ইবি ছাত্রদল কমিটি ঘিরে বিতর্ক: পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীরাও

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিয়েছেন। তবে কমিটি গঠনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন কর্মীও বিভিন্ন পদে আবেদন করে সিভি জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতার মাধ্যমে তারা পদ পাওয়ার জন্য লবিংও চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন সংগঠনটির ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীরা। তবে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কাউকে নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন, আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এনামুল হক ইমন ও ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ফজলে রাব্বী আহমেদ ইসমাইল, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মুফতাইন আহমেদ সাবিক, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ফারুক আহমেদ ফারহান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ওয়াশিকুর রহমান, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইফতেহার উদ্দীন ও শাকির আহমেদ রা

ইবি ছাত্রদল কমিটি ঘিরে বিতর্ক: পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীরাও

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দিয়েছেন। তবে কমিটি গঠনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কেরও সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন কর্মীও বিভিন্ন পদে আবেদন করে সিভি জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতার মাধ্যমে তারা পদ পাওয়ার জন্য লবিংও চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন সংগঠনটির ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীরা। তবে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কাউকে নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন, আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এনামুল হক ইমন ও ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ফজলে রাব্বী আহমেদ ইসমাইল, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মুফতাইন আহমেদ সাবিক, দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ফারুক আহমেদ ফারহান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ওয়াশিকুর রহমান, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ইফতেহার উদ্দীন ও শাকির আহমেদ রাজ, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সাদ উসমান, ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের হুজ্জাতুল্লাহ। ৫ই আগস্টের আগে তাদেরকে শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা যেতো। অনেকেই নতুন কমিটিতে পদ পেতে সিভি জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে অভিযুক্তদের ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। তবে ৫ আগস্টের পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করলে ধীরে ধীরে কর্মী সংকটে পড়ে সংগঠনটি। এ পরিস্থিতির সুযোগে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক কর্মীরা ছাত্রদলের কার্যক্রমে যুক্ত হতে শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্লিখিত ব্যক্তিদের ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতা নিয়ে এর আগেও একাধিকবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও তাদের ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, সদস্যসচিব মাসুদ রুমী মিথুন এবং সদস্য নূর উদ্দিন ও রাফিজ আহমেদের প্রশ্রয়ে এসব ব্যক্তি সংগঠনে আসার সুযোগ পাচ্ছেন।

এছাড়া সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শাখা ছাত্রদলের সদস্য নুর উদ্দিনের একটি ছবি ভাইরাল হয়। ছবিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মেসবাহ উদ্দিন ও ইবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রেজওয়ান ও রাকিবুল ইসলামসহ অন্য নেতাকর্মীদের সঙ্গে একটি দলীয় প্রোগ্রামে নুর উদ্দিনকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাখা ছাত্রদলের এক কর্মী বলেন, "আগে যারা ছাত্রলীগ করতো, বর্তমানে তারাই ছাত্রদলের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিট ও কর্মসূচিতে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, অথচ আমাদের নাম দেওয়া হয় না। এমনকি তাদের ছাত্রদলের সামনের সারিতে থেকে মিছিল-স্লোগান দিতেও দেখা যায়।"

এ বিষয়ে ছাত্রদলের সদস্য নূর উদ্দিন বলেন, “অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছাত্রলীগের যেসব সদস্য জুলাই আন্দোলনে অবদান রেখেছেন, তাদের আমরা স্বাগত জানাই। তবে যারা সরাসরি ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের ছাত্রদলে সুযোগ নেই। আমি দলের একজন সদস্য মাত্র। শুধু আমাকে জানিয়ে কেউ ছাত্রদলে যোগ দেয় না। আমার যে ছবিটি প্রচার করা হচ্ছে, সেটি আমার নয়; এটি এআই দিয়ে বানানো হয়েছে।”

আরেক সদস্য রাফিজ আহমেদ বলেন, “অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমার মাধ্যমে ছাত্রলীগের কোনো কর্মী ছাত্রদলে প্রবেশ করেনি। যারা জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ছিল, তারা ছাত্রদলে থাকতে পারবে।”

ছাত্রদলের সদস্য-সচিব মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, “ছাত্রদলে ছাত্রলীগের কারও জায়গা নেই। তবে যারা জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের বিরোধিতা করেছেন এবং আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন, তাদের তো বাদ দেওয়া যাবে না। আমার প্রশ্রয়ে ছাত্রলীগের কেউ ছাত্রদলে আসেনি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জহির রায়হান বলেন, সত্যিকারে কেউ যদি ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট থাকে তারা কেউ ছাত্রদলের কমিটিতে আসতে পারবে না। তবে অনেকেই প্রথম বর্ষে থাকতে বাধ্য হয়ে মিছিল-মিটিংয়ে গিয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow