আল্লাহর গুণাবলির ওপর ইমান

সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির অধিকারী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের সরদার, আমাদের নবী, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, যাকে তিনি বিশেষ অনুগ্রহ ও পূর্ণতা দান করেছেন। হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদের ওপর, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবিদের ওপর অবিরত ও চিরস্থায়ী দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। আম্মা বা’দ লোকসকল! আমাদের ওপর আবশ্যক হলো আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলির প্রতি ইমান আনা। তাঁর গুণাবলি অনেক যা তাঁর সুন্দর নামসমূহে প্রকাশ পেয়েছে। হাদিসে এসেছে, আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম আছে, যে সেগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেই গুণাবলিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তিনি \'আর-রাহমান\' (পরম করুণাময়) এবং \'আর-রাহিম\' (অসীম দয়ালু)। তাঁর রহমতের কারণেই এই পৃথিবী, আকাশ, নক্ষত্র, গ্রহ, পর্বত, সমুদ্র, গাছপালা ও নদ-নদী সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর রহমতের অংশ হিসেবেই তিনি সমস্ত সৃষ্টির রিজিকের দায়িত্ব নিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর

আল্লাহর গুণাবলির ওপর ইমান

সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির অধিকারী। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের সরদার, আমাদের নবী, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, যাকে তিনি বিশেষ অনুগ্রহ ও পূর্ণতা দান করেছেন। হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদের ওপর, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবিদের ওপর অবিরত ও চিরস্থায়ী দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

আম্মা বা’দ

লোকসকল! আমাদের ওপর আবশ্যক হলো আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলির প্রতি ইমান আনা। তাঁর গুণাবলি অনেক যা তাঁর সুন্দর নামসমূহে প্রকাশ পেয়েছে। হাদিসে এসেছে, আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম আছে, যে সেগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সেই গুণাবলিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তিনি 'আর-রাহমান' (পরম করুণাময়) এবং 'আর-রাহিম' (অসীম দয়ালু)। তাঁর রহমতের কারণেই এই পৃথিবী, আকাশ, নক্ষত্র, গ্রহ, পর্বত, সমুদ্র, গাছপালা ও নদ-নদী সৃষ্টি হয়েছে।

তাঁর রহমতের অংশ হিসেবেই তিনি সমস্ত সৃষ্টির রিজিকের দায়িত্ব নিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।’ আল্লাহ তাআলা রিজিক কাউকে বাড়িয়ে দেন, আবার কাউকে কমিয়ে দেন—এটি তাঁরই হেকমত বা প্রজ্ঞার অংশ। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, ‘আমিই তাদের মধ্যে জীবিকা বণ্টন করি এই পার্থিব জীবনে এবং একে অপরের ওপর মর্যাদায় তাদের কাউকে কাউকে উন্নীত করি, যাতে তারা একে অপরকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে পারে। আর তারা যা কিছু জমা করে, তার চেয়ে তোমার রবের রহমতই উত্তম।’

তিনি 'আল-কাবিয' (সংকীর্ণকারী) ও 'আল-বাসিত' (সম্প্রসারণকারী) তিনি তাঁর রহমতে যার জন্য চান রিজিক প্রশস্ত করে দেন এবং তাঁর হেকমতে যার জন্য চান রিজিক সীমিত করে দেন। প্রতিটি বস্তুরই তাঁর কাছে একটি পরিমাপ আছে। তিনি আল্লাহ তাআলা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞানের অধিকারী, সুউচ্চ ও মহান। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার কাছে প্রতিটি জিনিসের ভাণ্ডার রয়েছে, কিন্তু আমি তা একটি নির্দিষ্ট পরিমাপেই অবতীর্ণ করি।’

নবী করিম (সা.) আমাদের উন্নত চরিত্রের অধিকারী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আল্লাহর গুণাবলিতে গুণান্বিত হও।’ তাই আমাদের সৃষ্টিজগত ও মানুষের প্রতি দয়ালু হতে হবে, তবেই তিনি আমাদের ওপর দয়া করবেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জমিনবাসীদের ওপর দয়া করো, তাহলে আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের ওপর দয়া করবেন।’ অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘যে দয়া করে না, তার ওপর দয়া করা হয় না।’

যেমন আল্লাহ তাআলা পরম করুণাময় ও দয়ালু এবং তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর দয়া করেন, তেমনি তিনি কঠোর শাস্তিদাতা তাদের জন্য, যারা তাঁর অবাধ্য হয়। তাই ইমান হলো আশা ও ভয়ের মাঝামাঝি। তবে তাঁর রহমত তাঁর ক্রোধকে অতিক্রম করেছে। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, ‘আমার রহমত আমার ক্রোধের ওপর জয়ী হয়েছে।’

বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাআলা বলেন, তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছুর জ্ঞানের অধিকারী, তিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।

আমি আমার নিজের জন্য, আপনাদের জন্য ও সকল মুসলমানের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা তাঁর কাছে ক্ষমা চান, নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow