আসমান: যে গল্প জীবনের চেয়েও বড়
খন্দকার বদিউজ্জামান বুলবুল সেদিন রোববার। কলেজের হলে নতুন এসেছি। একটা নতুন শহর, নতুন পরিবেশ। বাড়ির কথা স্মরণ হলে মন বিষণ্ন হয়ে যেতো। মন ভালো রাখার অভিপ্রায়ে হলের বড় ভাই একটি বই আমাকে পড়তে দিলেন। যদিও বইপড়ার অভ্যাস আমার খুব একটা নেই। তবুও সসম্মানে বইখানা গ্রহণ করে রুমে এলাম। আর বইয়ের পাতা উল্টেপাল্টে দেখতে লাগলাম। প্রায় চারদিনে বইটি পড়ে শেষ করলাম। লতিফুল ইসলাম শিবলীর ‘আসমান’ উপন্যাসটি একটি যুবকের হতাশাগ্রস্ত জীবনের গল্প নিয়ে লেখা। সে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রচণ্ড ড্রাগ আসক্ত হয়ে পড়ে। এরপর ধর্মের টানে জীবনের আসল অর্থ খুঁজে পায়। উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ওমার রিজওয়ান। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। কিন্তু মেয়েটি অপ্রত্যাশিতভাবে বিচ্ছেদের করুণ সুরে ওমারের মন ভেঙে দেয়। ওমার মেয়েটিকে অনেক ভালোবেসেছিলো। প্রেমিকা ছেড়ে যাওয়ায় সে প্রবলভাবে ভেঙে পড়ে। ভগ্ন হৃদয় নিয়ে ওমার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলো কিন্তু তা সফল হয়নি। মেয়েটিকে ভুলতে সে নেশার জগতে পা বাড়ায়। ওমারের বন্ধু রুশো। সে নিজেকে রকস্টার হিসেবে দেখতে চায়। সারাক্ষণ মিউজিক আর ড্রাগ আসক্তি যেন জীবনজুড়ে।
খন্দকার বদিউজ্জামান বুলবুল
সেদিন রোববার। কলেজের হলে নতুন এসেছি। একটা নতুন শহর, নতুন পরিবেশ। বাড়ির কথা স্মরণ হলে মন বিষণ্ন হয়ে যেতো। মন ভালো রাখার অভিপ্রায়ে হলের বড় ভাই একটি বই আমাকে পড়তে দিলেন। যদিও বইপড়ার অভ্যাস আমার খুব একটা নেই। তবুও সসম্মানে বইখানা গ্রহণ করে রুমে এলাম। আর বইয়ের পাতা উল্টেপাল্টে দেখতে লাগলাম। প্রায় চারদিনে বইটি পড়ে শেষ করলাম।
লতিফুল ইসলাম শিবলীর ‘আসমান’ উপন্যাসটি একটি যুবকের হতাশাগ্রস্ত জীবনের গল্প নিয়ে লেখা। সে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রচণ্ড ড্রাগ আসক্ত হয়ে পড়ে। এরপর ধর্মের টানে জীবনের আসল অর্থ খুঁজে পায়। উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ওমার রিজওয়ান। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী। এক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। কিন্তু মেয়েটি অপ্রত্যাশিতভাবে বিচ্ছেদের করুণ সুরে ওমারের মন ভেঙে দেয়।
ওমার মেয়েটিকে অনেক ভালোবেসেছিলো। প্রেমিকা ছেড়ে যাওয়ায় সে প্রবলভাবে ভেঙে পড়ে। ভগ্ন হৃদয় নিয়ে ওমার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলো কিন্তু তা সফল হয়নি। মেয়েটিকে ভুলতে সে নেশার জগতে পা বাড়ায়। ওমারের বন্ধু রুশো। সে নিজেকে রকস্টার হিসেবে দেখতে চায়। সারাক্ষণ মিউজিক আর ড্রাগ আসক্তি যেন জীবনজুড়ে। ওমার আর রুশো উদ্দেশ্যহীনভাবে দিগ্বিদিক ঘুরে বেড়ায় আর নেশায় মগ্ন থাকে।
ওমারের জীবনে আকস্মিক পরিবর্তন আসে। তার মায়ের আদেশে মসজিদের ইমামের সাথে বন্ধুত্ব করে। ইমাম সাহেব দক্ষ চিকিৎসকের মতো ওমারের মনের অসুখ সারিয়ে তুলতে সহায়তা করে। ওমার তার নেশার রাজ্য থেকে বেরিয়ে আসে। ইসলাম ধর্মের অপার সৌন্দর্যের প্রেমে পড়ে। ওমার নিয়মিত মসজিদে আসে এবং ইমামের সঙ্গে সময় অতিবাহিত করে। ইমামের কাছ থেকে পাওয়া বুদ্ধিদীপ্ত পরামর্শ ওমারের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
একদিন ওমার তাবলীগ গ্রুপের সুনজরে পড়ে। তারা ওমারকে পাকিস্তানের বড় তাবলীগ জামায়াতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। ওমার সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। সেই বড় তাবলীগ জামায়াতে অংশগ্রহণ করে। সেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে তাবলীগ গ্রুপগুলো এসে জড়ো হয়। তাবলীগ জামায়াতের সম্মেলন থেকে ওমার জিহাদ সম্পর্কে জানতে পারে। জিহাদের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আফগানিস্তান থেকে আসা দলের সাথে সেখানে যায়।
আফগানিস্তানে পৌঁছে জিহাদের জন্য তার ট্রেনিং শুরু হয়। ট্রেনিং শেষে ফ্রন্ট লাইনে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। সাহসীকতার পরিচয় দেয়। যুদ্ধ চলাকালীন একপর্যায়ে সে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। স্প্লিন্টারে তার শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ওমার খালিদের মেহমান হয়ে তাদের বাড়িতে আসে। সেখানে তার সেবা চলতে থাকে। খালিদের বোন আসমা একজন নার্স। সে যত্নের সাথে ওমারের সেবায় পাশে ছিল। আসমা নিয়মিতভাবে ওমারের সেবা করতে থাকে। সংকোচ কাটিয়ে আসমা ও ওমার একে অপরের পরিচিত হয়ে ওঠে।
এক-এগারোর হামলার জের ধরে আমেরিকা আফগানিস্তান আক্রমণ করে। জনপদের পর জনপদ ধুলোয় মিশিয়ে দিতে থাকে। এমন দুর্যোগপূর্ণ সময়ে ওমার ও আসমার বিয়ে সম্পন্ন হয়। এদিকে ওমার পুরোপুরি সুস্থ না হলেও শত্রুর সাথে মোকাবিলার জন্য মানসিকভাবে তৈরি হয়। ওমার আসমাকে হাসপাতালে রেখে ময়দানের দিকে এগিয়ে যায়। পথিমধ্যে ওমার আহত হয়ে গ্রেপ্তার হয়। গ্রেপ্তার করে ওমারকে প্রথমে আফগানিস্তানের কারাগারে তারপর পৃথিবীর ভয়ংকর কারাগার গুয়ানতানামো বে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। বিনা বিচারে দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর মুক্ত হয় ওমার।
মুক্ত হওয়ার পরেও যেন তার মুখে হাসি নেই, নেই আনন্দের ছাপ। কারণ সে জানে না, সে কোথায় যাবে? কোথায় তার প্রিয়তমা স্ত্রী আসমা। এভাবে জীবনের উত্থান-পতন ও আনন্দ-বিষাদের কাব্য উপস্থাপন করা হয়েছে উপন্যাস ‘আসমানে’। উপন্যাসটিতে মধ্য এশিয়ার ঘটনা চিত্রিত হয়েছে। সেই সাথে জিহাদ ও আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে।
উপন্যাসটি পড়তে আরম্ভ করলে পাঠক মুহূর্তেই ভাবনার অতল সাগরে হারিয়ে যাবেন। সেই সাথে উপন্যাসটি পড়া শেষ হলেও এর রেস যেন ফুরাবে না। মনে হবে এখনি শেষ হয়ে গেল! পরবর্তী ঘটনা পড়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে যাবে পাঠক। এমনই পরতে পরতে ঘটনার বাঁক আসমানকে দিয়েছে অনন্য উচ্চতা। যা খুলে দেবে পাঠকের ভাবনার বিস্তৃত জগত।
বইয়ের নাম: আসমান
লেখক: লতিফুল ইসলাম শিবলী
ধরন: উপন্যাস
প্রকাশক: কেন্দ্রবিন্দু
মূল্য: ১০০ টাকা।
এসইউ
What's Your Reaction?