ইউরোপে বাড়ছে যৌনবাহিত রোগ

ইউরোপে যৌনবাহিত সংক্রমণ বা এসটিআইয়ের (STI) হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এসব সংক্রমণের অনেক বাহকই কোনো উপসর্গ অনুভব করেন না। আবার সব দেশে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পরীক্ষা হয় না। যৌনসম্পর্ক সাধারণত ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ আচরণও সহজে নজরে আসে না। ফলে ইউরোপে যৌনবাহিত রোগের প্রকৃত বিস্তার শনাক্ত করা সহজ নয়। তারপরও জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সংগৃহীত তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে কয়েক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত এক দশকে এসব সংক্রমণের হার দ্রুত বেড়েছে। তবে করোনা মহামারির সময় সংক্রমণের হার কিছুটা কমে যায়। এর কারণ ছিল পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা কমে যাওয়া, নাকি মানুষের অনিয়মিত যৌনসম্পর্ক কমে যাওয়া- তা নিশ্চিত নয়। ২০২১ সালের পর সংক্রমণ আবার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) গত মে মাসে জানায়, ২০২৪ সালে ইউরোপে প্রায় ১ লাখ গনোরিয়ার ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এটিই সর্বশেষ বছর, যার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংস্থাটি সংকলন করেছে। ২০১৫ সালের তুলনায় এই সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি। একই সময়ে সিফিলিসের ঘটনাও দ্বিগুণের বেশি বেড়ে প্রায় ৪৬

ইউরোপে বাড়ছে যৌনবাহিত রোগ

ইউরোপে যৌনবাহিত সংক্রমণ বা এসটিআইয়ের (STI) হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এসব সংক্রমণের অনেক বাহকই কোনো উপসর্গ অনুভব করেন না। আবার সব দেশে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পরীক্ষা হয় না। যৌনসম্পর্ক সাধারণত ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ আচরণও সহজে নজরে আসে না। ফলে ইউরোপে যৌনবাহিত রোগের প্রকৃত বিস্তার শনাক্ত করা সহজ নয়। তারপরও জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সংগৃহীত তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপে কয়েক ধরনের যৌনবাহিত সংক্রমণের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গত এক দশকে এসব সংক্রমণের হার দ্রুত বেড়েছে। তবে করোনা মহামারির সময় সংক্রমণের হার কিছুটা কমে যায়। এর কারণ ছিল পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা কমে যাওয়া, নাকি মানুষের অনিয়মিত যৌনসম্পর্ক কমে যাওয়া- তা নিশ্চিত নয়। ২০২১ সালের পর সংক্রমণ আবার দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) গত মে মাসে জানায়, ২০২৪ সালে ইউরোপে প্রায় ১ লাখ গনোরিয়ার ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এটিই সর্বশেষ বছর, যার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংস্থাটি সংকলন করেছে।
২০১৫ সালের তুলনায় এই সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি। একই সময়ে সিফিলিসের ঘটনাও দ্বিগুণের বেশি বেড়ে প্রায় ৪৬ হাজারে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় যে যৌনবাহিত সংক্রমণ, সেই ক্ল্যামিডিয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য ভিন্ন চিত্র। ২০২২ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এর হার আবার ২০১৫ সালের কাছাকাছি পর্যায়ে নেমে এসেছে।

শুধু বেশি পরীক্ষা হচ্ছে বলেই কি সংক্রমণ বাড়ছে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউিএইচও) ইউরোপীয় অঞ্চলের এসটিআইবিষয়ক কার্যালয়ের প্রধান ডা. স্টেলা বিভোল বলেন, ইউরোপে সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে সত্যিকারের বৃদ্ধি ঘটছে।

স্কটল্যান্ডের বৃহত্তম শহর গ্লাসগোর এসটিআই বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্ড্রু উইন্টার অবশ্য মনে করেন, করোনা মহামারির পরপরই সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার একটি কারণ হতে পারে পরীক্ষা কেন্দ্র ও পরীক্ষার সুবিধাগুলো আবার চালু হওয়া। তবে এরপরও যে সংক্রমণের হার ক্রমাগত বেড়েছে, তা শুধু পরীক্ষার সুবিধা স্বাভাবিক হওয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায় না।

তাহলে ইউরোপে যৌনবাহিত সংক্রমণের এই নতুন ঢেউয়ের কারণ কী?

কেউ কেউ মনে করেন, ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে একাধিক যৌনসঙ্গী বেছে নেওয়া সহজ হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ বেড়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ খুব বেশি নেই। বেশির ভাগ গবেষণায় দেখা গেছে, টিন্ডারসহ বিভিন্ন ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের একাধিক যৌনসঙ্গী থাকার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে অ্যাপ ব্যবহারের কারণেই তাদের একাধিক সঙ্গী হচ্ছে। বরং যারা একাধিক যৌনসঙ্গী খুঁজছেন, তারাই এ ধরনের অ্যাপ বেশি ব্যবহার করতে পারেন।

নেদারল্যান্ডসের এসটিআই বিশেষজ্ঞ ডা. হেনরি দে ভ্রিসও এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তার যুক্তি, ইউরোপে যৌনবাহিত সংক্রমণের বড় ধরনের বৃদ্ধি শুরু হওয়ার অনেক আগেই ডেটিং অ্যাপ চালু হয়েছিল। তাই সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য শুধু এসব অ্যাপকে দায়ী করা ঠিক হবে না।

কনডম ব্যবহারে অনীহা-ই কি দায়ী?

ডা. স্টেলা বিভোলের দেওয়া আরেকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, মানুষ আগের তুলনায় কম কনডম ব্যবহার করছে। তবে এ ক্ষেত্রেও তথ্য পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি গবেষণায় ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইউরোপের প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, তাদের মধ্যে কনডম ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট বয়সী গোষ্ঠীর তথ্য। ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে পুরো জনসংখ্যার কনডম ব্যবহারের হার কীভাবে বদলেছে, সে বিষয়ে খুব কম তথ্য রয়েছে। অথচ এসটিআইয়ের বিপুলসংখ্যক ঘটনা এই বয়সী মানুষের মধ্যেই ঘটে।

আরেকটি নির্দিষ্ট ধারণা হলো, এইচআইভি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ব্যবহৃত প্রি-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস গ্রহণের কারণে কিছু মানুষ কনডম ব্যবহার কমিয়ে দিচ্ছেন। বিশেষ করে, সমকামী পুরুষদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলোচিত, কারণ তাদের মধ্যে এইচআইভির ঝুঁকি বেশি।

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের লুইস ম্যাকগ্রেগর ও তার সহকর্মীদের একটি গবেষণায় ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের একটি যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকের রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ধারণার পক্ষে কিছু প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে গবেষকরা একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, প্রি-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস গ্রহণকারীরা গবেষণায় তুলনামূলক বেশি ছিল। কারণ গ্রহণকারীদের নিয়মিতভাবে এসটিআই পরীক্ষা করাতে হয়।

সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি কতটা?

যৌনবাহিত সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার বিপদ নিয়ে অবশ্য তেমন কোনো বিতর্ক নেই। এসব রোগের অধিকাংশই চিকিৎসাযোগ্য। কিন্তু সময়মতো শনাক্ত না হলে এগুলো গুরুতর ক্ষতি করতে পারে।

দীর্ঘদিন চিকিৎসা না হলে ক্ল্যামিডিয়া ও গনোরিয়া পুরুষদের অণ্ডকোষে সংক্রমণ ও নারীদের বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে। অনদিকে, সিফিলিস মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

ইসিডিসি-এর পর্যবেক্ষণে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়গুলোর একটি হলো জন্মগত সিফিলিসের ঘটনা বৃদ্ধি। আক্রান্ত মা থেকে শিশুর শরীরে এই সংক্রমণ ছড়ায়। এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলক বিরল হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতী হতে পারে।

২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জন্মগত সিফিলিসের ঘটনা দ্বিগুণ হয়ে ১৪০টিতে পৌঁছেছে। বুলগেরিয়া, পর্তুগাল ও হাঙ্গেরিতে এ সংক্রমণের কয়েকটি গুচ্ছ বা ক্লাস্টার শনাক্ত হয়েছে।

কাদের মধ্যে বেশি বাড়ছে সংক্রমণ?

এসটিআইয়ের এই ঢেউ মোকাবিলার প্রথম ধাপ হলো কোথায় ও কোন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি বাড়ছে, তা নির্ধারণ করা।

সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, তরুণ পুরুষদের মধ্যে সংক্রমণ তুলনামূলক কম। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে গনোরিয়ার হার কমেছে। বিপরীতে, বেশি বয়সী পুরুষদের মধ্যে তা বেড়েছে। সব বয়স মিলিয়ে পুরুষদের মধ্যে গনোরিয়ার হার ৮ শতাংশ বেড়েছে।

নারীদের মধ্যে গনোরিয়ার হার কমেছে, যদিও তা করোনার আগের সময়ের তুলনায় এখনো বেশি। অন্যদিকে, নারীদের মধ্যে সিফিলিসের হার ১৫ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে ২০ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে।

সংক্রমণের এই বৃদ্ধি কেবল সমকামী মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মহামারির পর সমকামীদের পাশাপাশি স্ট্রেইট অর্থাৎ বিপরীতকামী নারী-পুরুষের মধ্যেও সিফিলিস ও গনোরিয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পুরো ইউরোপেই বাড়ছে

ভৌগোলিকভাবেও সংক্রমণ বৃদ্ধি কোনো নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে আটকে নেই। পুরো ইউরোপজুড়েই এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গনোরিয়ার সবচেয়ে বড় বৃদ্ধিগুলোর কয়েকটি দেখা গেছে বুলগেরিয়া, ফ্রান্স ও ইতালিতে। বেলজিয়াম ও হাঙ্গেরিতে সিফিলিসের হারও দ্রুত বেড়েছে। লিথুয়ানিয়া ও মাল্টায় দুটি রোগেরই সংক্রমণ বেড়েছে।

তবে কিছু দরিদ্র দেশে সরকারি নজরদারি দুর্বল হওয়ায় সংক্রমণের হার বাস্তবের তুলনায় অনেক কম বলে মনে হতে পারে। এর একটি উদাহরণ রোমানিয়া। প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের দেশটিতে ২০২৪ সালে মাত্র ২৪টি ক্ল্যামিডিয়ার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। অবিশ্বাস্যভাবে, এটি একই বছরে নথিভুক্ত সিফিলিসের সংখ্যার চেয়েও কম।

দুর্বল নজরদারি এখানে একটি দুষ্টচক্র তৈরি করছে। পর্যাপ্ত তথ্য না থাকলে পরীক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের যৌক্তিকতা তুলে ধরা কঠিন হয়। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যেও সংক্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা কম থাকে।

ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) বলছে, ইউরোপে আরও ভালো নজরদারি ব্যবস্থা দরকার। কোন দেশে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কত শতাংশ এসটিআই পরীক্ষা করাচ্ছে, সেই তথ্যও প্রয়োজন। তাহলে নথিভুক্ত সংক্রমণের হারকে সঠিক পরিসংখ্যানগত প্রেক্ষাপটে বিচার করা সম্ভব হবে। বর্তমানে ইউরোপের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দেশ এই তথ্য সরবরাহ করে।

ইসিডিসি-এর মহামারিবিদ ডা. ওটিলিয়া মার্ধের মতে, সংক্রমণ সমকামী নাকি বিপরীতকামী যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে ছড়িয়েছে, সে তথ্য জানা গেলে জনস্বাস্থ্য নীতি আরও কার্যকরভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের নতুন শঙ্কা

যেসব দেশে ব্যাপকভাবে এসটিআই পরীক্ষা করা হয়, সেসব দেশকে আবার অন্য ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এসব সংক্রমণের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে জীবাণুগুলো ধীরে ধীরে ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে।

এরই মধ্যে গনোরিয়ার ক্ষেত্রে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। রোগটির এমন কিছু ধরন তৈরি হয়েছে, যেগুলো অনেক অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে অত্যন্ত প্রতিরোধী।

ক্ল্যামিডিয়া ও সিফিলিস এখনো একই মাত্রায় ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে ওঠেনি। তবে এসব রোগের চিকিৎসা শুরু করার সময় চিকিৎসকদের সংক্রমণ চিকিৎসার সুবিধার পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঝুঁকিও বিবেচনা করতে হচ্ছে।

নেদারল্যান্ডস সম্প্রতি প্রচলিত নীতির বাইরে গিয়ে উপসর্গহীন মানুষের ক্ল্যামিডিয়া স্ক্রিনিং বন্ধ করেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, উপসর্গ না থাকা অবস্থায় ক্ল্যামাইডিয়া সংক্রমণ নারীদের প্রজননক্ষমতার ক্ষতি করার আশঙ্কা আগের ধারণার তুলনায় কম।

সিফিলিসের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। তবে এখানেও স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সম্পদ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।

জন্মগত সিফিলিস সহজেই চিকিৎসা করা যায়। তাই গর্ভাবস্থায় লক্ষ্যভিত্তিক পরীক্ষা বাড়িয়ে এ রোগ মোকাবিলা করা সম্ভব। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশির ভাগ দেশেই গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে নারীদের সিফিলিস পরীক্ষা করা হয়। তবে অর্ধেকেরও কম দেশ তৃতীয় তিন মাসে বা প্রসবের সময় সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা নারীদের আবার পরীক্ষা করার সুপারিশ অনুসরণ করে।

ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী নিয়ে বৈষম্যও বাধা

এসটিআই কমানোর কার্যকর নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধাগুলোর একটি হলো, অনেক সমাজে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীগুলোকে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্কে থাকা পুরুষ, অভিবাসী এবং যৌনকর্মীরা।

মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের কিছু অংশে নতুন এইচআইভি সংক্রমণের সংখ্যা এখনো বাড়ছে। বিশ্বের অন্য অনেক অঞ্চলে যেখানে এই সংক্রমণ কমেছে, সেখানে এই অঞ্চলে উল্টো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

মানুষের মধ্যে থাকা সামাজিক কলঙ্ক ও বৈষম্যও এর জন্য আংশিকভাবে দায়ী। এসব কারণে অনেকে পরীক্ষা বা চিকিৎসা নিতে চান না। ডা. বিভোল আশঙ্কা করছেন, অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তবে সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়াই কখনো কখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

হাঙ্গেরিতে জন্মগত সিফিলিসের ঘটনা দ্রুত বেড়েছে। ২০২০ সালে যেখানে মাত্র তিনটি ঘটনা ছিল, ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৯১টিতে পৌঁছায়। এর একটি কারণ ছিল বেশি পরীক্ষা করা। সংক্রমণ বৃদ্ধির পর দেশটিতে আরও কঠোরভাবে স্ক্রিনিং শুরু করা হয়।

ডা. ওটিলিয়া মার্ধ জানান, সম্প্রতি তার অংশগ্রহণে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সাতটি দেশে নথিভুক্ত ক্ল্যামিডিয়া সংক্রমণের সংখ্যা কমেছে।

গবেষণায় দেখা যায়, এর আগে কয়েক বছর গনোরিয়ার হার বাড়ার পর জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিরাপদ যৌন আচরণে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচার চালায়। অর্থাৎ কখনো কখনো সংক্রমণের ভয় ও তার মাত্রা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা তৈরি করাই প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow