ফরিদ আহমদ দুলাল ফারুকমাহমুদ, বিমল গুহ, আবু মাসুম, কামাল চৌধুরী, আলমগীর রেজা চৌধুরী, আসাদমান্নান, সোহরাব পাশা, ইকবাল আজিজ,মোহন রায়হান, শামীম আজাদ, সৈয়দ মাহবুব, হালিম আজাদ, আবিদ আনোয়ার, আবু হাসান শাহরিয়ার, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল প্রমুখ।


সত্তর দশকের কবিতার গতিপ্রকৃতি আর চিন্তাধারা অনেকটাই বেগবান হয়েছিল পরবর্তী আশির দশকে। সত্তরের কবিরা একদিকে যেমন উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন স্বাধীনতার নতুন স্বাদ অন্যদিকে তারা একপ্রকার বাধ্য হয়েই আত্মস্থ করেছেন জীবনের নিবিড় পাঠ। কবিতায় ভাববাদ, অস্তিত্ববাদ আর বাস্তবতার নিরীক্ষণ চালিয়েছিলেন প্রায় সব কবিই। এ কারণে সত্তর দশকের কবিতায় ধরা পড়ে বাস্তববাদী চিন্তা, ভাব-বস্তুবাদী ধারণা আর প্রবল অস্তিত্ববাদিতার স্থিরচিত্র। কবিতা কেবল 'কবিতা' নামেই আবদ্ধ থাকেনি এই দশকে। কবিতা হয়েছে নিবিড় আশ্রয়, প্রেমময় প্রশান্তির দরজা; যার প্রমাণ বহন করে এ দশকের সব কবির কবিতায়। কেবল নান্দনিকতা, কেবল উৎসবমুখরতাকেই পুঁজি করে যারা ব্রতী হয়েছিলেন কবিতাচর্চায় শেষ পর্যন্ত তারাই ঝিমিয়ে পড়েছেন, মাতাল হয়ে পড়েছেন ছন্দের রঙিন পেয়ালায়। ছন্দে আবিষ্ট কবিতার সংখ্যা প্রচুর হলেও কোনো কোনো কবি শেষ পর্যন্ত মুখ ফেরাতে পারেননি বাস্তবতার দিকে, জীবনের চরম সত্যের দিকে।
আবিদ আজাদ বাংলাদেশের বাংলা কবিতায় এক অনিবার্য কবি প্রতিভা। বিংশ শতাব্দির সত্তরের দশকের অন্যতম প্রধান কবি।


নতুন বাক প্রতিমা, চিত্রকল্প নির্মাণে তার জুরি পাওয়া ভার। কবি আবিদ আজাদ ১৯৫২ সালের ১৩ নভেম্বর। প্রায় ১১ বছর আগে ৫২ বছরের তরুণ কবি আবিদ আজাদ ফুসফুসের অসুখে মৃত্যুবরণ করেন।আবিদ আজাদ প্রধানত রোমান্টিক আবার আধুনিকও। মূলত প্রথানুগ এই কবি কখনও কখনও প্রতাগত কাব্যের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা পেরেওছেন। ছন্দ তাঁর কবিতার এক উলেস্নখযোগ্য দিক। তবে বিশুদ্ধ গদ্যকেও তিনি অনেকবার ব্যবহার করেছেন। সেই গদ্য যখন সৃজনী মাত্রা অর্জন করেছে কেবল তখনই তা হয়ে উঠেছে ফলপ্রসূ।


কবিতার স্বপ্ন শিরোনামে আবিদ আজাদ একজন আশতোষ সম্পর্কে লিখেছেন- আর আমি পড়েছিলাম স্বপ্নে, কবিতার লালচুলের কাঁচা স্বপ্নে। লিখতো আশু, পড়তাম আমি। আশু কবি, আমি পাঠক। দুহাতে কবিতা লিখে ক্লাশের খাতা ভরে ফেলতো এক কিশোর আর সেই আবোলতাবোল কবিতার আগ্রহী পাঠক হয়ে আরো বেশি এলেবেলে ঘুরে বেড়াতো সমবয়সী আরেক কিশোর।বলা চলে, প্রচণ্ড রহস্যকাতর অল্পবয়সের এক প্রচণ্ডতর কবিতাপ্রেমে আরেক অল্পবয়স্ক কবিকে আমার প্রতি ভীষণ বন্ধুবৎসল করে তুলেছিলো।


আশুদা কবি। প্রশ্ন হতে পারে কেমন কবি? উত্তরে বলবো জাত কবি। একদিকে কবিতার সহজাতিকতা অপরদিকে কালকে দেখবার প্রকৃতিকে দেখবার শাণিত মেধার কবি, কালোত্তীর্ণ কবি।বাংলা সাহিত্য কেবল নয় বোধ করি সমগ্র বিশ্বসাহিত্য একদিন আশুতোর খোঁজ করবে।


এবার আমার ভাললাগা আবিদ আজাদের কিছু পঙ্ ক্তি উল্লেখ করছি
শব্দের কারিগর কবি আবিদ আজাদ তার বৈশাখের স্মৃতি কবিতায় লিখেছেন-
‘বৈশাখের কথা মনে হলেই আমার মনে পড়ে যায়
সবুজ পাতার চাপা-গুঞ্জন বুকে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো ফেরারি এক যুবকের কথা
মনে পড়ে স্বপ্নের হয়রানি নিয়ে সেই কথন ঘুমিয়ে পড়েছে ছোট্ট ইস্টিশান
মনে পড়ে হলুদ দেয়ালের পাশে ক্লান্ত- হয়ে দাঁড়ায়ে আছে বসন্তের ঠেলাগাড়ি
সামনেই ফুটপাতে উড়ছে ছেঁড়া কাগজ, ছেঁড়া মেঘ, ছেঁড়া তাবু আর
ছেঁড়া ফাড়া অনেক মানুষ...।’ 


এখানে বৈশাখের অনুসঙ্গে জীবন যন্ত্রণা-যুগযন্ত্রণা কবিতায় উদ্ভাসিত হয়েছে ভিন্ন শিল্প মাধুরী নিয়ে।
কবি আবিদ আজাদ ‘মা’ কে নিয়ে লিখেছেন-
‘মা এই একটি শব্দ ছাড়া তোমাকে ধারণ করতে পারে
আর কোনো শব্দ নেই মানুষের ভাষার অভিধানে
এই শব্দের মধ্যেই আমার হাসি ও কান্নার নীলিমায় আশ্রয়
এই শব্দের মধ্যেই বারবার ঘূর্ণি তুলে
দাঁড়ায় আমার মুক্তি ও স্বাধীনতা।’
(মা- আবিদ আজাদ)


এ কবিতায় শব্দের অমিত শক্তিমত্তার কোমল-কঠিন রূপই প্রকাশ করে।
সেই কবিতাটি যখন পড়বেন কোনো এক বজ্জাত অধ্যাপক
আমি জানি তখন তার মনে পড়বে তার হওয়ার কথা ছিল পুলিশ
কিন্তু তিনি হয়ে গেছেন অধ্যাপক ।
- কবি আবিদ আজাদ, এখন যে কবিতাটি লিখবো আমি
‘বোতাম’ 
কবি আবিদ আজাদ


সংলাপ রূপ - চৌধুরী মিনহাজ উজ জামান সজল
নীলা - একটি ছেলে রোজ তার শার্টের বোতাম হারিয়ে ফিরে আসতো বাড়ি ।
আকাশ - আর একটি মেয়ে তার সুঁই-সুতোয় লাগিয়ে দিত আরেকটি নতুন বোতাম ।
নীলা - ছেলেটি ছিল খুব রুগ্ন,ঝাউ গাছের মত একা,আর -
আকাশ - আর মেয়েটি ছিল স্বচ্ছ এবং শান্ত, কিন্তু ভীষন একরোখা ।
নীলা - ছেলেটির ছেঁড়া বুকের বোতাম লাগিয়ে,মেয়েটি তার দাঁতে যখন কাটত
সাদা সুতো-
আকাশ - তখন ছেলেটির ভিতর কাঁপতে থাকত পাগল সব ভালপালা, আর মেয়েটি -
নীলা - মেয়েটি আকাশের মত মুখ তুলে তখন তাকিয়ে থাকতো ছেলেটির দিকে,
ছেলেটি তখন কী বলতো বলোতো -
আকাশ - ছেলেটি বলতো,দে-খো, আমার সব হারানো বোতাম একদিন শিশির হয়ে জমে
থাকবে কোন শীতের মাঠে,ঘাসে,কাঁটাগাছে । আর মেয়েটি বলতো -
নীলা - তুমিও দেখো,মরে গেলে আমিও একদিন ভীষন নীল আকাশ হয়ে যাব কোনো
শীতের বিকেলের দিকে । যানো, সেই থেকে একটি মেয়ের মনে তারা হয়ে
জ্বলছে একটি বোতাম ।
আকাশ - আর সেই থেকে একটি ছেলের মনে নীল আকাশ হয়ে আছে একটি মেয়ের
চোখ ।


কবিতাটির মধ্যে বিরহ কাব্যের রোমান্টিক দ্যোতনা পাঠকের মনে অমিত ভালবাসার আঁকর হিসেবে ফুটে ওঠে।
শাপলা নিয়ে কবিতা। বিলের শাপলা নয়, মতিঝিল শাপলা চত্বরের শাপলা নিয়ে এক দীর্ঘ কবিতা লিখে গেছেন কবি আবিদ আজাদ। সেই কবিতাটির দুটি লাইন তুলে দেওয়ার লোভ সামলাতে পারছি না।লাইন দুটি এই : ‘এই সাদা ফুল ব্রাশফায়ারের শব্দে উড়ে যাওয়া
মধ্যরাত্রির একঝাঁক ধনেশের ছিন্নপালক।’
কবিতাটির মধ্যে আমাদের জাতীয় জীবনের ছন্নছাড়া হওয়ার সত্যকে যথার্থ প্রতীকায়নের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন কবি।
অ থেকে চন্দ্রবিন্দু
খিড়কি ছিলো পাশের বাড়ির
খিড়কি ছলো মনের
খিড়কি ছিলো যখন তখন
খিড়কি কিছুক্ষণের।
খিড়কি ছিলো পথের পাশে
হলুদ গাঁদাফুলের
খিড়কি ছিলো আকাশ ভরা
মেঘের কালোচুলের।
খিড়কি ছিলো তোমার মনে
যখন খুশি খোলার
খিড়কি ছিলো সময়মতো
আমার কথা ভোলার।
খিড়কি আছে বুকের কাছে
খিড়কি আছে মনের
খিড়কি আছে ঘুমিয়ে পড়ার
খিড়কি জাগরণের।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow