আলুর বাম্পার ফলন: দাম না পেয়ে হতাশ জয়পুরহাটের চাষিরা

মাঠে মাঠে আলু তোলার ধুম চলছে । মাটির বুক চিরে বের হচ্ছে সোনালি আলু। কিন্তু জয়পুরহাটের কৃষকদের চোখেমুখে নেই চিরাচরিত হাসির ঝিলিক। ফলন ভালো হলেও দাম কম হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলার আলু চাষিরা। বাজারে দিন দিন আলুর দাম কমেই যাচ্ছে। বর্তমান বাজারে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, বিঘাপ্রতি বড় অঙ্কের টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলন ভালো হলেও দামের এই অস্থিতিশীলতা নিয়ে চিন্তিত কৃষি বিভাগও। জেলার বিভিন্ন আলুর মাঠ ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাষিরা আলু তুলছেন আনন্দে কিন্তু বিক্রির সময় সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে সার, বীজ ও শ্রমিক খরচ বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারদর অনুযায়ী প্রতি বিঘা জমির আলু বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এতে বিঘাপ্রতি লোকসান হচ্ছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। স্থানীয় বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে সাদা আলু এবং স্টিক জাতের আলু প্রতি মণ মাত্র ২২০ থেকে ২৩০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। এছাড়া গ্যানোলা জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা। দেশের সর্ববৃহত আলু উৎপাদনকার

আলুর বাম্পার ফলন: দাম না পেয়ে হতাশ জয়পুরহাটের চাষিরা

মাঠে মাঠে আলু তোলার ধুম চলছে । মাটির বুক চিরে বের হচ্ছে সোনালি আলু। কিন্তু জয়পুরহাটের কৃষকদের চোখেমুখে নেই চিরাচরিত হাসির ঝিলিক। ফলন ভালো হলেও দাম কম হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলার আলু চাষিরা। বাজারে দিন দিন আলুর দাম কমেই যাচ্ছে। বর্তমান বাজারে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, বিঘাপ্রতি বড় অঙ্কের টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলন ভালো হলেও দামের এই অস্থিতিশীলতা নিয়ে চিন্তিত কৃষি বিভাগও।

জেলার বিভিন্ন আলুর মাঠ ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাষিরা আলু তুলছেন আনন্দে কিন্তু বিক্রির সময় সেই আনন্দ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে সার, বীজ ও শ্রমিক খরচ বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারদর অনুযায়ী প্রতি বিঘা জমির আলু বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এতে বিঘাপ্রতি লোকসান হচ্ছে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

স্থানীয় বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে সাদা আলু এবং স্টিক জাতের আলু প্রতি মণ মাত্র ২২০ থেকে ২৩০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। এছাড়া গ্যানোলা জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা। দেশের সর্ববৃহত আলু উৎপাদনকারী জেলা জয়পুরহাটে ঠিক কী কারণে আলু তোলার মৌসুমে এই আকস্মিক দরপতন, তা নিয়ে কৃষকদের মনে জন্ম নিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। কারণ বিগত সময়ে এত দর পতন ঘটেনি। চাষিরা বলছেন, সরকারিভাবে আলু রপ্তানি করা গেলে এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতো না।

মাঠেই আলু বিক্রি করতে আসা কৃষক জয়নাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‌‘কয়েকদিন আগেও এক মণ আলু ৫৫০ টাকায় বিক্রি করেছি । এখন সেই আলু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় দিতে হচ্ছে । বাজারে প্রতিদিন একমণ আলুতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে দাম কমছে। আমরা এখন যাবো কোথায়?’

কৃষক সহিদুল ইসলাম, গোলাম মস্তোফা, মিঠু হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে প্রান্তিক কৃষকদের কথা চিন্তা করে আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’ জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আনোয়ারুল হক আনু বলেন, ‘সরকার যদি ব্যবসায়ীদের সহজ শর্তে ও কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দেয়, তবে এখানে অনেক উদ্যোক্তা গড়ে উঠবে। এতে আলু বিদেশে রপ্তানি করা সহজ হবে এবং কৃষকরাও লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবে ।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবার জেলায় ৩৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। জেলায় আলুভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা যায়। তাহলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি চাষিরাও আলুর ন্যায্যমূল্য পাবেন। এতে সরকারও বড় অঙ্কের রাজস্ব পাবে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow